বিজেপি এখন ব্যস্ত তৃণমূলের হাত থেকে পেছন দরজা দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত আর পৌরসভার দখল নিতে। অথচ গ্রাম ও শহরে পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছে না বাসিন্দারা।সেদিকে নজর নেই বিজেপির সদ্য ক্ষমতার দখল নেওয়া নেতাদের!
সরকাতি প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সৌর বিদ্যুৎ নিয়ত্রিত পরিস্রুত পানীয় জল ঘরে ঘরে দেবার ব্যবস্থা হয়েছিল মাথাভাঙার নিশিগঞ্জে। কিন্তু এক সঙ্গে বিকল হয়ে আছে ৭ টি পাম্প মেশিন। পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন লক্ষাধিক মানুষ। অভিযোগ পাম্প মেরামতের দায়িত্ব নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসনের কেউই। নিশিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দিনহাটা পৌরসভা সর্বত্র একই চিত্র।
নিশিগঞ্জের পানীয় জলের পাম্পগুলি তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আছে বেশ কিছুদিন। ক্ষোভ বাড়ছে নিশিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রক্ষানাবেক্ষণের অভাবেই পাম্প নষ্ট হয়েছে। মেরামতির উদ্যোগও নেই।
নিশিগঞ্জের সিটকিবাড়ির হিমঘর লাগোয়া এলাকায় প্রায় তিন বছর আগে বসেছিল সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানীয় জলের প্রকল্প। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন উদ্বোধনের পর বড়জোর ৬ মাস জল মিলেছে। তারপর আর জল মিলছে না। মেরামত ও হয় নি। মনে করা হচ্ছে পড়ে থেকে সব নষ্ট হয়েছে। এখন আর মেরামত সম্ভব নয়।
গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিলের বরাদ্দে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩৫ টি সৌর বিদ্যুৎ পরিচালিত পানীয় জলের প্রকল্প হয়েছিল। এই মুহুর্তে সিটকিবাড়ি, পশ্চিম ভোজনেরছড়া, সোনাতলি সহ সাত গ্রামে এখন আর পানীয় জল মেলে না। গ্রাম পঞ্চায়েতের বাকি এলাকার প্রকল্পগুলিও স্বাভাবিক গতিতে কাজ করছে না।
সূত্রের খবর যে সংস্থা এই পাম্পগুলি বসিয়েছিল তাদের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল না। গ্রাম পঞ্চায়েতের ফান্ড শূন্য। ফলে মেরামতির টাকা মিলবে কোথা থেকে। ফলে পুরো প্রকল্পই সাধারণের কাজে আসছে না।
এদিকে প্রকল্প বন্ধ থাকায় পরিস্রুত পানীয় জল মিলছে না।জল- জীবন মিশনের কাজও হয় নি।ফলে গ্রামীণ এলাকার ভরসা অগভীর নলকূপের আয়রন যুক্ত জল।সিটকিবাড়ির বাসিন্দা অতুল রায় বলেন, যদি প্রকল্পটি রক্ষনাবেক্ষণ হত তবে পানীয় জলটুকু মিলতো। ফলে গ্রামের কোনবাড়িতেই আর পরিস্রুত পানীয় জল নেই।আরেক বাসিন্দা শম্পা রায় বলেন, আয়রন যুক্ত জল খেয়ে শিশু ও বৃদ্ধদের পেটের রোগ হচ্ছে। অনেকেই দূর থেকে সাইকেলে করে গিয়ে দু- এক বালতি পানীয় জল এনে খাচ্ছেন। যদি এক ফোঁটা পরিশ্রুত পানীয় জলই না মেলে তবে জনগনের ট্যাক্সের টাকা অপচয়ের অর্থ কি?
দিনহাটা পৌর এলাকায় ২০২৩ সালে আম্রুত জল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। যথেচ্ছ খোঁড়াখুড়ি করে বসানো শুরু হয়েছিল পাইপ লাইন। আর তাতেই বিপত্তি ঘটেছে। পুরোনা পাইপ লাইন ভেঙে দফারফা। আম্রুত প্রকল্পের কাজও চলছে ঢিমেতালে। এদিকে শহরের ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডে পানীয় জল পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। শহরের সব ওয়ার্ডেই পানীয় জলের সংকটের কথা মানছেন পৌরপ্রধান অপর্ণা দে নন্দীও। কবে মিটবে সমস্যা সেটা অবশ্য তিনি বলেন নি।
পুজোর দিনগুলিতেও পুজোর প্যান্ডেলে নয় পানীয় জল সংগ্রহেই নজর থাকবে নাগরিকদের।
গ্রাম কিংবা শহরে পরিশ্রুত পানীয় জলের হাহাকার নিয়ে অবশ্য মাথাব্যাথা নেই শাসক বিজেপি দলের। তৃণমূলের পঞ্চায়েত বোর্ড এখন বিজেপির দখলে। পেছন দরজা দিয়ে প্রধানের চেয়ারে বসেছেন, অমর দেব সিংহ। তিনি বলেন, আমি সবে দায়িত্ব নিয়েছি। দেখছি কি ভাবে সমস্যা মেটানো যায়।
Water Crisis
পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত নিশিগঞ্জ- দিনহাটার লক্ষাধিক মানুষ
×
Comments :0