Amit Shah

জুমলায় ভুলবেন না মানুষ, অমিত শাহের প্রচারে পালটা তথ্য বাম নেতৃত্বের

রাজ্য জেলা

উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের প্রচার ঘিরে পালটা প্রশ্ন তুললেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। 
বুধবার উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ও আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ও কোচবিহারের তুফানগঞ্জে নির্বাচনী সভা করেছেন শাহ। পাহাড়ের জন্য বলেছেন যে বিভিন্ন সময়ে যাদের নামে মামলা হয়েছে বিজেপি সরকার গড়লে তা প্রত্যাহার করা হবে।
আবার চা বাগানে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অমিত শাহ। 
এদিনই সাংবাদিক সম্মেলনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, লাদাখে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াঙচুককে গ্রেপ্তার করেছে এই বিজেপি সরকারই। তাঁকে জেলে ভরেছে। অথচ এরা বলেছিল ৩৭০ ধারা বাতিল করে লাদাখের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিজেপি কেন্দ্রে আসার পর আদিবাসী, তফসিলি মানুষকে আন্দোলনের দায়ে জেলে পুরেছে। জেলবন্দি অবস্থায় মৃত্যুও হয়েছে।  
এদিকে রাজগঞ্চে সিপিআই(এম) প্রার্থী খরেন্দ্রনাথ রায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচারকে 'ভণ্ডামি ও ভাঁওতাবাজির নামান্তর' বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। শাহের দেওয়া ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরি ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে নিছকই নির্বাচনী গিমিক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, "বিজেপি ও তৃণমূল— দু’দলই বিভাজনের কারিগর। পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বাইরে চলে যেতে হচ্ছে এই এলাকার যুবদের। তার জন্য দায়ী দু’দলই।
নির্বাচনী সভায় অমিত শাহ দাবি করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে চা শ্রমিকদের হাজিরা ৫০০ টাকার উপরে করা হবে। 
খরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, "কেন্দ্রের বিজেপি সরকার গত ১২ বছরে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে কোনো আইন করেনি। বন্ধ চা বাগান খোলা বা শ্রমিকদের জমির পাট্টা দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রের কোনো হেলদোল নেই। ভোটের আগে ৫০০ টাকার টোপ দেওয়া আসলে এক বড়সড় 'জুমলা' ছাড়া আর কিছুই নয়। চা বাগান অধিগ্রহণো করেনি কেন্দ্র।"
উত্তরবঙ্গে এইমস ও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার যে প্রতিশ্রুতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন, তাকেও এদিন একহাত নেন নেতৃত্ব। 
সিপিআই(এম) রাজগঞ্জ এরিয়া কমিটির সম্পাদক রতন রায় মনে করিয়ে দেন যে এর আগেও একাধিকবার এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য ও কেন্দ্র— উভয়েই উত্তরবঙ্গকে কেবল ভোটের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। কর্মসংস্থান বা পরিকাঠামো উন্নয়নে দুই সরকারই সমানভাবে ব্যর্থ।
অনুপ্রবেশ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শাহের মন্তব্য প্রসঙ্গে বাম নেতাদের বক্তব্য, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর। সেখানে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই মেরুকরণের রাজনীতিকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে তৃণমূলের 'গুন্ডারাজ', অন্যদিকে বিজেপির 'সাম্প্রদায়িক বিভাজন'— এই সাঁড়াশি আক্রমণ থেকে রাজগঞ্জের মানুষকে রক্ষা করতে লাল ঝাণ্ডাই একমাত্র বিকল্প। 
রতন রায় জোর দিয়ে বলেন, "বিনামূল্যে বাস বা জাদুকরী প্রতিশ্রুতিতে মানুষ আর ভুলবে না। রুটি-রুজি ও শ্রমের অধিকার বুঝে নিতে রাজগঞ্জের মানুষ লাল ঝাণ্ডার তলাতেই সমবেত হচ্ছেন।"
বিজেপি’র কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিতেও প্রশ্ন তুলেছেন বামপন্থীরা। ২০১৪-তে বছরে ২ কোটি কাজ, ব্যাঙ্কে ১৫ লক্ষ টাকার মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসেছিল বিজেপি। ২০১৬-১৭ সালে, দেশে গ্রামীণ বা শহুরে এলাকায় কৃষি থেকে শিল্প ও পরিষেবা পর্যন্ত সব ধরনের কাজে যুক্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪১.২৭ কোটি। ২০২২-২৩ সালে, এই সংখ্যা কমে ৪০.৫৭ কোটিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৭০ লক্ষেরও বেশি কাজ কমে গিয়েছে। সিএমআইই-এর সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। করোনার ঠিক আগেই স্বাধীন দেশে বেকারির হার সর্বোচ্চ হয়েছিল এই মোদী সরকারের সময়েই।

Comments :0

Login to leave a comment