রবিবার এক যোগে ভাতার ও খণ্ডঘোষে সিপিআই(এম)’র অফিসে হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আক্রান্ত হয়েছেন পার্টিকর্মীরা। ২টি ঘটনাই পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটেছে। একজন হামলাকারীও গ্রেপ্তার হয়নি। গেরুয়াবাহিনীর এই গুন্ডাবাজির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গত বুধবার ভাতারে সিপিআই(এম)’র জেল ভরো কর্মসূচিকে সফল করতে যে সভা হয়। সেই কর্মসূচিতে বিজেপি’র দুষ্কৃতীরা হামলার পর বিজেপি’র মিথ্যা মামলায় শনিবার পার্টিনেতা নজরুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার বিজেপি’র মিছিল থেকে দুষ্কৃতীরা ভাতার সিপিআই(এম)’র এরিয়া কমিটির অফিসে হামলা চালায়। পুলিশের উপস্থিতিতে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা লোহার শাবল, ধারালো অস্ত্র নিয়ে পার্টি অফিস আক্রমণ করে তছনছ করে। অফিসের আসবাবপত্র, দরজা, চেয়ার, টেবিল, ইলেকট্রিক মিটার ভেঙে দেয়। লুট করে অফিস। এরপর কেরোসিন তেল দিয়ে অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তা সফল হয়নি এলাকার মানুষের প্রতিরোধে। এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে পার্টির নেতা অশেষ কোঙার। তিনি অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি করেছেন।
এদিন ভাতার পার্টি অফিসে কৃষকসভার এক সভা ছিল। সেই সভা শেষ হওয়ার পর কৃষক কর্মীরা যখন বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় বিজেপি’র মিছিল থেকে মাইকে ঘোষণা করা হয় ‘সিপিএম’র পার্টি অফিস ভেঙে জ্বালিয়ে দাও’। তারপরই মিছিল থেকে বিজেপি’র আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করে পার্টি অফিসে। ঘরের তালা ভেঙে তছনছ করা করে ও লুট করে। দরজা ভাঙা হয়, আসবাবপত্র আলমারি, কাগজপত্র ভাঙচুর করার পর কেরোসিন তেল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যখন এই হামলা, লুট করছিল পুলিশ তখন প্রত্যক্ষদর্শী। দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়ে যায় কাল থেকে আর পার্টি অফিস খুলতে দেওয়া হবে না। পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও তারা ছিল নীরব দর্শক।
বিজেপি’র দুষ্কৃতীরা ভেঙে চলে গেলে পুলিশ পার্টি অফিস ঢুকে বিজেপি’র ভাঙচুর, লুটের নিশানা মুছে দিতে ইটপাটকেল সরিয়ে, ভাঙাচোরা টেবিল, চেয়ার, কাগজপত্র গুছিয়ে ২টি ঘরে তালা মেরে চলে যায়। এই হামলার ঘটনায় এলাকার মানুষজন ক্ষোভে ফুঁসছেন। এদিনই ভাতার থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও রাত পর্যন্ত একজন দুষ্কৃতীকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।
অন্যদিকে খণ্ডঘোষ গ্রামে দলীয় কার্যালয়ে অমল হালদারের সাধারণ সভা শেষ হওয়ার পর সিপিআই(এম) কর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে খণ্ডঘোষ থানার সামনে বেপরোয়া আক্রমণ করে বিজেপি দুষ্কৃতীরা। এই হামলায় ১১ জন পার্টিকর্মী আহত হয়েছেন। খণ্ডঘোষ থানার সামনে স্বয়ং অফিসার ইনচার্জ সহ অন্যান্য সমস্ত অফিসারেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিজেপি দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালায় পুলিশি মদতে। এই হামলার বিরুদ্ধেও মানুষ ক্ষুব্ধ। আগামী ১০ আগস্ট আইন অমান্য কর্মসূচিকে সফল করার জন্য অঞ্চলভিত্তিক এই কর্মী সভা করা হচ্ছিল। এই হামলার লিখিত অভিযোগ করা সত্বে্ছও খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ একজন বিজেপি’র দুষ্কৃতীকেও গ্রেপ্তার করেনি। অমল হালদার বলেছেন, রাজ্য জুড়ে লাল ঝান্ডার পক্ষে জনজাগরণে ভয় পেয়ে এই হামলা করছে বিজেপি। এই হামলা মোকাবিলা করেই ১০ আগস্ট জেল ভরো কর্মসূচিতে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ অংশ নেবেন।
BJP attacks on CPI(M) party office
পার্টি অফিসে আক্রমণ, পুলিশ নীরব দর্শক, ভাতার, খণ্ডঘোষে বিজেপি’র হামলায় আক্রান্ত পার্টিকর্মীরা
×
Comments :0