বিশ্বনাথ সিংহ : রায়গঞ্জ
জঞ্জাল পরিষ্কারের সময় এসেছে। বদলে দিতে হবে জোড়া ফুল। যা হয়েছে তা ভুল হয়েছে, আবারও আস্থা ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতিক লালঝাণ্ডা ফিরিয়ে আনতেই হবে। মারাইকুড়া, ভাতঘরা ঘোষপাড়া, বাসতিপুর, ভিটি, কাটিহার মহারাজপুরের ফারুক, কালু, হানিফ, পচকটু, সেখ আলমদের গ্রাম খুঁজছে সিপিআই(এম)কে। ফের রায়গঞ্জের মানুষ চাইছে সিপিআই(এম)কে আঁকড়ে ধরে বাঁচাতে। চাইছে দুর্নীতিগ্রস্থ তৃণমূলে ও বিভাজনকারী বিজেপকে মূল থেকে উপড়ে ফেলতে।
মারাইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে লালঝাণ্ডার মিছিল দেখেই সংসারের কাজ মাঠের কাজ ফেলে কাদের মাস্টারের পাড়ায় জড়ো হন। প্রায় প্রত্যেকের হাতে ছিল নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কাগজ। ভোটের লিস্ট থেকে নাম বাদ গেছে বহু মানুষের। কার কাছে মনের কথা খুলে বলবে? কে শুনবে তাদের মনের কষ্টের কথা। রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাদের সমস্যের কথা শুনতেন সমাধান করার চেষ্টাও করতেন। তিনি অতিতে রাযজঞ্জের সাংসদ ছিলন। এখন তাঁর আর সংসদ পদ নেই, সেই কারণে কেউ তাদের দেখার নেই। এক নিশ্বাসে কথাগুলি বললেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা। বুধবার রায়গঞ্জের সিপিআই(এম) প্রার্থী জীবানন্দ সিংহ, পার্টি নেতা উত্তম পাল, প্রদ্যোৎ নারায়ণ ঘোষ এলাকায় পৌছাতেই তাদের কাছে পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন ফেললেন পারুল খাতুন(৩২)। তাঁর অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির অনেকের নাম কেটে দিয়েছে। মহম্মদ সেলিমের প্রচারে তাঁর স্বামী হানিফ অংশ নিয়েছিলেন। সেই আক্রোশেই তৃণমূল ইচ্ছেকৃত ভাবে হানিফের নাম কেটে দিয়েছে। বছর ৪০ শের হানিফ আলি গত পঞ্চায়েতে নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। তারআগে বিধানসভা লোকসভায়ও ভোট দিয়েছেন। তারপরেও তাঁর নাম কি কারণে কেটে দিয়েছে তা জানা যায়নি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সোমবার গভীর রাতে রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিচারাধীন, যোগ্য এবং অযোগ্য এই তিন ক্যাটাগরির সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতেই স্পষ্ট বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের স্ক্রুটিনি শেষে রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী উত্তর দিনাজপুরে বিচারাধীন ভোটর ছিলেন ৪ লক্ষ ৮০হাজার ৩৪১ জন। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের স্ক্রুটিনি শেষে ওই জেলায় যোগ্য ভোটার বলে বিবেচিত হয় ৩ লক্ষ ৩২ হাজর ৬১ জন। আর অযোগ্য বিবেচিত হয় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৭২জন ভোটার। ভোট দিতে পারবো তো? নাকি আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করছে দিদি আর মোদী? এই আশঙ্কায় এখনও রাজ্যে বাদ প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ঘিরে ধরছে। ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়াকে সাধারণ ও সংখ্যালঘু মানুষ’রা ষড়যন্ত্র করে ভোটে জেতার চক্রান্ত বলে মনে করছেন।
পেশায় বেসরকারি গাড়ি চালক ফারুক হোসেন। তাঁর স্ত্রী জুলেখা খাতুনের নাম উঠেছে, অথচ পাঁচ পাঁচ বার ভোট দেওয়ার পরেও ফারুক হোসেনের নাম নেই। ফৌজির নামও ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গেছে। ৬৪ নং ভাতঘড়া বুথে ১ হাজার ১৫ জন ভোটার তারমধ্যে ১৯২ জনের নাম বাদ পরেছে। এরা সকলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবার। কিভাবে নির্বাচন কমিশনের চোখে এঁরা সবাই অযোগ্য সেই প্রশ্নেই তাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ফৌজি সাইবুল হক(৪০) এখন শিলিগুড়ি বিন্নাগুড়িতে পোস্টিং। তাঁরও নাম বাদ গেছে তালিকা থেকে। রায়গঞ্জে বাদ অনেক ভোটার এদিন রায়গঞ্জের সিপিআই(এম) প্রার্থী জীবানন্দ সিংহ’কে বললেন, আসলে এসআইআরের নাম করে ষড়যন্ত্র করে মোদী আর মমতা আমাদের নাম বাদ দিয়েছে। সংখ্যালঘু, গরিব সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়েছে অনেক। এই মানুষ গুলো দিন আনে দিন খায়, কেউ হকারি করে, কেউ দিনমজুর আবার দোকানে কাজ করেন এমন মানুষও আছে। কাগজপত্র থাকা সত্বেও অসংখ্য মানুষের নাম বাদ যাবার ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। বহু মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য লাইন দিচ্ছেন উৎকন্ঠা নিয়েই।
এদিন গ্রামের প্রবীন কৃষক মহম্মদ পচকটু লালঝাণ্ডার মিছিলের স্লোগান শুনে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন, তাঁর বক্তব্য যতদিন রায়গঞ্জে সাংসদ ছিলেন মহম্মদ সেলিম কারো হিম্মত ছিলোনা টু শব্দ করার। আপদে বিপদে তিনি ছিলেন সে নেই আর বলারও কেউ নেই।
West Bengal Election 2026
ভোটাধিকার হারিয়ে ক্ষুব্ধ রায়গঞ্জ, পাশে চাইছে সিপিআই(এম)’কে
×
Comments :0