ভ্রমণ
মুক্তধারা
খেরোর খাতায় ঔরঙ্গাবাদ
অভীক চ্যাটার্জী
১০ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
বিবি কা মকবরা দেখা শেষ হতে হতেই মেঘলা আকাশ আরও কালো হয়ে এলো। সন্ধ্যা নামছে আওরঙ্গবাদে। আজকের মত আমাদের ভ্রমণ এখানেই। এবার আমরা ফিরবো আমাদের সেই জৈন ধর্মশালায়। তার আগে কিছু খেয়ে নিতে হবে।
খাবার কথাতে মনে পড়ল, আমরা খাবো এমন একটা পদ, যা শুধু এই ঔরঙ্গাবাদেই পাওয়া যায়। তার নাম হলো "নান খালিয়া"। একটা ফরাসি - মুঘল খানা ঘরানার সংমিশ্রণে তৈরি মুঘলাই খাবার এই নান খালিয়া, মূলতঃ সকালের খাবার, কিন্তু আমরা খাবো রাতের খাবার হিসাবে।
এই খাবার যদিও খুব সহজ কথায় বলতে গেলে, দিল্লির মোঘলাই রান্নার দাক্ষিণাত্য সংস্করণ। অতি সহজপাচ্য এবং কাজু কিসমিস ক্রিমের কোনো ব্যবহার এতে থাকে না। স্বাদ যেটা আসে, সেটা শুধুই মাংস, মজ্জা আর অল্প আঁচে বহুক্ষণ রান্না করার ফল।
এবার বলি এই ভয়ানক দেবভোগ্য খাবার দেখতে কতটা লোভনীয়। নান খালিয়া হলো রুটি আর মাংসের ঝলের এক চমৎকার মেলবন্ধন, যেখানে মাংসের টুকরো যদিও কম পাওয়া যায়, তবে তার ঝোলটি কিন্তু চমৎকার। তুলতুলে জাফরানি রঙের রুটির সঙ্গে সেই ঝোল খেতে অসম্ভব সুন্দর লাগে। আওরঙ্গাবাদের মানুষ সেই ঝোলের মধ্যে রুটির টুকরো ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দেয়, তারপর সেই রুটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাংসের ঝোল ঢুকে গেলে তারপর সেই খাবার খাওয়া হয়। এবং তার স্বাদ লাগে অতুলনীয়।
আমরা সেই খাবার খেয়ে বিরাট এক ঢেঁকুর তুলে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে ফিরে চললাম সেই জৈন ধর্মশালায়। আজকের মত আমাদের ভ্রমণ শেষ। পথশ্রমে আমরা ক্লান্ত। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুম নেমে এলো চোখে।
চলবে
Comments :0