নিট বিতর্কের মাঝে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সাথে আলোচনায় বসার বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। পুরাদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে আরএসএস প্রধানের কথায়, নতুন প্রজন্মকে বোঝার জন্য প্রয়োজন “আলোচনা”, “নির্দেশ” নয়।
‘বিশ্ব মঙ্গল্য সভা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, একসময় বড়দের কথা নিঃশর্তভাবে মেনে চলার সংস্কৃতি ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম প্রশ্ন করতে শিখেছে এবং সেই প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়াই বড়দের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, যুক্তি বুঝিয়ে বলতে হবে। তাদের ভালোবাসা দিতে হবে, সময় দিতে হবে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।”
পরিবারের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ ক্রমশ কমে যাচ্ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, তরুণদের মধ্যে আপনত্বের অনুভূতি তৈরি করতে হলে আদেশ নয়, পারস্পরিক মতবিনিময় এবং ঐকমত্যের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
ভাগবত বলেন, “নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এমন হতে হবে, যেখানে নির্দেশ নয়, আলোচনা হব। আদেশ নয়, ঐকমত্য গড়ে উঠবে।”
যদিও তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন রাজধানী-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
আরএসএস প্রধান যখন যুব সমাজের প্রতি নমনীয় হওয়ার কথা বলছেন তখন আরএসএস পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের পুলিশ। পড়ুয়াদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে। পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের নামে দায়ের হয়েছে এফআইআর। দিল্লিতে সোমবার বর্বরোচিত আক্রমণ করা হয়েছে পড়ুয়াদের ওপর। তাদের রাষ্ট্রবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন আনার ঘোষণা করেছেন।
প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সিজেপি (CJP) সরকারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করলেও নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরকারের জবাবের জন্য শনিবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার দাবি করেন, দেশের ভিতরে এবং বিদেশে এমন কিছু শক্তি রয়েছে যারা ভারতকে শক্তিশালী, উন্নত ও শিক্ষিত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না এবং তারাই এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে।
এখন নজর তৃতীয় দফার সরকার-সিজেপি বৈঠকের দিকে। সেই বৈঠকে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
Comments :0