পার্থপ্রতিম কোঙার; রায়না
গ্রাম-গঞ্জে আওয়াজ উঠেছে "লাল ঝাণ্ডা ছাড়া বাঁচার কোন পথ নেই"। একবার দই মনে করে চুন খেয়েছেন গলা জ্বালা করছে, দ্বিতীয়বার আর ভুল নয়। সবাই এগিয়ে আসুন সন্তানের কর্মসংস্থান, মহিলাদের নিরাপত্তা, পড়াশোনার সুযোগ, মদের বোতল থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন। মঙ্গলবার বার সন্ত্রাস কবলিত হিজলনা অঞ্চলের বামনিয়া বাজারে সিপিআই(এম) রায়না বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সোমনাথ মাজীর সমর্থনে এক সমাবেশে সর্বভারতীয় কৃষক নেতা অমল হালদার কথাগুলি বলেন। এছাড়া বক্তব্যে রাখেন চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য, প্রার্থী সোমনাথ মাজী। সভায় সভাপতিত্ব করেন কওসের আলি। সমাবেশ বন্ধ করার জন্য এলাকায় বাড়ি বাড়ি হুমকি দেয় তৃনমুলী দুষ্কৃতীরা। সমস্ত হুমকি উপেক্ষা করে মানুষ অমল হালদারের বক্তব্যে শোনেন।
তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। দেশের পুঁজিপতি আম্বানী, আদানীর মত আপনারও একটি ভোট। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিজেদের জীবনে মৃত্যুঘণ্টার আওয়াজ একটু কান পেতে শোনার চেষ্টা করুন। ধান, আলু, পেঁয়াজ সহ কৃষি পণ্যের দামের কি দুর্দশা তা মনে রাখতে হবে। কারখানায় তৈরি সব জিনিসের দাম ঠিক করে পুঁজির মালিক, আপনার ফসলের দাম ঠিক করার কেউ নেই। রোদে, জলে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিদারুণ কষ্টে তৈরী ফসল নিয়ে হাহাকার চলছে, অথচ কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার কোনো পাত্তাই দেয় না। সার, বীজ, কীটনাশক, ডিজেল, বিদ্যুৎ এর দাম বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে। সরকারের কাজ হল উৎপাদনের উপকরণের দাম বৃদ্ধি করে কৃষকের সর্বনাশ ডেকে আনা, ফসলের দামের দাবিতে কৃষকের আন্দোলনকে এত তাচ্ছিল্য কোন সরকার ইতিপূর্বে করেনি। ফলস্বরূপ কৃষকের দেনা বাড়ছে। চাষ করার ইচ্ছাটা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে আলুকে কেন্দ্র করে যা চলছে তার শিকার কৃষকরাই। আলুকে নিয়ে আজকের সর্বনাশের মূলে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিভাবে বর্ডার সীল করে ভিন্ন রাজ্যে আলু রপ্তানি বন্ধ করেছিলেন তা আজও আমরা ভুলিনি। যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাস, ডিজেল সহ সারের দাম অনেকটাই বাড়ছে। দেশে অপদার্থ প্রধানমন্ত্রী এই বিপদগুলিকে ডেকে আনছেন। আমরা ভুলিনি ট্রাম্পের হুমকিতে নতজানু হয়ে মার্কিন কৃষি পণ্য ঢোকার ছাড়পত্র দিয়েছেন বিনাশুল্কে। আমেরিকার কৃষিতে ব্যাপক ভর্তুকি, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে চাষের ফলে অত্যন্ত স্বল্পদামে কৃষি পণ্যের সঙ্গে আসবে প্রচুর পরিমাণ দুধ। আরও হাহাকার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ছেলেমেয়েরা বেকার, লেখাপড়া উঠে যাচ্ছে, চাকুরী নেই, আছে কিছু কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষিত যুবকদের সামান্য জীবিকা। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে গেল। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার অনেকটাই জাহান্নামে পাঠিয়ে দিল গ্রামের গরিব মানুষকে, খাবে কি? কোন রোজগার নেই তাই দলে দলে ভিনরাজ্যে গতর বিক্রি করতে ছুটে যাচ্ছে। দালাল প্রচারমাধ্যম গত ১৫ বছরের পাপকে ধুয়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ভোট এলেই সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিজেপির জুজু দেখানোর খেলা চলে,আর তৃণমূল সংখ্যালঘুদের ত্রাতা হিসেবে হঠাৎ করে আবির্ভাব ঘটে। এবার ওয়াকফ আইন, ওবিসি সংরক্ষণ, মাদ্রাসা শিক্ষা রসাতলে। নানা কারণে সংখ্যালঘু বিরূপ তৃণমূল-বিজেপি সেটিং তারাও ধরে ফেলেছেন। তাই গভীর চক্রান্ত চলছে। উল্লেখযোগ্য অংশকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিরাপত্তার অভাব সম্পর্কে ভয় সৃষ্টি করা। এটাই লক্ষ্যণীয় তৃণমূলকে জব্দ করতে যে অংশটি বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরাও এখন বলছেন এই রাজ্যে শুধুই বাম। বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, ফসলের দাম, সমবায়কে বাঁচানো, বর্ধমান শহরে পরিবহন বাসকে ঢোকানোর অধিকার ফিরে পাওয়া, সবশেষে শান্তি, নিরাপত্তা, অধিকারবোধের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রায়না বিধানসভায় কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএমের তরুণ প্রার্থী সোমনাথ মাজীকে এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন।
Comments :0