বাংলায় বুলডোজার আমদানির হুমকি মানুষ সহ্য করবে না। সামনের ৪ তারিখ বিজেপিকে ৫ শতাংশ নিয়েই বুলডোজার নিয়ে উত্তরপ্রদেশে ফিরে যেতে হবে। ১৪ সাল থেকে একের পর এক তৃণমূলের দুর্নীতিকে আড়াল ও পাহারা দিয়ে সারা দেশ জুড়ে ডাকাতি করে এখন বাংলায় এসে বিজেপি বলে কিনা ক্ষমতায় এলে বাংলার দুর্নীতির বিচার করবে, মহিলাদের প্রতি নির্যাতন ও ব্যভিচারের বিচার করবে ও নারী নিরাপত্তা দেবে। আমরা বামপন্থীরাই তৃণমূলের দুর্নীতি ও কাটমানি তোলাবাজি সংস্কৃতির পাশাপাশি বিজেপি ও তৃণমূলের ধর্মীয় জিগিরে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে রুটি রুজি সহ বাংলা জুড়ে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের দাবীর লড়াই করেছি। সেইসঙ্গে আগামী দিনে বিকল্প হিসাবে কি করব তার এজেন্ডা ও ইশতেহার নিয়ে এই বেহাল বাংলার হাল ফেরানোর লক্ষ্যে বামপন্থী সরকার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছি।সেখানে তৃণমূল ও বিজেপিকে এক ইঞ্চিও ছাড় নয়। এই কয়টা দিন আমাদের ইশতেহার নিয়ে বাড়ি বাড়ি, পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মানুষের হাতে তা তুলে দিতে হবে। এমন আহ্বান জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর সদর ও খড়্গপুর গ্রামীন দুই কেন্দ্রে দুইটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ।
সোমবার প্রখর রৌদ্রতাপ উপেক্ষা করে সকাল ১০টায় খড়্গপুর সদর কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী মধুসূদন রায়ের সমর্থনে খড়্গপুর শহরের ইন্দামোড়ে নির্বাচনী সমাবেশ হয়। বেলা ১২ টায় খড়্গপুর গ্রামীন কেন্দ্রে ঘাঘরাতে সিপিআই(এম) প্রার্থী এসকে. সাজাহান আলির সমর্থনে নির্বাচনী সমাবেশ হয়। দুইটি সমাবেশে শতরূপ ঘোষ সহ দুই প্রার্থী এবং বাম নেতৃত্ববৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ স্থলের সামনে এক আইস ক্রীম ফেরিওয়ালা অসীম রাও বলেন, মধু দা সাচ্চা আদমি। এই খড়্গপুরে বহুবার দাঙ্গা লাগানো হয়েছে। লাল ঝান্ডা মানুষ কে সঙ্গে নিয়ে সেই দাঙ্গার বিরুদ্ধে মধুদা সামনের সারিতে ছিল। সাত সকালে সাইকেলে করে গণশক্তি বিলি করেন সেই নয়ের দশক থেকে। গ্রাজুয়েট খড়্গপুর কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের ভিপি ছিলেন। অকৃতদার, পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী। পার্টির জেলা কমিটির সদস্য। কমিউনিস্ট আদর্শ ও ন্যায় নীতির ভাবমূর্তির এবং খড়্গপুর শহরে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষার ও বস্তিবাসী মানুষের দূর্ভোগ সহ সম্প্রতি তৃণমূলের রাজত্বে খড়্গপুর শহর লাগোয়া রড আইরন কারখানার দূষণে জেরবার ১৪ টি ওয়ার্ড তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব হয়ে ওঠা এমন এক মানুষের নাম আজ খড়্গপুর শহর জুড়ে। রেল নগরীতে তিনটি ওয়ার্কসপ আজ অকেজো হয়ে পড়ার মুখে। এক সময় ১৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। আজ ৬ হাজারের নীচে। রুটি রুজির সংকটে জর্জরিত রেল নগরী। মাফিয়ারাজ ও অন্ধকার জগতের মানুষকে লেলিয়ে দিয়েছে দুই শাসক দল । তৃণমূল ও বিজেপির কারনে ১৩ বার দাঙ্গা লাগানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বর্তমানে মানুষ চাইছেন নিরাপদে ভোট দিতে।
অপরদিকে খড়্গপুর গ্রামীন, বালি-মোরাম-বোল্ডার লুঠ সিন্ডিকেট মাফিয়া বাহিনীর কারনে কাঁসাই নদীর ভাঙন, প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রে আঘাত, দূষণ সহ দূর্নীতির বিরুদ্ধে কাজের দাবীতে খড়্গপুর গ্রামীন কেন্দ্রের বুথে বুথে মানুষ একজোট হয়ে লড়াই করছেন। এমন দুই কেন্দ্রে ভর দুপুরে দুই সমাবেশে শ্রমজীবী ও কৃষক ও ক্ষেতমজুর মানুষের উপস্থিতি নজর কাড়ে।
খড়্গপুর শহরের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বামনেতা সবুজ ঘোড়াই, বিপ্লব ভট্ট, কামরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন অমিতাভ দাস। খড়্গপুর গ্রামীন কেন্দ্রের ঘাঘরাতে বক্তব্য রাখেন মিহির পাহাড়ী এবং সভাপতিত্ব করেন দিলীপ সাহু।
assembly 2026 KHARAGPUR
"লড়াইয়ের ময়দানে তৃণমূল বিজেপিকে ইঞ্চিও ছাড় নয়", খড়্গপুরে শতরূপ ঘোষ
খড়্গপুর সদর কেন্দ্র সিপিআইএম প্রার্থী মধুসূদন রায় এর সমর্থনে খড়্গপুর শহরের ইন্দা মোড়ে সমাবেশ
×
Comments :0