Sikkim Tunnel Collapse

ডুয়ার্সের মৃত শ্রমিকদের বাড়িতে সিপিআই(এম) প্রতিনিধি দল, আন্দোলনের হুশিয়ারি

জেলা রাজ্য

সিকিমে টানেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মাল মহকুমার মাটিয়ালি ও নাগরাকাটা ব্লকের ৯ জন চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল সিপিআই(এম)। ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে এই প্রাণহানির ঘটনায় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও সুরক্ষার অভাবকেই দায়ি করেছে। 
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই মঙ্গলবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাল মহকুমার মৃত শ্রমিকদের পরিবারগুলির বাড়িতে যান সিপিআই(এম)’র প্রতিনিধি দল। বুধবার সকালেই ফের কিলকোট চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান নেতৃত্ব।
জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রের নেতৃত্বে কৃষক সভা ও চা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা মৃতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাঁদের পাশে থাকার জোরালো আশ্বাস দেন। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে  ছিলেন কৃষক সভার নেতা আশীষ সরকার, শ্রমিক নেতা সিকান্দার মাঝি, রামলাল মুর্মু, কর্ণে বাহাদুর লামা এবং গোবিন্দ হাজরা।
পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে পীযূষ মিশ্র। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল হাইড্রো পাওয়ার কর্পোরেশন’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আজ শ্রমিকদের জীবন চরম ঝুঁকিতে। পাহাড়ে বা দুর্গম এলাকায় কাজ করার সময় শ্রমিকদের যে আপৎকালীন নিরাপত্তা বা সেফটি পাওয়ার কথা ছিল, তা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে। নিয়ম ও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই শ্রমিকদের কাজে নামানো হয়েছে। যার পরিণতিতে আজ ঝরে গেছে মূল্যবান প্রাণ, নিঃস্ব হয়েছে একাধিক পরিবার।’’
তিনি আরও জানান, প্রতিটি প্রকল্পের কাজে নামার আগে শ্রমিকদের সর্বোচ্চ আপৎকালীন নিরাপত্তা ও জীবনবিমা সুনিশ্চিত করতে হবে। মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারের অন্তত একজনের স্থায়ী চাকরি এবং তাদের সন্তানদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সংস্থাকে নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ চা বাগানগুলো অবিলম্বে চালু করতে হবে এবং শ্রমিকদের পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত সমস্ত বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি না মানলে আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার দুপুরে সিকিমের নামচির সামারদুং এলাকায় এনএইচপিসি-র তিস্তা স্টেজ-৬ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলের ভেতরে মিথেন গ্যাসের আকস্মিক বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ভেতরে আধিকারিক সহ ২৭ জন শ্রমিক আটকে পড়েন। নামচির পুলিশ সুপার সোনাম ডি ভুটিয়া জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ২০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে। নিহতদের মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলারই ৯ জন শ্রমিক রয়েছেন। এরমধ্যে কেবল মেটেলি ব্লকের ৬ জন এবং নাগরাকাটা ব্লকের ৩ জন শ্রমিক এই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন। পাহাড়ের ভঙ্গুর প্রকৃতির তোয়াক্কা না করে এবং প্রাথমিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অভাবের ফলেই এই বিপর্যয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Comments :0

Login to leave a comment