অন্যকথা
মুক্তধারা
----------------------------
বিদ্যুৎ-এর শপথ
----------------------------
কৃশানু ভট্টাচার্য্য
সেদিন কুৎসা ছিল, কুৎসার পাশাপাশি যন্ত্রানুষঙ্গে শামিল ছিল অবজ্ঞা আর বিদ্রুপ! বাঙালির বাচ্চার রক্তের তেজ দেখতে উদগ্রীব ছিল অজস্র মানুষ। আবার তার পাশাপাশি সহযাত্রীদের সন্দেহ ছিল, সঙ্গী ছিল সংশয়। তবুও নীল আকাশের দিকে সটান উঁচু হয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল ওই প্রকাণ্ড চিমনি গুলো।
প্রশ্নটা বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানি সমস্যা নিয়ে নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করার নিয়েও নয়। সেদিন প্রশ্নটা ছিল পরনির্ভরতা নয়, নিজেদের সংকট মোচন করা হবে নাকি নিজেদের দায় এবং দায়িত্ব পালনে নিজেদের দক্ষতার উপরে আস্থা রাখা হবে। আর তাই সেদিন হাজার হাজার মানুষ কেউ অর্থ দিয়ে কেউ রক্ত দিয়ে নির্মাণ করার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। দেশের বুকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবার জন্য নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
কুৎসা আজও আছে। অবজ্ঞা কিংবা বিদ্রুপ তা আজো বর্তমান। সেদিন যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, সেদিন যারা শানিয়ে ছিলেন আক্রমণের তীর আজ কিন্তু তারা সমানভাবেই সক্রিয় আছেন। আজ তারা প্রশ্ন করেন , বলেন, আটের দশক, নয়ের দশক এই বাংলায় কি কি হয়েছে তার হিসাব চাই। তারা ভুলে গেছেন ওই সময় তাদের কি ভূমিকা ছিল। যখন কেন্দ্রীয় সরকার শর্ত রেখেছিল যে তাদের অর্থে যদি কোন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গঠিত হয় তবে সেই তাপবিদ্যুৎ বন্টনের ক্ষেত্রে মেনে নিতে হবে তাদের শর্ত- সে সময় এই রাজ্যের অজস্র মানুষের চাহিদাকে তারা কতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন? তারা তখন এটা প্রমাণে ব্যস্ত ছিলেন যে, একক উদ্যোগে কোন রাজ্য সরকার একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারবেন না। বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের ক্ষেত্রে যখন বারে বারে আক্রমণ নেমে এসেছে সে সময়েও তারা নীরব ছিলেন।
আসলে ওরা সময় সময়ে নীরব হতে ভালোবাসে। নীরবতার সংগীত নীরবতার ভাষা ওদের বড় প্রিয়। তাই আজ পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাবার পরেও যখন বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন ইউনিট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বর্তমান রাজ্য সরকার কোন সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করে না তখনও ওরা নীরব আছেন। এটা নতুন কোন কথা নয়।
এটাও নতুন কোন কথা নয় যে , সে সময়ে যারা রক্ত দিয়ে, শ্রম দিয়ে , অর্থ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম দুটো ইউনিট এবং তার পরবর্তীকালে আরো দুটো ইউনিট তারা আজও জেগে আছেন। আজও তারা সেদিনের মতোই সোচ্চারে ঘোষণা করছেন, এ রাজ্যের প্রয়োজনে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন ইউনিট গড়ে তুলতে হবে। এ দায়িত্ব এখনকার যারা রাজ্য পরিচালনা করছেন তাদের। স্বাভাবিকভাবেই আবার নতুন করে শুরু হয়েছে কুৎসা, শুরু হয়েছে নতুন করে বিদ্রুপ। তবে এবার গাণিতিক নিয়মের উল্টো দিকের খেলা।
সেদিন ওরা পরাজিত হয়েছিলেন। কণ্ঠস্বরের বলিষ্ঠতায় ভয়ে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। আজ আবার সেই বলিষ্ঠতা ফিরিয়ে এনে নতুন করে লড়াই শুরুর সময়। শপথ হোক, বাংলা কিংবা বাঙালিকে রক্ষা করবার জন্য এই লড়াই জারি থাকবে।
Comments :0