দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার ভারতীয় ক্রিকেটে তীব্র আলোড়ন ফেলেছে। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটার সকলে ভারতীয় দলের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দলের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো স্পিনের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা, যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যার কোনও সমাধানও দেখা যাচ্ছে না। রাঁচিতে একদিনের সিরিজের শুরু আগে এই সমস্যার যে উন্নতি হচ্ছে না তা ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিলেন অধিনায়ক কেএল রাহুল।
শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেই নয়, গত ৩-৪ বছরে এই দুর্বলতা প্রতিটি ব্যাটসম্যানের খেলায় স্পষ্ট হয়েছে। রাহুল নিজেও স্পিনারদের শিকার হয়েছেন। রাঁচিতে স্পিন খেলার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল বলেন, ‘গত কয়েক মরশুমে আমরা স্পিন ভালোভাবে খেলতে পারিনি। সত্যি বলতে, আমিও জানি না আগে আমরা কীভাবে এটা (স্পিন খেলা) খেলতে পারতাম আর এখন কেন পারছি না। আমারও কোনও উত্তর জানা নেই। আমরা কেবল নিজেদের এবং একটি ব্যাটিং গ্রুপ হিসাবে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে পারি।’ রাহুল মনে করেন, ব্যাটসম্যানদের নিজ নিজ টেকনিক গুছিয়ে উত্তর খুঁজতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের পর আবার জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। এবার ভারতের মাটিতে। তাঁদের ফেরায় দল যে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বলে জানান রাহুল। তাঁর কথায় ‘ওদের উপস্থিতি ড্রেসিংরুমকে অনেক শক্তি দেয়। এখন সবচেয়ে দরকার জেতা, গত সপ্তাহ ভুলে গিয়ে সামনের দিকে তাকাতে হবে।’ বিরাটের অনুশীলন নিয়ে প্রশ্নে রাহুল জানান, একদিনের ম্যাচে সিঙ্গেল নেওয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, এ ক্ষেত্রে কোহলি ‘মাস্টার’।
নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রাহুল জানিয়েছেন, তিনি ছয় নম্বরেই খেলবেন। তবে, রাঁচির উইকেট এখনও দেখেননি ভারত অধিনায়ক, তা দেখেই দল গঠন করবেন বলে জানান রাহুল। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল পিচ দেখেই সেরা কম্বিনেশন বেছে নেব।’ ঋষভ পন্থের প্রথম একাদশে জায়গা হওয়ার প্রসঙ্গেও খোলসা করেননি তিনি। রবিবার মাঠে এমএস ধোনির থাকার কথা, সেই প্রসঙ্গে রাহুল জানান, ‘ধোনিকে আমরা সবাই দেখে বড় হয়েছি। ও স্টেডিয়ামে থাকলে দল ও দর্শক সবাই উত্তেজিত হয়ে ওঠে।’
এদিকে, বিরাট এবং রোহিতের বিরুদ্ধে খেলতে মুখিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ক্রিকেটারের জন্য প্রস্তুতিও সারা আছে তাদের। ম্যাচের আগের দিন সে কথা জানিয়ে দিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে বাভুমা বলেছেন, ‘স্থানীয় মানুষদের কাছে একটা উত্তেজক ম্যাচ হতে চলেছে। দুই জীবন্ত কিংবদন্তিকে অনেক দিন পর চোখের সামনে খেলতে দেখার সুযোগ পাবে ওরা। দু’জনে দলে থাকতে ভারতের মধ্যে একটা আলাদা স্ফূর্তি তৈরি হয়। আমরাও সেটার মোকাবিলা করতে মুখিয়ে আছি।’ দু’জনের জন্য প্রস্তুতি রাখবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাভুমা বলেছেন, ‘ভারতের বাকি যে কোনও ক্রিকেটারের মতোই আমরাও ওদের নিয়ে নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুতি রাখব। যে যে কৌশল দরকারি মনে হয় সেগুলোর প্রয়োগ করব। আমরা জানি কাজটা বেশ কঠিন হতে চলেছে। তবে একই সঙ্গে একটা উত্তেজক ম্যাচও হবে।’
টেস্ট সিরিজে ভারতকে হারানোর পর এ বার একদিনের সিরিজে জয় তোলাই নজর দক্ষিণ আফ্রিকার। বাভুমা বলেছেন, ‘অধিনায়কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে পারি, আলাদা করে কোনও পরিবর্তন করতে হয়নি। ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দিতে চাই। মাঠে নামলে বাকিদের বিভিন্ন বুদ্ধি দিতে চাই। সব সময়ে ব্যাপারটা এ রকমই থাকে।’
অবসর ভেঙে এক দিনের ক্রিকেটে ফিরেছেন কুইন্টন ডি’কক। পাকিস্তানে শতরানও করেছেন। তাঁকেই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ‘রো-কো’ বলে মনে করেন ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স। তিনি বলেছেন, ‘ওর উপস্থিতির অর্থ সাংঘাতিক। যেভাবে রোহিত এবং বিরাট ভারতকে শক্তিশালী করে তোলে, দক্ষিণ আফ্রিকা দলে তেমনই প্রভাব কুইনির। ওর অভিজ্ঞতা এবং পাকিস্তান যে মানের ক্রিকেট খেলেছে, তাতে সাজঘর আরও উদ্বুদ্ধ হয়েছে। আমাদের দলে কয়েকজন তরুণ বাঁ হাতি ক্রিকেটার রয়েছে। কুইনির সঙ্গে একসঙ্গে বসা, কথা বলা এবং ওর সঙ্গে ব্যাট করতে নামা ওই তরুণদের উন্নতির জন্য খুব প্রয়োজনীয়। আমাদের দলে কুইনির প্রভাব মারাত্মক।’
ভারত:দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যাচ শুরু দুপুর ১.৩০
India Vs South Africa
বিরাট, রোহিতের উপস্থিতি দলে আত্মবিশ্বাস ফেরায়, মত রাহুলের
×
Comments :0