কৃষক আন্দোলনে উত্তাল মধ্যপ্রদেশের ভোপাল। মধ্যপ্রদেশে হাজার হাজার কৃষকের এই বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ফসল মুগ ডাল। রেকর্ড উৎপাদন হলেও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP)-এ সম্পূর্ণ ফসল কেনার নিশ্চয়তা না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা।
চলতি মরশুমে মধ্যপ্রদেশে প্রায় ১৪.৩০ লক্ষ হেক্টর জমিতে মুগ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন প্রায় ১,৪১০ কেজি, ফলে মোট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে প্রায় ২০.১৬ লক্ষ মেট্রিক টন। স্বাভাবিকভাবে এটি কৃষকদের জন্য সুখবর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই রেকর্ড উৎপাদনই এখন তাদের উদ্বেগের কারণ।
কেন্দ্র সরকার প্রাইস সাপোর্ট স্কিম (PSS)-এর আওতায় মাত্র ৪.৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন মুগ কেনার অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের বড় অংশই সরকারি ক্রয়ের বাইরে থেকে যাবে। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে, যা এমএসপির তুলনায় অনেক কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই কারণেই আন্দোলনরত কৃষকদের প্রধান দাবি, উৎপাদিত সমস্ত মুগ এমএসপি-তে সরকারকে কিনতে হবে, নির্দিষ্ট কোটা বেঁধে নয়।
এর পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষোভের আরেকটি কারণ ই-টোকেন ব্যবস্থা। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ফসল বিক্রির জন্য অনলাইনে টোকেন বুকিং বাধ্যতামূলক হলেও কৃষকদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং বহু ক্ষেত্রেই নিবন্ধন করার পরও ফসল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ৩.৪৭ লক্ষ কৃষক মুগ বিক্রির জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৮২ হাজার কৃষক সরকারি কেন্দ্রে ফসল বিক্রি করতে পেরেছেন। অর্থাৎ নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৮০ শতাংশই এখনও এমএসপির সুবিধা পাননি।
আন্দোলনকারীদের তৃতীয় দাবি, আগামী চাষের মরশুমের আগে ন্যায্য মূল্যে এবং সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের অভিযোগ, সার পেতে দেরি এবং অতিরিক্ত দামের সমস্যা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃত্বে সোমবার নর্মদাপুরমের সেঠানিঘাটে ধর্নার মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়। ভোপালের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরুর আগে কৃষকরা হনুমান চালিসা পাঠ করেন। মঙ্গলবার মিছিল জাতীয় সড়ক-৬৯ ধরে ভোপালের কাছে পৌঁছলে পুলিশ একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করে।
নর্মদাপুরমের জেলা শাসক সোমেশ মিশ্র এবং পুলিশ সুপার সাইকৃষ্ণ এস. থোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ শেষ পর্যন্ত ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। এরপর জাতীয় পতাকা সামনে রেখে কৃষকদের মিছিল ভোপালে প্রবেশ করে।
এদিকে মধ্যপ্রদেশের কৃষিমন্ত্রী আইদাল সিং কাঁসানা কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-কে চিঠি লিখে মুগ ক্রয়ের সীমা ৪.৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৮.০৬ লক্ষ মেট্রিক টন, অর্থাৎ সম্ভাব্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি গত বছরের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তখন প্রাথমিকভাবে ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪.১৯ লক্ষ মেট্রিক টন, কিন্তু পরে বাস্তবে ৭.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন মুগ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার যুক্তি, গত বছর যদি এত বেশি পরিমাণ সংগ্রহ সম্ভব হয়ে থাকে, তবে চলতি বছরও সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো উচিত।
পাশাপাশি যেসব রাজ্যে নির্ধারিত ক্রয় কোটা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না, সেই অব্যবহৃত কোটা মধ্যপ্রদেশে স্থানান্তরেরও আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
বর্তমানে আন্দোলনরত কৃষকরা ভোপাল-হোশঙ্গাবাদ সড়কের ধারে, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। কেন্দ্র সরকার ক্রয়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ।
Madhya Pradesh
মুগের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে উত্তাল মধ্যপ্রদেশ, ৮০ শতাংশ কৃষক পাননি এমএসপি’র সুবিধা
×
Comments :0