রাতের অন্ধকারে নিস্তব্ধ জঙ্গল ফুঁড়ে আচমকাই জাতীয় সড়কে উঠে এল জোড়া হাতি। মঙ্গলবার রাতে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি বনাঞ্চলের মহাকাল ধাম সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। হাতি দুটি বেশ কিছুক্ষণ রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে ও বিস্ময়ে ঠায় দাঁড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের গাড়িও।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে সপরিবারে জলপাইগুড়ি থেকে চালসার দিকে ফিরছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা রেনু রায়। রাত তখন গভীর। মহাকাল ধাম সংলগ্ন ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে তাঁদের গাড়ির হেডলাইটের আলোয় ধরা পড়ে বিশালকায় দুই মূর্তির অবয়ব। দেখা যায়, দুটি হাতি হেলেদুলে মাঝরাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিপদ বুঝে তৎক্ষণাৎ চালক গাড়ি থামিয়ে দেন।
গাড়ির ভেতরে বসেই সেই রোমহর্ষক দৃশ্য মোবাইলবন্দি করেন রেনু রায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে হাতি দুটি জাতীয় সড়কের ওপর নিজেদের রাজত্ব চালায়। এরপর মন্থর গতিতে তারা ফের গভীর জঙ্গলে মিলিয়ে গেলে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের। পরে সেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
ডুয়ার্সের জঙ্গল চিরে চলে যাওয়া এই জাতীয় সড়ক বন্যপ্রাণীদের যাতায়াতের অন্যতম করিডোর। মাঝেমধ্যেই বন্যপ্রাণীরা রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সে কারণেই বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বারংবার নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে। জঙ্গলের রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বন্যপ্রাণী সামনে চলে এলে অহেতুক হর্ন বাজানো বা উত্যক্ত করা চলবে না। বিশেষ করে রাতের বেলা এই রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
এদিনের ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে দিল যে, বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে মানুষের অনুপ্রবেশ এবং অসতর্কতা যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বনদপ্তর ফের পর্যটক ও চালকদের নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর আবেদন জানিয়েছে।
Elephant
মাঝরাতে জাতীয় সড়কে ‘গজরাজ’, রুদ্ধশ্বাস ১৫ মিনিট লাটাগুড়িতে
×
Comments :0