অনিন্দিতা দত্ত: শিলিগুড়ি
কর্মসংস্থান নয়। ধর্মস্থানের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার শিলিগুড়ি মাটিগাড়া এলাকায়া মহকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চলছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি। ‘মন্দির গড়েই বিশ্বের দরবারে বাংলাকে এক নম্বর জায়গায় নিয়ে যাব যাবোই’। কার্শিয়াঙের পশুপতির মহাকাল মন্দিরের ন্যায় ‘‘হর হর মহাদেব, রক্ষা করো মহাদেব...’’ স্লোগান তুলে এদিন শিলিগুড়ি মাটিগাড়া এলাকায় মহকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস করে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে রাজ্যসহ সমগ্র ও দার্জিলিং জেলায় কর্মসংস্থান নেই, বেকার শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ সেখানে মন্দির গড়ে রাজ্যকে এক নম্বর জায়গায় নিয়ে যাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকে ঘিরে হাজারো প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজ্যসহ দার্জিলিং জেলা তথা শিলিগুড়ির মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান না করে শিলিগুড়ির অদূরে মাটিগাড়ায় মন্দির শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাস শুধুমাত্র মানুষকে বোকা বানানোর কৌশল মাত্র।
প্রসঙ্গত মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করা হলো যে জমিতে, সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র করে তোলার কথা ছিল। ওই জমিতে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র হলে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়েরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতো। কিন্তু অত্যাধুনিক মানের তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেই জমিতে মন্দিরের শিলান্যাস করলেন। স্বাভাবিকভাবেই এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একাংশ শিলিগুড়ি শহরবাসী তথা যুব সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাটিগাড়ায় প্রস্তাবিত ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ মন্দিরের শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম বড় শিবের মন্দির হবে এখানে। এই মন্দিরটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিব মন্দির হতে চলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মন্দিরের জন্য প্রয়োজনীয় জমি একটি ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের নাম দেওয়া হয়েছে মহাকাল মহাতীর্থ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এই মন্দির বাংলার পালকে নতুন করে সংযোজিত হলো। উত্তরবঙ্গের পর্যটন যুয়ার আসবে। দেশ-বিদেশে পর্যটকরা এখানে আসবেন মন্দির দেখতে। এই মন্দিরের জন্য জায়গা দিয়ে দেওয়া হয়েছে টেন্ডার হয়ে গেছে। শিলিগুড়ি শহরকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার না করে ধর্ম তীর্থ পর্যটন ব্যবসা সবকিছুতেই ব্যবহার করা হবে। মহাকাল মহা তীর্থ হলে অনেক দোকান তৈরি হবে। কর্মসংস্থান হবে। লোকালয়ে দোকানপাট ব্যবসা বাড়বে। হোটেলে সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। এই মন্দির ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম স্পট অফ ডেস্টিনেশন হবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিব মন্দির হবে। যেমন জগন্নাথ ধাম হয়েছে। আমরা সবাইকে নিয়ে চলি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলার বাইরে পড়ে যায় শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চলছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছে। আসাম দিল্লি বিহার সর্বত্রই বাংলা ভাষীদের উপর অত্যাচার নামে আনা হয়েছে।
উত্তরকন্যায় বসে একটি ট্রাস্ট গঠন করে চিফ সেক্রেটারিকে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করে সরকারী উদ্যোগে প্রায় ১৭একর জমিতে শিলিগুড়ি মাটিগাড়াতে মহাকাল মন্দির তৈরীর ঘোষণার প্রথম থেকেই সিপিআই(এম) বিরোধিতা করেছে। ওই জমিতে তথ্য প্রযুক্তি কেন্দ্রের বদলে সরকারি উদ্যোগে মন্দির বানানোর প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক জানান, মন্দিরের বিরুদ্ধে আমরা নই। কিন্তু আমাদের সংবিধানে আছে রাষ্ট্রের কোন ধর্ম নেই। আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। সামাজিক ধার্মিক যেকোন প্রতিষ্ঠান মন্দির গড়ার কাজ করতেই পারে। কোন সরকার বা রাষ্ট্রশক্তির কখনই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মান করতে পারে না। বিজেপি ও তৃণমূল একই পথে হাঁটছে। যেখানে রাজ্যে এই সময়ে আট হাজার স্কুল বন্ধ রয়েছে। শুধুই কোটি কোটি টাকার বড় পানীয় জল প্রকল্পের মিথ্যে গল্প বলে সময় পার করে চলেছে। সবটাই করছেন ২০২৬’র নির্বাচন সামনে রেখে। ধর্মের রাজনীতি করে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদী বলেছিলেন রামমন্দির করে দিয়েছি। কিন্তু রামমন্দির করেও বিজেপি পার পায়নি, অযোধ্যায় লোকসভা ভোটে হেরেছে। মুখ্যমন্ত্রীও পার পাবে না’’।
Comments :0