CPIM SILIGURI

শিলিগুড়ির পৌরবোর্ড সমস্যা মেটাতে ব্যর্থ, সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন সিপিআই(এম) কাউন্সিলররা

জেলা

শিলিগুড়িতে নতুন পানীয় জল প্রকল্প বিশবাঁও জলে। শিলিগুড়ি জংশনে ফুটওভার ব্রিজের কী হলো? শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এবং ইন্ডোর স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরনের জন্য শিলিগুড়ি বর্তমান পৌরবোর্ড কী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে? অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো বর্তমান ক্ষমতাসীন শিলিগুড়ি পৌরবোর্ড। কিন্তু শহরের উন্নয়ন ও শহরবাসিদের পৌর পরিষেবা দিতে শুধুই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন মেয়র। এই অভিযোগ তুলে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের সিপিআই(এম) পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিপিআই(এম) কাউন্সিলাররা। সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন আরও দুই সিপিআই(এম) কাউন্সিলর শরদিন্দু চক্রবর্তী ও মৌসুমী হাজরা।
এদিন সিপিআই(এম) পরিষদীয় দলনেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেছেন, "শিলিগুড়ি উত্তর পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। গুরুত্বপূর্ন শহর। শহরের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। কিন্তু শহরের উন্নয়ন স্তব্ধ ও বন্ধ। শহরের গতিরুদ্ধতার কারনে পিছিয়ে পড়ছে শিলিগুড়ি। তৃণমূলী পৌর বোর্ড তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বর্তমান পৌর বোর্ডের গত চার বছর ও তার আগে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের চেয়ারম্যান পদে থাকাকালীন এক বছর মোট পাঁচ বছরে ওদের কাজকর্মে শহরবাসী ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। শুধু বৈঠকের পর বৈঠক করে যাচ্ছেন মেয়র। শুধুমাত্র ১৪কোটি টাকা খরচ করে পৌর কর্পোরেশনের নতুন ভবন বানানো হয়েছে। মেয়র সহ তার পারিষদ ও তৃণমূলীরা দামি গাড়িতে চড়ে ঘুরছেন এটাই ওদের কাছে উন্নয়ন। সামান্য পৌর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত মানুষ। আজও শহরের ভয়ঙ্কর যানজট সমস্যার সমাধান মেলেনি। সিভিক দিয়ে গোটা ট্রাফিক সিস্টেম পরিচালিত হচ্ছে। বিগত বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের সময়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের নানা অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শিলিগুড়ি শহরের উন্নয়ন অব্যাহত ছিলো। রাজ্য সরকারের উপেক্ষা সত্ত্বেও সেই সময় উন্নয়ন গতি পেয়েছিলো। বর্তমান যে পানীয় জল প্রকল্পের গল্প শোনাচ্ছেন মেয়র সেই প্রকল্প বামফ্রন্টের সময়ের। শিলিগুড়ির মানুষ তৃণমূলকে ঢেলে ভোট দিয়ে কাজের সুযোগ করে দিলেও ক্ষমতায় আসার পরে কোন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বর্তমান পৌর বোর্ড। সেই কারনেই মেয়রের গলায় আক্ষেপ।
আরো বলেন, বামফ্রন্টের ৩৪বছর সময়ে শিলিগুড়ির পরিকল্পিত উন্নয়ন শুরু হয়। ১৯টি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি ওয়ার্ড ও পরবর্তীতে ৪৭টি ওয়ার্ড হয়েছে। বিধানরোড, সেবক রোড, বর্ধমান রোড, স্টেশন ফিডার রোড, নিবেদিতা রোডের উন্নয়ন, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ মহানন্দা সেতু নির্মান, চিত্তরঞ্জন ফ্লাইওভার, ঘোষপুকুর বাইপাস, ইস্টার্ন বাইপাস সহ শহরের একাধিক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ হয়েছে। কিন্তু বর্তমান রাজ্যের সরকারের ১৫বছর ও শিলিগুড়ি তৃণমূলী পৌর বোর্ডের পাঁচ বছর সময়ে শহরের উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে। মহানন্দা নদী দূষন রোধে মহানন্দা অ্যাকশন প্ল্যান তৈরী করে তার কাজও শুরু হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালা বদলের পরে এসজেডিএ—র তৃণমূলী বোর্ড মহানন্দা অ্যাকশনের কাজ বন্ধ করে দেয়। উন্নয়নের জন্য এসজেডিএ—র বিগত বাম বোর্ডের রাখা ২০০কোটি টাকার নয়ছয় করে দিলো তৃণমূলের নেতারা। একইরকমভাবে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের নতুন ভবন নির্মানের কাজও শুরু করেছিলো বিগত বামফ্রন্ট পৌর বোর্ড। তৃণমূলী পৌর বোর্ডের উন্নয়নের অভিমুখ শুধুই ভোটের রাজনীতি।

 

Comments :0

Login to leave a comment