প্রকৃতি লুট প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন গবেষণা চর্চার। তা নিয়ে ফিরে যাওয়া দরকার মানুষের কাছে।
রবিবার জ্যোতি বসু সমাজচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মেদিনীপুর শহরের শ্যাম সঙ্ঘে হয়েছে 'জল জমি জঙ্গল' শীর্ষক আলোচনাচক্রে এই প্রয়োজন উঠে এসেছে।
এর আগে এই গবেষণা কেন্দ্র আয়োজন করেছিল উত্তরবঙ্গে পরিবেশ এবং জীবিকা বিষয়ক বিশদ আলোচনা চক্র। উঠে এসেছে পরিবেশ লুটের এবং প্রতিরোধের নানা অভিজ্ঞতা।
আলোচনা শুনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা ডাঃ সূর্যকান্ত মিশ্র। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পুরুলিয়ার জলধর কর্মকার, বাঁকুড়ার সুপ্রকাশ চৌধুরী, খনি আন্দোলনের নেতা গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, পশ্চিম মেদিনীপুরের সমর মুখার্জি, অধ্যাপক প্রণব কুমার সাহু, ঝাড়গ্রাম ও প্রসূন রায়। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন দেবাশিস চক্রবর্তী। লিখিত গবেষণা পত্র পেশ করেন অধ্যাপক সুকুমার মুর্মু।
সূর্য মিশ্র বলেন, পড়া এবং শোনা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আমি যা পড়েছি, যে তত্ত্ব জেনেছি তা প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োগ করতে গেলে মানুষ কী বলছেন শুনতে হবে।
তিনি বলেন, এই উপলব্ধি খুব জরুরি মানুষের থেকে শোনা জ্ঞানচর্চার পথে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আসল কথা হচ্ছে মানুষ। বারবার মানুষের কাছে ফিরে যেতে হবে।
মিশ্র বলেন, সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে অসমতা আছে কেবল নয়, বাড়ছে। এটাও আমরা জানি চিরকাল সমাজ এমন ছিল না। এমন সমাজ ছিল যেখানে সমতা ছিল। আবার সমতার সমাজে ফিরে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষই পারে ইতিহাস তৈরি করতে। কয়েকজন নেতা, কিছু বীর, বা সেনাবাহিনী ইতিহাস তৈরি করে না। সেই মানুষ যখন অসমতার শিকার তাঁদের কাছে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা জরুরি। তা না হলে আমাদের বোঝাপড়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি বলেন, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ১৯ হাজার ২১৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার সঙ্গে ডেউচা পাঁচামী কয়লা অঞ্চল প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার বা প্রায় ৮ শতাংশ। তার সঙ্গে জল, জমি, জঙ্গলের সম্পর্ক আছে। যেখানে খনন হয় জঙ্গল এলাকায়। কারা থাকেন? মুখ্যত জনজাতি আদিবাসী মানুষ বেশি থাকেন। খননের সঙ্গে বাসিন্দা এবং পরিবেশের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন তিনি।
তিনি বলেন, মাটিতে ২ শতাংশ লোহা না থাকলে পলাশ গাছ হবে না। খননের কারণে অনেক জায়গায় লোহা কমে যাচ্ছে বলে পলাশ গাছ উবে যাচ্ছে। আবার আকুন্দ গাছ মিথেন ছাড়া বাঁচে না। ফলে আকুন্দ গাছ থাকলে ধরে নেওয়া হয় মাটির তলায় কয়লা আছে। তিনি বলেন, ভারতে খননের জন্য যত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তার ৫৫.১৬ শতাংশ আদিবাসী।
Comments :0