নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
গল্প
রোদ্দুরের মা
মৈথিলী
২১ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
করুণ মুখে রোদ্দুর দাঁড়িয়ে আছে পাঁচিলের গা ঘেঁষে। দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ভূমিসংঘের প্যান্ডেল। ভিতরে একটা মাটির মূর্তি এসে ঠাঁই নিয়েছে তার গোটা পরিবার নিয়ে। সঙ্গের দুটো ছেলে দামি পোশাক পরে; একজনের সঙ্গে এক পেখম মেলা ময়ূর, অন্যজনের মাথাটা এক মস্ত হাতির; সঙ্গে তার নেংটি ইঁদুর। রোদ্দুর জানে, ওরা কার্তিক আর গণেশ। প্রতিবছর দামি দামি পোশাক পরে ওরা আসে, ভালো ভালো খাবার খায়, রকমারি মিষ্টি। কত ফুল পড়ে ওদের পায়ে। রোদ্দুর পাঁচিলের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে। ওই প্যান্ডেলে ঢোকা ওর মানা। ষষ্ঠী পেরোয়, সপ্তমী পেরোয়, অষ্টমী পেরোয়, নবমী পেরোয়, বিজয়া দশমীতে মাটির মূর্তি তার পরিবার নিয়ে ঝাঁপ দেয় গঙ্গায়। রোদ্দুর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে পাঁচিলের গা ঘেঁষে। ভূমিসংঘের মাঠ জুড়ে মেঘের আনাগোনা। একটা বিশাল বড় বট গাছের আড়াল পড়েছে প্যান্ডেলে। তাই বড় মেঘলা দেখায়। প্যান্ডেলের রঙিন কাপড়ে জাফরি কাটছে রোদ্দুরের ছুঁড়ে দেওয়া আলো।
নীরেন্দ্রনাথের অমলকান্তি সেই কবে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল। বেগোপাড়ার রোদ্দুর বাগদি প্রতিদিন চেষ্টা করে ওই পাঁচিলের কর্নার থেকে এক ছুট্টে ভূমিসংঘের প্যান্ডেলে ঢুকে পড়তে, চুপটি করে ওই মায়ের কোলটিতে উঠে পড়তে। ইচ্ছে করে অনেক অনেক ভালো খাবার খেতে। রোদ্দুরের মা নেই। আর বাবা সেই কোন ছোটবেলায় হারিয়ে গেছে। ওর কাদা মাখা পায়ে কে যেন অসংখ্য শিকল পরিয়ে রেখেছে। তাই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে পাঁচিলের গা ঘেঁষে। রোদ্দুরের ছোঁয়ায় পাঁচিলটা ঝলমল করছে। আমি জানি, ও ছুটে গিয়ে মায়ের কোলে উঠলেই প্যান্ডেলটা আলোয় আলো হয়ে উঠবে। কিন্তু ওরা বোঝে না।
Comments :0