ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের জন্য নতুন প্রোটোকল তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বললো সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, অতীতে যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, দিল্লিতে হওয়া ছাত্র বিক্ষোভের সময় তা যথাযথভাবে মানা হয়নি। এছাড়া আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারিদের বিরুদ্ধে কোন কঠোর পদক্ষেন নিতে পারবে না দিল্লি পুলিশ। এফআইআরের বিরুদ্ধে চলতে পারে তদন্ত।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, ঘটনায় সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘যারা মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। দায় নির্ধারণ না হলে তদন্তের কোনও অর্থ থাকে না।’
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে সিজেপি-র নেতৃত্বে ছাত্রদের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিল আটকাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। বহুজনকে আটকও করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এটি মূলত একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল, যেখানে সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই আন্দোলনকারিরা নিজেদের দাবি তুলে ধরছিল। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অনেক সময় এমন কিছু অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঢুকে পড়ে, যাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য থাকে। খুব দ্রুত তারাই পরিস্থিতির নিজেদের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে।’
আদালত আরও জানায়, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ একটি মৌলিক অধিকার এবং ভবিষ্যতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের মতো উপায় ব্যবহার করা উচিত কি না, তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতির কথায়, ‘এই আদালত আগেও একটি প্রোটোকলের কথা বলেছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। কোন ধরনের কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হবে, আদৌ তার ব্যবহার অনুমোদিত হওয়া উচিত কি না এসব বিষয় নতুন করে বিবেচনা করা দরকার।’
কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ছাত্রদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকলে সরকার বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছে না। তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসা উচিত। একই সঙ্গে তিনি জানান, ওই ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। তার কথায়, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবলও ভেঙে দেওয়া উচিত নয়।’
মেহতা আরও দাবি করেন, ছাত্ররাই হিংসায় জড়িয়েছিল বলে তিনি মনে করেন না। বরং সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু ব্যক্তি আন্দোলনে প্রবেশ করেছিল। আদালতে এ সংক্রান্ত তথ্যও পেশ করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রধান বিচারপতিও বলেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দুষ্কৃতীদের ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার কথায়, ‘যা ঘটেছে, তা শুধুমাত্র ছাত্রদের কাজ ছিল এমনটা বলা যায় না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্যরাও সেখানে ঢুকে পড়তে পারে।’
ছাত্রদের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন, ছবি ও অন্যান্য নথির মাধ্যমে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রমাণ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, পেলেট গান ব্যবহারের মতো গুরুতর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীরাও হিংসাত্মক আচরণে জড়িয়েছিলেন।
Supreme Court
ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, নতুন প্রোটোকলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর সুপ্রিম কোর্টের
×
Comments :0