West Bengal Election Madarihat

দুই ‘ফুলে’র বঞ্চনায় জেরবার চা-বলয়, মাদারিহাটে বিকল্প কেবল লাল ঝান্ডাই

রাজ্য জেলা

উত্তরের হিমেল হাওয়ায় এখন চায়ের পাতায় কান পাতলে শুধুই শোনা যাচ্ছে বঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস। বীরপাড়া থেকে হান্টাপাড়া— মাদারিহাট ব্লকের বিস্তীর্ণ চা বলয়ে এখন ক্ষোভের আগুন। মালিকপক্ষের টালবাহানা আর শাসকদলের উদাসীনতায় মাসের পর মাস বকেয়া পড়ে রয়েছে শ্রমিকের ঘাম ঝরানো মজুরি। এই সাঁড়াশি চাপের মাঝে দাঁড়িয়ে বিকল্প রুটি-রুজির লড়াইয়ে কোমর বাঁধছে বামপন্থীরা। এবার এই কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত আরএসপি প্রার্থী হয়েছেন লড়াকু মুখ সুভাষ লোহার।
এলাকার প্রধান সমস্যাগুলি এখন মানুষের ক্ষোভের বারুদ। আজও চা শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বলবৎ করেনি রাজ্য সরকার। রেল কলোনির রাস্তা থেকে শুরু করে বাগান এলাকার অলিগলি— সংস্কারের অভাবে বেহাল। ‘জল স্বপ্ন’ প্রকল্প এখানে কেবল নামেই সীমাবদ্ধ; বহু জায়গায় কল বসলেও জল পড়ে না। পানীয় জলের হাহাকার আর পথবাতির অভাবে অন্ধকারে ডুবে থাকা জনপদই এখন মাদারিহাটের চেনা ছবি। বীরপাড়া চা বাগানের এক বয়স্ক শ্রমিক রাম অবতার ওঁরাও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন, ‘‘ভোট এলে দিদি আর মোদী— দুজনেই বাগানে আসেন। একজন বলেন পাট্টা দেব, অন্যজন বলেন বাগান খুলব। কিন্তু মাস শেষে আমাদের থালায় অন্ন জোটে না। পিএফ’র টাকা জমা পড়ে না। আমরা তো বাম আমলের সেই রেশন আর নিয়মিত মজুরির দিনগুলো ভুলিনি।’’ গোপালপুর চা বাগানের মহিলা শ্রমিক সুমতি লোহারের কণ্ঠেও একই সুর, ‘‘সরকার বলে ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দিয়েছে। অথচ আমাদের আধ কিলোমিটার দূর থেকে পানীয় জল বয়ে আনতে হয়। বিজেপি আর তৃণমূল কেবল ঝগড়া করে সময় নষ্ট করছে, আমাদের কথা ভাবার লোক নেই।’’
বিগত কয়েক বছরে দুই শাসকদলের দড়ি টানাটানিতে উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ভরসা রাখছেন ‘কোদাল-বেলচা’র ওপর। আরএসপি প্রার্থী সুভাষ লোহার প্রচারে বেরিয়ে বলেন, ‘‘আজ মাদারিহাটের চা শ্রমিকরা হাড়হিম করা সত্যটা বুঝতে পারছেন— তৃণমূল আর বিজেপি আসলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দিল্লির বিজেপি সরকার বাগান খোলার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়, আর রাজ্যের তৃণমূল সরকার মালিকদের পাহারা দেয়। বকেয়া মজুরি নিয়ে ওরা নাটক করছে।’’ 
আলিপুরদুয়ার জেলা সিপিআই (এম) নেতা জয়ন্ত বাড়াইক বলেন, ‘‘চা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতেই হবে। বকেয়া মজুরি আদায় এবং চা বাগানের হৃত গৌরব ফেরাতে বামফ্রন্ট প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দুই জনবিরোধী শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করুন।’’
মাদারিহাটের চা বাগানগুলোতে এখন একটাই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে— ‘‘পেটে নেই ভাত, বকেয়া কেন মজুরি? জবাব দাও বিজেপি-তৃণমূল, নইলে গদি ছাড়ো।’’ লড়াইয়ের ময়দান প্রস্তুত, এখন শুধু ব্যালট বাক্সে রায়ের অপেক্ষা।

Comments :0

Login to leave a comment