People In The Dooars

প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই জঙ্গলপথে যাতায়াতে বাধ্য ডুয়ার্সবাসী

জেলা

ডুয়ার্সের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী গয়েরকাটা–নাথুয়া রাজ্য সড়ক আজ কার্যত অচল। প্রশাসনিক উদাসীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার জেরে পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও এই সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলত সম্পূর্ণ বন্ধ বাস চলাচল। বিকল্প হিসেবে টোটো বা ছোট গাড়িই ভরসা—যা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনই বিপজ্জনক। রাজ্য সরকারের এই চরম ব্যর্থতায় নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্রমেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
২০২০ সালে পূর্ত দপ্তর গয়েরকাটা–নাথুয়া রাজ্য সড়কের মধুবনী ও নোনাই—এই দুটি সেতুকে ‘বিপজ্জনক’ ঘোষণা করে। সেই সময় থেকেই ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অস্থায়ী লোহার কাঠামো তৈরি হলেও তাতে বাস চলাচল সম্ভব হয়নি। গত পাঁচ বছরে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে একটিও বাস নামেনি। এর জেরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাস মালিকরা।
বাস মালিক প্রধানচন্দ্র রায় আক্ষেপ করে বলেন, “রুট পারমিট থাকা সত্ত্বেও গাড়ি চালানোর মতো রাস্তা নেই। প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। পেটের দায়ে একের পর এক বাস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।”
বাস বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এখন টোটো বা ছোট যান। কিন্তু এই যাত্রাপথ মোটেই নিরাপদ নয়। মোরাঘাট জঙ্গলের বুক চিরে যাওয়া এই রাস্তা সন্ধ্যা নামলেই বন্যপ্রাণের দখলে চলে যায়। কিছুদিন আগেই হাতির হানায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে এই পথেই। পর্যাপ্ত আলো নেই, তার ওপর ছোট যান—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণের ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে জীবন হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রশাসন কি আরও বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায়?”
সেতু নির্মাণের দাবিতে শুরু থেকেই সরব সিপিআই(এম)। বারবার ডেপুটেশন ও আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সিপিআই(এম)’র জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য মুকুলেশ রায় সরকার বলেন,‘‘দীর্ঘ টালবাহানার পর মধুবনী সেতুর কাজ শেষ হলেও নোনাই নদীর সেতু নিয়ে প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। রাজ্য সরকার ও পূর্ত দপ্তর ডুয়ার্সের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অবিলম্বে কাজ শেষ না হলে বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’’
অন্যদিকে পূর্ত দপ্তরের গয়েরকাটার এক আধিকারিকের বক্তব্যে সেই চেনা আশ্বাসই শোনা গেল, বিষয়টি ‘খতিয়ে দেখা হচ্ছে’। তবে এই আশ্বাসে আর আস্থা রাখতে নারাজ ডুয়ার্সবাসী। তাদের একটাই প্রশ্ন আর কত বছর অপেক্ষা করলে নবান্নের টনক নড়বে?

Comments :0

Login to leave a comment