চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার, ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘‘গত ১০ দিনের ঘটনায় আমি মর্মাহত। এটি আমার জন্য ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। ভারতের যুবসমাজই এই দেশের প্রকৃত শক্তি। আমি দেশের যুবসমাজকে মায়ার দুষ্টচক্রে পড়তে দেব না, এটাই আমার সংকল্প।’’
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে জড়িত আছেন। পরীক্ষায় প্রকাশিত অনিয়মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, ভারত সরকার তদন্তের ভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি পরীক্ষাটি বাতিল করে পুনরায় আয়োজন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা সিবিটি পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান বলেন, এই সময়ে সরকারের অগ্রাধিকার ছিল ২০ লাখেরও বেশি পড়ুয়ার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ২১ জুন, ২০২৬ তারিখে পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, “আমি প্রথম দিন থেকেই এর দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম যে, পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে দেব না, কোনো ছাত্রকে অবিচারের শিকার হতে দেব না।”
প্রধান বলেছেন যে, ১৬ জুলাই ঘোষিত নিন পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল এবং দরিদ্র পরিবার থেকে আসা অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী সাফল্য অর্জন করেছে। তবে, যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভ এবং গত ১০ দিনের ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তিনি বলেন, "ভারতের যুবশক্তিই দেশের প্রকৃত শক্তি। আমরা দেশের যুবশক্তিকে মায়ার দুষ্টচক্রে পড়তে দেব না।’’ ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, যন্তর মন্তরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সুযোগ যেন দেশবিরোধী শক্তি না নেয়, দেশের ঐক্য বজায় রাখতে হবে, ভারতের একজন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎও যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়, আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন লেখাপড়ায় সময় কাটায়, ক্যারিয়ার গড়তে মনোযোগ দেয়, এই বিবেচনায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশ এবং সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন যে জাতির সেবা করা তার জীবনের শীর্ষ অগ্রাধিকার হবে। তিনি ভবিষ্যতেও ভারত মাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবকদের প্রতি নিবেদিত থাকার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
Comments :0