ভ্রমণ
মুক্তধারা
খেরোর খাতায় ঔরঙ্গাবাদ
অভীক চ্যাটার্জী
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
পরদিন সকাল সকালই উঠতে হলো আমাদের, কারণ আজ আমরা যাব অজন্তা, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। অজন্তা কিন্তু আওরঙ্গবাদ শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে। যেতে হয় বাসে করে।প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে ব্যাসাল্ট পাথরের মধ্যে কৃত্রিম গুহার গায়ে অজস্র ফ্র্যাস্কো আর মূর্তি। যাই হোক, আমরা বাসে উঠে পড়লাম, বাসে উঠে মনে পড়ল, খাওয়া হয়নি কিছুই। আমি শুভকে বাসে বসিয়ে রেখে নেমে পড়লাম খাবারের সন্ধানে। আওরঙ্গবাদ বাস স্ট্যান্ডের নিজস্ব ক্যান্টিন আছে, যেখানে কম দামে খাবার পাওয়া যায়। আমরা চিড়ের পোলাও আর বড়া দিয়ে সকালের খবর সেরে নিলাম বাসের ভেতরে। বাস চলতে শুরু করল। অচিরেই আমরা শহর ছেড়ে ঢুকে পড়লাম প্রকৃতির কোলে। আকাশ মেঘলা। বর্ষা তার রূপের ছোঁয়ায় চারদিকের সবুজকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। আমরা দুজন গল্প করতে করতে চললাম এক অনন্য সুন্দর শিল্প নিদর্শনের উদ্দেশ্যে।
ঘণ্টা তিনেক পর আমরা পৌঁছলাম অজন্তা টি পয়েন্টে। আওরঙ্গবাদ থেকে জলগাঁও যাওয়ার যেকোনো বাসে অজন্তা টি পয়েন্টে নামা যেতে পারে। সেখান থেকে একটু এগোনোর পর শুরু হয় অজন্তা কমপ্লেক্স। অজন্তা কমপ্লেক্স থেকে বাস পাওয়া যায় অজন্তা গুহা কমপ্লেক্স যাওয়ার।
এই টি পয়েন্ট আর বাস স্ট্যান্ড এর মাঝখানে আসে অজন্তা শপিং কমপ্লেক্স। সেখান থেকে আপনি কিছু স্মারক কিনতে পারেন অজন্তার স্মৃতি হিসাবে, কিন্তু অবশ্যই দরাদরি করে, এখানে অনেকটাই দরাদরি চলে।
আমরা সেসব দেখে পৌঁছলাম বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস ধরতে। সকালের দিকে পৌঁছনো অনেকটাই ভালো, কারণ বেলা বাড়লে বাসের লাইন লেগে যায়, যা আপনার সময় অনেকটাই নষ্ট করে দেবে।
আমরা যখন পৌঁছলাম বাস স্ট্যান্ডে, সেখানে বেশ খানিকটা লাইন লেগে গেছে। তবে বাসের সংখ্যা বেশি থাকায় আমাদের অপেক্ষা করতে হলো না বেশি।আমরা বাসে উঠে চললাম গুহার অভিমুখে। পাহাড় আর অরণ্য বনানীর মধ্যে দিয়ে কালো মোয়াল সাপের মত রাস্তা ধরে আমাদের যন্ত্র দানব ছুটে চলল এক শতাব্দী প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের অভিমুখে। পাশ দিয়ে নিশ্চিন্তে বয়ে চলেছে নদী, ওয়াঘোরা।
চলবে
Comments :0