Coachbihar

কোচবিহারের রাজবংশী, সংখ্যালঘু মানুষদের দেওয়া হচ্ছে শুনানির নোটিশ

রাজ্য জেলা

‘এসআইআরের নাম করে প্রান্তিক অংশের মানুষদের বিপদে ফেলা হচ্ছে। মানুষের এই হয়রানি বন্ধ করতে হবে।’ এসআইআর নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বললেন কোচবিহারের সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়। ছিলেন এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি, সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য প্রনয় কার্য্যী। গতকাল কমিশনের পক্ষ থেকে প্রনয়কে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি শুনানির নোটিশ দেওয়া হয় এসএফআইয়ের প্রাক্তন সর্বভারতীয় নেত্রী দ্বীপ্সিতা ধরকেও। আগামীকাল কোচবিহারের ডিএম অফিস অভিযানে এসআইআরের নাম করে সাধারন মানুষের হয়রানি বন্ধ করার দাবি থাকবে বলে জানিয়েছে সিপিআই(এম) জেলা নেতৃত্ব। 
এদিন অনন্ত রায় বলেন, ‘কোচবিহারের ৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৩৭৫ জনের নামে নোটিশ এসেছে। সংখ্যালঘু, রাজবংশী এলাকা গুলোয় বেশি নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এনআরসির ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মানুষের মধ্যে। ২০০২ সালেও ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ হয়েছে তখন এই আতঙ্ক দেখা যায়নি। কোচবিহারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে বিজেপি এবং তৃণমূল। যেমন রায় পদবি যাদের তাদের ইংরেজি বানান নিয়ে ডাকা হচ্ছে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম আছে এমন মানুষকেও ডাকা হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। মানুষ উদ্বেগে ভুগছে।’ 
প্রনয় কার্য্যী বলেন, ‘এসআইআরের নাম করে উদ্বাস্তু, রাজবংশী, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিপদে ফেলা হচ্ছে। কেন কমিশন আমাকে নোটিশ দিল তার কোন উত্তর নেই। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার বাবা মায়ের নাম ছিল। গোটা পরিবারের নাম আছে তালিকায়। ২০২৫ এর তালিকাতেও নাম আছে। কমিশন যেই সময়ের কথা বলছে কমিশন ২০০২-০৩ সেই সময় আমার মা জনপ্রতিনিধি ছিলেন।’
নথি দেখিয়ে এসএফআই নেতা বলেন, ‘আমাদের জমির ১৯৩৩ সালের কোচবিহারের রাজার দেওয়া কাগজ রয়েছে, ১৯৫০ সালের জমির কাগজ রয়েছে। এই সব তথ্য থাকার পরেও যদি প্রমান করতে হয় যে আমি ভারতীয় কিনা তাহলে প্রান্তিক অংশের মানুষরা আজ সব থেকে বেশি সঙ্কটের মুখে। যারা জমিদার,বর্গাদারদের অধীনে ছিলেন তাদের আজ সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এসআইআর করে কতজন অনুপ্রবেশকারিকে ধরতে পারবে তা জানা নেই, কিন্তু এই রাজ্যের প্রান্তিক অংশের মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এসআইআরের এই কাজে বিজেপিকে সাহায্য করছে তৃণমূল। আই-প্যাকের লোকদের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই হয়রানি বন্ধ না হলে আমরা রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা হবে।’

Comments :0

Login to leave a comment