Assembly election 2026 Barakpur

রাত পোহালেই ভোট, লাল চেনফ্ল্যাগে সাজানো হচ্ছে রাস্তা

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

বারাকপুর গ্ৰামীন এলাকার তেলেনীপাড়ায় আদিবাসী মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে চেন ফ্লাগ তৈরি করছে।

লাল পতাকায় সেজে উঠেছে বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পার্টি কর্মীরা লাল ঝান্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। বুথের একশো মিটারের নির্ধারণ করা সীমানার বাইরে লাল ঝান্ডা দিয়ে বুথ ক্যাম্প সাজানো হয়েছে। রাত পোহালেই নির্বাচন। মানুষ যেখান দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে সেই অঞ্চলটিকে লাল চেনফ্ল্যাগ  টানানো হয়েছে। 
নয়াবস্তি দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল। ভোটের আগে থেকেই মানুষ আতঙ্কে থাকতো। একটা লাল ঝান্ডা লাগানো যেতনা বহুদিন। আতঙ্ক কাটিয়ে নয়াবস্তির মানুষ দীর্ঘ পনেরো বছর পর লাল ঝান্ডা দিয়ে এলাকা মুড়ে দিয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সিপিআই(এম) প্রার্থীর ফ্লেক্স দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এবার মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্ৰীব হয়ে আছে। এখানে তৃণমূল মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। তৃণমূলের কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা এবার পিছু হটেছে। মানুষ উৎসাহ নিয়ে রাস্তায় নেমে এলাকা সাজিয়ে তুলতে হাত লাগিয়েছে।
জগদ্দল এলাকা আপাতত শান্ত আছে। নতুন করে কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। সমস্ত বুথে আধা সেনা দিয়েছে। মঙ্গলবার জগদ্দল এর ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের এনআইএ-র টিম প্রথমে ভাটপাড়া থানা ও পরে জগদ্দল থানায় যায়। গুলিবিদ্ধ জওয়ান এর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। মঙ্গলবার ধৃত তৃণমূলের প্রাক্তন পৌর প্রশাসক ও পৌর পারিষদ সদস্য গোপাল রাউত সহ চার জনকে বারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়। বারাকপুর আদালত বারো দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এখনও জগদ্দল এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে হালিশহর এলাকায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সেই ব্যাক্তি তৃণমূলের কর্মী, এমনটাই জানা গেছে। কে বা কারা গুলি করেছে সেই বিষয়ে ধোঁয়াশা আছে। সোমবার রাতে একটি গাড়ি করে চারজন যুবক আসে। তাদের মুখে মাস্ক ছিল। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। ঐ ব্যাক্তির পেটে গুলি লাগে।
কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, শ্যামনগর, ইছাপুর,পলতা, বারাকপুর পুরো এলাকায় লালঝান্ডা ও চেন ফ্লাগ দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুথের একশো মিটারের নির্ধারণ করা সীমানার বাইরে বুথ ক্যাম্প হয়েছে। বারাকপুর গ্ৰামীন এলাকার তেলেনীপাড়ায় আদিবাসী মহিলারা চেন ফ্লাগ বানানোর কাজে হাত লাগিয়েছে। টিটাগড় এলাকা আপাতত শান্ত আছে। পুরো বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পার্টি কর্মীরা কাজ করছে। ভোটের দিন বুথ রক্ষা করে জানকবুল লড়াই করতে বারাকপুর নয়াবস্তির মানুষ রাস্তায় নেমেছে। 

Comments :0

Login to leave a comment