ED Raids

কলকাতা পুলিশ কর্তা ও ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডি’র তল্লাশি

রাজ্য

শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনী।

ভোটের আবহে ফের সক্রিয় ইডি। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার এবং বেহালার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালালো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। রবিবার খুব সকালে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডির আধিকারিকরা। প্রথমে জয় কামদারের বাড়ির দরজা না খোলায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকদের। পরে দরজা খুললে শুরু হয় তল্লাশি। এদিন সকালে বেহালার প্রোমোটার সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডির আধিকারিকরা। পরে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। বেহালার প্রোমোটারের পাশাপাশি বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ইডি। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক শান্তুনু সিনহার বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি’র আধিকারিকরা। 
ইডি সূত্রে খবর সম্প্রতি কসবার সোনা পাপ্পু’র বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি আধিকারিকেরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পান। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ও বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের নাম। এর আগেও প্রোমোটারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর নগদ উদ্ধার হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি তাঁকে দু’বার তলবও করেছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। রবিবার সকালে ইডি আধিকারিকেরা তাঁর বাড়িতে তল্লশি চালায়। এদিন পৌনে সাতটা নাগাদ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সবারই ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। বাড়িতেই ছিলেন জয় কামদার। ১১টা নাগাদ জয় এস কামদারকে আটক করে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ইডি আধিকারিকরা। সেখানে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ইডি সূত্রের খবর। এদিন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের আবাসনে তল্লাশি চালায় ইডির আধিকারিকার। পুলিশের এই আধিকারিক কালীঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের বাসভবনে খুব সকালে পৌঁছে যায় ইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইসও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারি সংস্থা সূত্রে খবর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরেই এদিন শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে অভিযান। যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনও বিস্তারিত কিছু না জানালেও তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইডির কলকাতা শাখা এই অভিযানগুলো চালিয়েছে। কলকাতা ডিএসপি এবং সান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয় কামদারের সঙ্গে যুক্ত তিনটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। এই স্থানগুলোর মধ্যে দুটি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের এবং একটি জয় কামদারের। সোনা পাপ্পু ও জয় কামদার মামলায় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে।
গত ১ এপ্রিল কলকাতা জুড়ে আটটি স্থানে ইডি’র তল্লাশি অভিযানের প্রায় ১৮ দিন পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো। সেই মামলায় বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে "সোনা পাপ্পু", জয় এস কামদার এবং অন্যান্যরা জড়িত ছিলেন। সেই তল্লাশির সময় ১.৪৭ কোটি টাকা নগদ, ৬৭.৬৪ লক্ষ টাকার সোনা-রুপার গয়না, সেইসাথে বেশ কিছু আপত্তিকর নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছিল। ইডি সূ্ত্র জানিয়েছে, জমি ও বাড়ি সহ বেশ কিছু স্থাবর সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
সেই সময় আধিকারিকার 'সোনা পাপ্পু'র ব্যবহৃত একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেন। এছাড়াও, কলকাতার ফার্ন রোডে 'সোনা পাপ্পুর' বাড়ি থেকে "মেড ইন ইউএসএ" লেখা একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। বন্দুকটি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 
ইডি’র সূ্ত্রে খবর রাজ্য পুলিশের দায়ের করা একাধিক এফআইআর’র ভিত্তিতে ‘সোনা পাপ্পু’ ও অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই এফআইআরগুলি ১৮৬০ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ১৯৫৯ সালের অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। 

Comments :0

Login to leave a comment