আসানসোল কর্পোরেশন এলাকার রানিগঞ্জ বরো দপ্তরের অন্তর্ভুক্ত ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়মিত জল সরবরাহের দাবিতে পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
অবরোধকারীরা জানান, মঙ্গলপুর গ্রামে সপ্তাহে মাত্র দু'দিন জল সরবরাহ হয়। বারবার বরো অফিসে, আসানসোল কর্পোরেশন ও তৃণমূলের বিধায়ককে জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
এদিন জল সঙ্কট মেটানোর দাবিতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডের ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত রানিগঞ্জের মঙ্গলপুর মোড় অবরোধ করে ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে বিক্ষোভ।
এলাকার মানুষজনের দাবি, মঙ্গলপুর শিল্পতালুকের কল কারখানা থেকে মাত্রাতিরিক্ত দূষণ ছড়াচ্ছে। বায়ু দূষণ ও শব্দ দূষণের জেরে এলাকায় চরম দুর্ভোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলের সঙ্কট।
মহিলারা জানান, দু কিলোমিটার হেঁটে রোনাই এলাকা থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। জলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তা-ও পর্যাপ্ত নয়। সিপিআই(এম) রানিগঞ্জ এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে সমস্ত ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পানীয় জলের দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। কর্পোরেশন, প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই।
এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, কারখানার ধুলোর আস্তরণে ঢেকে গিয়েছে সারা এলাকা, বেশিরভাগ পুকুর জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি সরকারি কুয়োর জলস্তর কমে তলানিতে ঠেকেছে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। মঙ্গলপুর গ্রামের পানীয় জলের একমাত্র ভরসা পিএইচই'র জল। রবিবার সকালে মঙ্গলপুর মোড় অবরোধের খবর পেয়ে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, রানিগঞ্জ বরো চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। পুলিশ এসে পরিস্থিতির সামাল দেয়।
স্থানীয় মানুষেরা একযোগে বলেন, গ্রীষ্মের শুরুতে যদি পানীয় জলের সংকট শুরু হয় তাহলে গরমের তীব্রতা বাড়লে ভয়ংকর পরিস্থিতি হবে। জল সঙ্কট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ট্যাঙ্কারে জল সরবরাহের আশ্বাস দিলে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। পরে করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে জল পাঠানো হয়েছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দেয়, মঙ্গলপুর গ্রামে জল সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।
Water Crisis Raniganj
জল নেই, রানিগঞ্জে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল নেতারা, জল তেলের ট্যাঙ্কারে
(ওপরে) জলের দাবিতে বিক্ষোভ রানিগঞ্জের মঙ্গলপুরে। (নিচে) জল এল তেলের ট্যাঙ্কারে। ছবি: মলয়কান্তি মণ্ডল
×
Comments :0