লাটাগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য কাটা হচ্ছে পাঁচ হাজার গাছ। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে জলপাইগুড়ি জেলার চালসা এলাকার গাছ কাটার বিরোধিতা করে নাগরিক কনভেনশন করা হয় রবিবার। কনভেনশনে রাজ্য বিজ্ঞান আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সহ এলাকার পরিবেশ প্রেমি ও জলপাইগুড়ি জেলা সহ আশপাশের উত্তরের জেলাগুলির বিজ্ঞান কর্মী ও পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। কনভেনশনে রাস্তা সম্প্রসারণ এর নামে গাছ না কেটে বিকল্প রাস্তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে সমস্ত মানুষকে পরিবেশ রক্ষার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান কর্মী, বিজ্ঞান আন্দোলনের নেতৃত্ব ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সংগঠকরা।
কনভেনশনের শুরুতে সংগঠনের সদস্যরা উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। কনভেনশনের শুরুতে জলপাইগুড়ি জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর পার্থসারথি চক্রবর্তী প্রারম্ভিক বক্তব্যে গরুমারা জাতীয় উদ্যানকে সামনে রেখে এলাকার জীব বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জঙ্গলে রাত্রি যাপন করে দার্জিলিঙ, সিকিম, কার্লিংপঙ এবং আশপাশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার জন্য গরুমারা অভয়ারণ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন বিকাশের কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২০১৭ সালে দুটি ট্রেন যাওয়ার জন্য গরুমারা অভয়ারণ্যের লাটাগুড়িতে যেভাবে বৃক্ষচ্ছেদন করে ওভার ব্রিজ তৈরি হয়েছে তাতে এলাকার পর্যটন ব্যবস্থার বিরাট ক্ষতি হয়েছে, ক্ষতি হয়েছে পরিবেশে।
কনভেনশনের খসড়া প্রতিবেদন পেশ করেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী। সভায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ প্রেমী অনির্বাণ মজুমদার, তানিয়া হক, মানবেন্দ্র দে সরকার, বিজ্ঞান কর্মী গোপাল দে, পরিবেশ বিজ্ঞানী তপন সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সকলেই তাঁদের বক্তব্যে তুলে ধরেন যে রাজ্যের উত্তর প্রান্তের জেলাগুলির মধ্যে বিশেষত জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার দার্জিলিঙের একাংশ জঙ্গলের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য গোটা রাজ্য কথা দেশের মানুষের কাছে পর্যটনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণীয় কেন্দ্র। জঙ্গল ধ্বংস হলে ক্ষতি হবে অর্থনীতির ২০১৭ সালের দুটি ট্রেন চালানোর জন্য লাটাগুড়ির এক বিরাট এলাকা জুড়ে বৃক্ষ নিধন যোগ্য করে রেলওয়ে ওভার ব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল সেসময় আন্দোলন হয়েছিল কিন্তু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে পরিবেশকর্মী ও বিজ্ঞান কর্মীদের পুলিশ আটক করে জেলে রেখে এক রাতের মধ্যে বুলডোজার দিয়ে সমস্ত গাছ কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকা হাতির করিডোর। পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়ন কোনভাবেই নেই মেনে নেওয়া হবে না। অফিসিয়ালি কোনও নোটিফিকেশন না হলেও শোনা যাচ্ছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি আবারও ময়নাগুড়ি থেকে লাটাগুড়ি রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য খুব শীঘ্রই ৫০০০ গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া শুরু করবে। বেশ কিছু গাছকে চিহ্নিতও করা হয়ে গেছে।
Comments :0