Narendra Modi

শিক্ষাক্ষেত্রে বড় সংস্কারের পথে কেন্দ্র, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয়

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরবর্তী সংস্কার আনতে উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি জানান, ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে এই টাস্ক ফোর্স গঠিত হবে। এর লক্ষ্য হবে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে একাধিক পদক্ষেপ করছে। যারা প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তারা ইতিমধ্যেই জেলে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হবে। এমন একটি শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা হবে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভর।’
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র। প্রস্তাবিত বিলে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি ও বেশি অঙ্কের জরিমানার কথা বলা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদী জানান, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স পরীক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার নিয়ে সুপারিশ করবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক করে তোলার কাজ দ্রুত শুরু হবে।
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের ইস্যুতে ছাত্র আন্দোলন জোরদার হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয়বার সরাসরি দেশবাসী, বিশেষ করে ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-র কাঠামোগত পরিবর্তনসহ একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখেন, ২০২৪ সালে নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের পর গঠিত কে. রাধাকৃষ্ণন কমিটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে দেশকে জানানো হোক। তার প্রশ্ন, সেই কমিটির জমা দেওয়া ১৮৪ পাতার রিপোর্টের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

Comments :0

Login to leave a comment