NEET Parliament

সংসদে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিতর্কে রাজি কেন্দ্র, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় বিরোধীরা

জাতীয়

নিট প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি কড়াকড়ি ঘিরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র হওয়ার মধ্যেই বুধবার সংসদে এই ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনায় সম্মতি জানাল কেন্দ্র সরকার। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত লোকসভার কার্যক্রম মুলতবি হয়ে যায়।
লোকসভায় তুমুল হট্টগোলের মধ্যে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, সরকার নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীরাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হোক, সেটা আমরা চাই।’
কিন্তু বিরোধীরা শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরকারের জবাব দাবি করে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে সংসদে সরাসরি বিবৃতি চাওয়া হয়।
বিরোধী শিবিরের হয়ে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদের বাইরে যুবসমাজের বিষয় নিয়ে কথা বললেও সংসদের ভিতরে কেন বক্তব্য রাখছেন না, তাকে জবাব দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের নির্দেশেই রাজধানীর রাস্তায় আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশ বর্বরোচিত আচরণ করেছে।
অন্যদিকে সরকার আলোচনায় রাজি হলেও কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া কোনও আলোচনা হবে না। 
লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই আলোচনায় আগ্রহী বলে জানিয়ে বিতর্ক শুরু করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীরা অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করে দিতে হয়।
সংসদের বাইরে কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, আলোচনা বিলম্বিত করার জন্য বিরোধীরাই দায়ী। তার দাবি, সরকার অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু বিরোধীরাই তা হতে দেয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার নিট পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এটি কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। তাই কেন্দ্র ও সব রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সূত্রের খবর, এনডিএ সাংসদদের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে কোনও ছাত্রছাত্রীর প্রতি অন্যায় হওয়া চলবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, যুবসমাজের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
এদিকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের শোষণের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করে। রাহুল সংসদে আলোচনা, ছাত্রদের উপর পুলিশি হামলার তদন্ত এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার দাবিও জানান।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, সরকার সংসদে বিস্তৃত আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস ছাত্রদের সমস্যার সমাধান নয়, রাজনৈতিক প্রচারের স্বার্থেই বিষয়টিকে ব্যবহার করছে। তার দাবি, বিরোধীদের লক্ষ্য ছিল সমাধান খোঁজা নয়, রাজনৈতিক শিরোনাম তৈরি করা।

Comments :0

Login to leave a comment