First Phase Murshidabad

প্রথম দফা: লড়াকু মেজাজে ভোট মহিলাদের, ভোটার স্লিপ জেরক্সের ভিড়

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

ডোমকলের একটিট কেন্দ্রে মহিলারা। ছবি ও ভিডিও প্রিতম ঘোষ

অরিজিৎ মণ্ডল: বহরমপুর

বামপন্থার পুনরুত্থানের লক্ষ্য জানিয়ে বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ে নেমেছেন সিপিআই(এম) সহ বামপন্থীরা। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে ডোমকল, রানিনগরের মানুষের মেজাজ সেই বামপন্থার পুনরুত্থানের ভিতকে শক্ত করল। 
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়েছে রাজ্যে। তার মধ্যে ছিল মুর্শিদাবাদও। দেখা গিয়েছে তৃণমূলের হুমকি উপেক্ষা করে জোটবদ্ধ ভাবে গ্রামের মানুষ গেলেন ভোট কেন্দ্রে। ফিরলেনও সবাই একসঙ্গে। প্রায় এক দশক পর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সাধ পূরণ করলেন ডোমকলের রায়পুর অঞ্চলের বাসিন্দারা। ২০১৪ নির্বাচনের পর তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না। 


গতকাল, বুধবার, রাতে ডোমকল বিধানসভার রায়পুর অঞ্চলে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দুই সিপিআই(এম) কর্মী, সম্পর্কে বাবা ও ছেলেকে, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত যুবকের স্ত্রী জানাচ্ছেন, ‘‘রানার হয়ে ভোট করার জন্যই তাদের ওপর এই আক্রমণ করা হয়েছে।’’ ডোমকলের সিপিআই(এম) প্রার্থী মোস্তাফিজু রহমান এখানে রানা নামেই পরিচিত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদেরকে ভর্তি করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল হাসপাতালে। তারপর থেকেই এলাকা থমথমে সকাল থেকেই হুমকি দিচ্ছে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। 
বৃহস্পতিবার, প্রথম দফার ভোটের দিন, সকালে পাশে পাওয়া যায়নি কেন্দ্রীয় বাহিনী বা পুলিশকেও। সংবাদমাধ্যম সেখানে পৌঁছাতেই সেই হুমকির কথা তুলে ধরেন মহিলারা। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও করেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের প্রত্যয় দেখে বিশাল পুলিশ বাহিনী বাধ্য হয় তাঁদেরকে সুরক্ষা দিয়ে বুথ কেন্দ্রে নিয়ে যেতে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানসহ তাঁদেরকে নিজেদের এলাকায় ফিরিয়েও দেওয়া হয়। 
এই গ্রামবাসীরা যখন রায়পুর হাই স্কুলে ভোট দিচ্ছেন সেই সময় আসেন ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবিরের সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। এক গ্রামবাসী হুমায়ুন কবিরকে সরাসরি বলেন, ‘আপনার লোক, তৃণমূলের লোকজন আমাদের মারল। এখনও রক্ত পড়ে রয়েছে।‘ এই মেজাজ দেখে কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই এলাকা ছাড়েন তৃণমূল প্রার্থী। 
শুধু ডোমকলই নয় রানিনগরেও প্রত্যয়ের সঙ্গে লড়েছে বামপন্থীরা। একাধিক সন্ত্রাস কবলিত এলাকা, যেমন, লোচনপুর ঘুপসি ও পাহাড়পুর ভোট হয়েছে নির্বিঘ্নে। সকাল থেকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন সুবিধাই করে উঠতে পারিনি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সকাল থেকে কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ জ্যাম করার চেষ্টা চলেছে। নির্বাচন কমিশন কে অভিযোগ জানালে কুইক রেসপন্স টিম সেখানে গিয়ে অবৈধ জমায়েত সরিয়েও দিয়েছে। 


সিপিআই(এম) প্রার্থী জামাল হোসেন এদিন জানালেন নির্বাচন কমিশন কম বেশি ভালোই কাজ করেছে। অভিযোগ জানালে পৌঁছে জমায়েত সরিয়ে দিয়েছে। লোচোনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বুথে তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন পৌঁছানোর সময় ওই গ্রাম পঞ্চায়েতেরই তৃণমূলের সভাপতি অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করার হুমকি দিয়েছে। 
নজিরবিহীন ভাবে প্রথম দফায় সব জেলাতেই প্রায় ৯০% এরও বেশি ভোট পোল হয়েছে। একদিকে এফআইআর পরবর্তী সময়ে নাম বাদ যাওয়ার ভয়ে যেমন রয়েছে একইভাবে রয়েছে এনআরসির দুশ্চিন্তাও। 
বহু জায়গায় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটার স্লিপ জেরক্স করে রেখে দিচ্ছেন অনেকে। তাঁদের মত, যদি ভবিষ্যতে এনআরসি হয় তাহলে প্রমাণ স্বরূপ এই কাগজ দেখানো যাবে। ভয় ও আতঙ্ক মানুষকে ভোটের লাইনে দাঁড় করিয়েও তাদের পিছু ছাড়েনি।

Comments :0

Login to leave a comment