Land Erosion Basudebpur

এগিয়ে আসছে ভাগীরথীর ‘ডিপ চ্যানেল’, নতুন ভাঙনে তীব্র শঙ্কা হাওড়ার বাসুদেবপুরে

জেলা

শ্যামপুরের পূর্ব বাসুদেবপুরের নদীবাঁধ। ছবি: মনিরুল হক

নদী যেন ক্রমশ এগিয়ে আসছে লোকালয়ের দিকে। ফের ভয়াবহ নদীভাঙনের সাক্ষী থাকল শ্যামপুরের পূর্ব বাসুদেবপুর। এবারের ভাঙনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ নদীর ‘ডিপ চ্যানেল’।
ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ে নদীবাঁধের একটি বড় অংশ, শনিবার সন্ধ্যায়, আচমকাই নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। 
রবিবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। 
১৩ দিন আগেই পূর্ব বাসুদেবপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ২০০ ফুট বাঁধ-সহ রাস্তার অংশ নদীগর্ভে চলে যায়।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মাত্র দেড় বছর আগেও পূর্ব বাসুদেবপুরের পশ্চিম পাড় থেকে ভাগীরথীর ‘ডিপ চ্যানেলের‘ দূরত্ব ছিল প্রায় ৫৫০ ফুট। বর্তমানে সেই দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩০ ফুটে। অর্থাৎ, নদীর গভীর স্রোতের চ্যানেলটি পাড়ের দিকে আরও এগিয়ে এসেছে। আর তার জেরেই বাঁধের উপর স্রোতের চাপ ভয়াবহভাবে বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পূর্ব বাসুদেবপুরে নদীভাঙন কোনও নতুন ঘটনা নয়। ২০২২ সালে এই এলাকাতেই প্রায় ১৫০ মিটার নদীবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গিয়েছিল। এরপর সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে শাল-বল্লা, বোল্ডার পিচিং-সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হয়। কিন্তু তাতেও স্থায়ীভাবে থামেনি নদীর ক্ষয়। পরবর্তী সময়ে পূর্ব বাসুদেবপুর থেকে গাদিয়াড়া পর্যন্ত হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ ভাঙনপ্রবণ হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের শুরুতে ‘সার্কুলার সসেজ লঞ্চিং’ পদ্ধতিতে ইটভর্তি তারের খাঁচা নদীতে ফেলে পাড় রক্ষার কাজ শুরু হয়। উদ্দেশ্য ছিল নদীর স্রোতের ধাক্কা কমানো এবং পাড়ের সামনে প্রতিরোধ তৈরি করা। ১৩ দিন আগে ভাঙনের পর জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের খাঁচায় ইট ভরে নদীর পাড়ে ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই ক্ষত পুরোপুরি সামলে ওঠার আগেই শনিবার সন্ধ্যায় ফের নদীবাঁধের একটি বড় অংশ নদীতে তলিয়ে গেল।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নদীর অন্য পাড়ে পলি জমে চর তৈরি হয়েছে। বড় জাহাজ চলাচলের কারণে তৈরি ঢেউও পশ্চিম পাড়ের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। নদীর ড্রেজিং নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
পূর্ব বাসুদেবপুরের সাম্প্রতিক ভাঙনের প্রেক্ষিতে আগামী সোমবার রাজ্য সেচ দফতরের সঙ্গে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 
ফলে প্রশ্ন উঠছে, শুধু অস্থায়ীভাবে বাঁধ সামলানো নয়, নদীর গতিপথ ও ডিপ চ্যানেলের পরিবর্তনকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি কোনও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা কি নেওয়া হবে?

Comments :0

Login to leave a comment