SIR

চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ কমিশনের

রাজ্য

ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটারের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে সাসপেন্ড চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ পাঠালো নির্বাচন কমিশন। আগস্টে সাসপেন্ড হওয়া চার আধিকারিককে নিয়ে রাজ্য প্রশাসনে যথেষ্টই জলঘোলা হয়েছিল। এখন এসআইআর পর্বে কমিশন চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশে ফের রাজ্য কমিশন সঙ্ঘাতের নয়া পথ খুলে দিল। কমিশনের এক শীর্ষ সূত্রের ব্যাখ্যা, চার আধিকারিক এসআইআর শুরু হওয়ার আগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এসআইআর পর্বে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ রাজ্যের বাকি আধিকারিকদের কাছে বার্তা দিয়ে রাখতে চাইলো কমিশন। 
শুক্রবারই দিল্লি থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্রের চিঠি এসে পৌঁছেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে। কমিশনের সদর দপ্তর থেকে সিইও’কে লেখা চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এখনই জেলাশাসক(জেলা নির্বাচনী আধিকারিক)দের নির্দেশ দিয়ে অভিযুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার। মনোজ আগরওয়ালকে নির্দেশের চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে,‘‘এখনই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের অবিলম্বে চার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার। ১৯৫০ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ নং ধারা, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের উপযুক্ত ধারার সঙ্গে ২০০০ সালের ইনফরমেশন টেকনোলজি আইনের যে ধারা প্রযোজ্য তা মেনে এফআইআর করতে হবে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছ থেকে এফআইআর করা নিয়ে কোনো গাফলতি হলে কমিশন তা কড়াভাবে গ্রহণ করবে।’’ এফআইআর নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো তার রিপোর্ট দ্রুততার সঙ্গে কমিশনের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে এফআইআর করতে হবে বারুইপুর পূর্বের তৎকালীন ইআরও ২০১২ সালের ডব্লিউবিসিএস(এক্সিকিউটিভ) অফিসার দেবত্তম দত্ত চৌধুরী ও এইআরও তথাগত মন্ডলের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের তৎকালীন ইআরও ২০১২ সালের ডব্লিউবিসিএস(এক্সিকিউটিভ) অফিসার বিপ্লব সরকার ও এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ভোটার তালিকায় একাধিক ভুয়ো ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্রের অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও। কমিশন সরকারি চার আধিকারিকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছে। সেই নির্দেশকে এড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন আর রাজ্যের হাতে নেই। ফলে এই অবস্থায় রাজ্য প্রশাসন বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী কী ভূমিকা নেন, সেটাই দেখার। গত বুধবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। সাক্ষাতের পর সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়ে এসেছিলেন। শাসকদলের সরকারি এক্স হ্যান্ডেল থেকে লাগাতার নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিষোদগার চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিনই বারুইপুরে সভা করেন অভিষেক ব্যানার্জি। 
তারপরেই নয়াদিল্লির কমিশনের সদর দপ্তর থেকে রাজ্য প্রশাসনের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ পাঠালো কমিশন। রাজ্যে এসআইআর শুরু হওয়ার আগে গত আগস্ট মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পূর্ব বারুইপুর ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে তদন্ত করে ভুয়ো ভোটারের সন্ধান পেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ময়না কেন্দ্রে ৮৭ ও বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্রে ৩৮ জন ভুয়ো ভোটারের সন্ধান পেয়েছিল কমিশন। ওই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও’দের (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশান অফিসার) তলব করেছিল কমিশন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সেই রিপোর্ট কমিশনের সিইও দপ্তর থেকে পাঠানো হয়েছিল দিল্লিতে। তার ভিত্তিতেই চার আধিকারিকে সাসপেন্ড করে এফআইআর করার জন্য মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের কাছে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই নির্দেশকে মান্যতা শুরু দেয়নি রাজ্য সরকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দলীয় জনসভা থেকে কোনো আধিকারিককে শাস্তি হতে দেব না ঘোষণাও করে রেখেছিলেন। 
শেষ পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনের তলব পেয়ে গত আগস্টেই দিল্লি যেতে হয়েছিল রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিবকে। তবে এফআইআর না করে চার আধিকারিককে গত ২০ আগস্ট সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত করা হচ্ছে বলে কমিশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছিল নবান্ন। গত নভেম্বর থেকে রাজ্যে পুরোদমে এসআইআর শুরু হয়েছে। ফলে এখন কমিশন সিইও মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়ে রাখলো। একইসঙ্গে রাজ্যের নয়া মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে সেই নির্দেশিকার কপি পাঠিয়ে দিয়েছে কমিশন।
 

Comments :0

Login to leave a comment