DYFI Kolkata Corporation

দিল্লি পুলিশের গুন্ডামির ছবি তুলে ধরতে হবে ছাত্র-যুবদের, বললেন সেলিম

রাজ্য কলকাতা

সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে ডিওয়াইএফআই’র জনসভায় মহম্মদ সেলিম।

আদালত বলেছে ভিডিও দেখার সময় নেই। দিল্লি পুলিশের তাণ্ডব চালিয়েছে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের ওপর। তা’হলে ছাত্র-যুবদের দায়িত্ব এই সব ভিডিও মানুষের কাছে প্রচার করা। দিল্লি পুলিশের গুন্ডামির এমন যত ছবি আছে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। 
বুধবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে যুব জনসভায় এই আহ্বান জানিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। ডিওয়াইএফআই কলকাতা জেলা কমিটির ডাকে বিক্ষোভ সমাবেশ হয় এদিন। কলকাতা দুর্নীতিমুক্ত কর্পোরেশন এবং স্থায়ী পদে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে হয়েছে এই জনসভা।
২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যোগ দেয় নবীন জনতা। দিল্লি পুলিশ দিনভর লাঠিপেটা করেছে দেশের ছাত্র-যুবদের। এমনকি লাঠি হাতে প্রতিবাদীদের নির্মমভাবে মেরেছে বজরঙ দলের গুন্ডাবাহিনী। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে। আর বুধবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার আবেদন অগ্রাহ্য করেছেন। বলেছেন যে ভিডিও দেখার সময় নেই। 
প্রাক্তন যুবনেতা সেলিম দিল্লির প্রতিবাদ প্রসঙ্গেই বলেছেন,দিল্লি পুলিশ দেখালো দাঙ্গাবাজ গুন্ডাদের জন্য অস্ত্র না। দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য নয়। অস্ত্র ব্যবহার হলো আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, আদালত বলেছে সমস্ত ছবি দেখার মত সময় নেই। তাহলে কি শুধু প্রভাবশালীদেরই ছবি দেখবে আদালত। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর যে নির্মমভাবে আক্রমণ চালালো দিল্লি পুলিশ সেই সমস্ত ছবি আমরা একত্রে মানুষের কাছে নিয়ে যাবো। এই রাজ্যে ১৫ বছরে মানুষ তৃণমূলের পুলিশের গুন্ডামি দেখেছেন মানুষ। বিজেপি আরো ভয়ঙ্কর ভাবে পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। সেই চরিত্র আমরা তুলে ধরব।


এদিন ডিওয়াইএফআই কলকাতা কর্পোরেশনের সামনে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে হয় জনসভা। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কলকাতা জেলা সভাপতি সোহম মুখার্জি। বক্তব্য রাখেন ডিয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা, সভাপতি অয়নাংশু সরকার, কলকাতা জেলা সম্পাদক শ্রীজীব গোস্বামী। 
জনসভা প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, এই পুলিশ দলদাস হয়েই রয়েছে। আগে মুখ্যমন্ত্রী-ভাইপোকে ঘিরে রাখত। আজও তাই করছে, যারা ক্ষমতায় আসীন তাদের ঘিরে রাখছে। এই সভা কলকাতা পৌরসভার সামনে হতে পারত। তৃণমূলও করতে দিত না। বিজেপি সরকারও বলছে পৌরসভার সামনে করা যাবে না। 
সেলিম বলেন, কলকাতা পৌরসভা নেই। বিধানসভার ভোটে হেরেছে তৃণমূল। কিন্তু তৃণমূলের সাংসদ থেকে পঞ্চায়েত সদস্য বা কাউন্সিলর, সব হাওয়া হয়ে গেল। তিনি বলেন, গোটা রাজ্যের পৌর ব্যবস্থা-পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে কর্মসংস্থানের প্রকল্প রপায়িত হচ্ছে না। 
সেলিম ডিওয়াইএফআই কর্মীদের বলেন, আপনারা ৬ মাসের মধ্যে কর্পোরেশনে শূন্যপদ পূরণের দাবি করেছেন। আমাদের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা বিধানসভায় শূন্যপদ পূরণের দাবি তুলেছেন। সরকারি ক্ষেত্রে আধা সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগ বন্ধ আছে। আমরা চাইছি স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হোক। 
রাজ্যে বিজেপি সরকারের জননিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, মানুষকে নিরাপত্তা দিতে এই আইন নয়। ব্রিটিশরা এমন আইন এনেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জেলে বন্দি করার জন্য। ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত সেই আইনের প্রতিবাদেই সংসদে বোমা ছুঁড়েছিলেন। আরএসএস ব্রিটিশের সমর্থক ছিল। আর আজ আরএসএস-বিজেপি সরকার প্রতিবাদীদের জেলে পাঠানোর জন্য জন নিরাপত্তার নামে আইন এনেছে। 
সেলিম বলেন, নতুন প্রজন্মের ওপর মানুষের ভরসা আছে। রেলে, ব্যাঙ্কে, ডাকঘরে নিয়োগ নেই। যে চৌকিদার বলেছিল নিজেকে, দেখা যাচ্ছে সে মন্দিরের সোনা-দানা চুরি করতে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরা দালাল, রিলায়েন্সের এজেন্ট। কোম্পানি না চাইলে প্রধান সরবে না। বিজেপি’র একেকটা মন্ত্রী আদানি, আম্বানি, বিড়লার মতো একচেটিয়া সংস্থার দালাল। 
তিনি বলেন, লড়াইয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব অংশ একজোট না হলে দিল্লির লড়াই হতো না। তাই এক জোট হওয়ার কথা বললে রাগ করে বিজেপি-আরএসএস। যারা দেশে স্বাধীনতার সময় ঐক্যের কথা বলেছিল তাদের ওপর রাগ। আর যারা দেশভাগের কথা বলেছিল, যেমন শ্যামাপ্রসাদ, তারা ভালো!

Comments :0

Login to leave a comment