ভ্রমণ — মুক্তধারা, বর্ষ ৩
আমতা আমতা করে হামতা...
অভীক চ্যাটার্জী
সকাল সকাল আমাদের সব জিনিসপত্র রুকস্যাক - এ বেঁধে আমরা বেরিয়ে পড়লাম নেহেরু চকের উদ্দেশ্যে। রোদের চাদর বিছিয়ে রোজ নতুন রূপে সেজে ওঠে মানালির নেহেরু চক। আমরা একটা অটো ধরে বিয়াস পেরিয়ে এসে পৌঁছলাম সেখানে। ছোট ছোট দল এসে পৌঁছেছে নেহেরু চকে। কেউ যাবে ভৃগু লেক আর কেউ আমাদের সাথে হামতা পাস।
পৌঁছনোর কিছু পরেই সার্চিং সোল এর কর্মকর্তারা আমাদের বোঝাতে শুরু করলেন, কি কি আশা করতে পারি আমরা এই ট্রেকে। আর তার সাথে কি কি প্রতিকূলতার সম্মুখীন আমরা হবো। সর্বমোট আমরা ১৩ জন ট্রেকার চলেছি হামতা পাসের উদ্দেশ্যে। এ সবের পর্ব শেষ করে আমরা চললাম আমাদের নির্ধারিত গাড়ি ধরতে। আমরা মানালি থেকে গাড়িতে করে যাবো জোবরা, সেখান থেকে শুরু হবে আমাদের পথ চলা। ছোট্ট লোহার পুল পেরিয়ে দেখলাম আমাদের জন্যে দুটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
রাস্তা ভয়ংকর খারাপ।সেই ভয়ঙ্কর খারাপ রাস্তা দিয়ে আমরা বুকে এক পাহাড় উত্তেজনা নিয়ে চলেছি হামতা পাসের উদ্দেশ্যে। পথে একটি ছোট্ট গ্রামে আমাদের অতিরিক্ত ব্যাগপত্তর রেখে আমাদের গাড়ি ছুটে চলল পাহাড় বেয়ে জোবরার উদ্দেশ্যে। সবুজ বনানী ঘেরা সে পথ আস্তে আস্তে গ্রাস করতে লাগলো আমাদের সম্পূর্ণ সত্তাকে। আবার অরণ্যে আমরা। পথে যেতে যেতে আমার একে একে মনে পড়তে লাগলো কি ভয়ংকর অনিশ্চয়তার পর শেষে এই পথ অব্দি পৌঁছতে পেরেছি আমি।এক অদ্ভুত ভালো লাগা জড়িয়ে ধরলো কুয়াশার মত আমার শরীর আর মনকে। আমি ডুবে যাচ্ছি হিমালয়ের কোলে। আবার শুরু আমার স্বপ্নের সফরনামা।
বেলা বারোটা নাগাদ যখন আমরা জোবরা পৌঁছলাম, আমাদের হাত পা এর কলকব্জা সব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে ভাঙ্গা রাস্তার ধকলে। এবার একটু সময় নিয়ে সেগুলোকে যথা স্থানে ফিরিয়ে এনে আমি যখন চারপাশে তাকালাম, আমার হৃদস্পন্দন যেনো কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য পাইন বার্চ আর ওক গাছের সারি, আর তার মধ্যে দিয়ে সাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে। হালকা বৃষ্টিতে ধুয়ে সবুজেরা সব আরও সতেজ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে জোবরার ছোট্ট বেস ক্যাম্প সব ক্লান্তি ভুলিয়ে জাগিয়ে তোলে নতুন উদ্দমে। সেই সাদা মেঘের চাদর গায়ে জড়িয়ে আমরা শুরু করলাম আমাদের স্বপ্নের পথ চলা। শুরু হলো হামতা পাস ট্রেক।
Comments :0