PM Modi In West Bengal

বাঁকুড়া- পুরুলিয়ায় মোদীর মুখে নারী সুরক্ষার গ্যারান্টি!

রাজ্য জেলা

একদিকে নারী সুরক্ষার গ্যারান্টি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী অন্যদিকে এখনও আরজি কর হাসপাতালে পড়ুয়া মহিলা চিকিৎসকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে পারে নি কেন্দ্র সরকারের তত্ত্বাবধানে চলা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মহিলা সংরক্ষণের বিল পাশ হয়ে গিয়েছিল দু’বছর আগেই। তাতেই সংশোধন করে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে চেয়েছিলেন। লোকসভায় ধাক্কা খাওয়ার পর ভোটের আগে সেই অজুহাত শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণে সরাসরি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে আক্রমণ করে বিধানসভা ভোটের আগে মোদী বলেন, ‘নারীরা এই অপমান ভুলে যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শনে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করায় সিপিআই(এম) নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের জন্য এই সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করা আদর্শ আচরণবিধির লঙ্ঘনের কারণে সিপিআই(এম) নির্বাচন কমিশনে এই অভিযোগ দায়ের করেছে। আচরণবিধির লঙ্ঘনের দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। 
রবিবারের প্রচারে বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভা ছিল। ডিলিমিটেশন ধাক্কা খেয়ে সেখানেও অজুহাত করে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় হুংকার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, ২০২৯ সালে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হওয়া আটকাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছে। টিএমসি এবং কংগ্রেস উভয়ই আদিবাসী-বিরোধী এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দ্রৌপদী মুর্মুর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছিল। টিএমসি অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা দিতে প্রতিটি আইন ভঙ্গ করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেয়, তারাই নারী ক্ষমতায়নের বিরোধিতা করে। টিএমসি কুর্মি সম্প্রদায়ের অভিযোগ শোনে না, বরং নিজেদের ভোটব্যাঙ্ককে বাড়াতে চায়। যদিও ২০২৩ সালে মহিলাদের জন্য লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিল পাশের সময় বিরোধী সব দলই সমর্থন করেছিল। লোকসভা ভোটের আগে তা নিয়ে প্রচার করেছিলেন মোদী। এদিন বাঁকুড়ার সভা মোদী বললেন, আমি তৃণমূলের সমস্ত সিন্ডিকেট, ভ্রষ্টাচারী গুন্ডাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিচ্ছি। ২৯ এপ্রিলের আগেই নিজ নিজ থানায় আত্মসমর্পণ করে নাও। বাঁকুড়ায় ২৩ তারিখের আগে করে নাও। ৪ মে-র পর আর তোমাদেরকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। এমনকি বাঁকুড়া নিয়ে মোদী এদিন স্পষ্ট বলেন, বিষ্ণুপুরের মাফিয়া, বালি-কয়লা পাথরের অবৈধ খননের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের সিন্ডিকেটরা শুনে রাখো এই সব ৪ তারিখের পর আর চলবে না।  মোদী তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে বলেন যে, টিএমসি-র 'নিষ্ঠুর সরকারের' বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ তাদের আরও উজ্জীবিত করছে। মোদীর দাবি বিজেপি মানেই নারী ক্ষমতায়ন, তাদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা। মোদী একদিকে মহিলাদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার দুর্নীতির কথা বলছেন অন্যদিকে দুর্নীতিগ্রস্তদের নিজেদের দলে টেনে নিচ্ছেন বিজেপি এমনও অনেক অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূল বিজেপি দুর্নীতি যুক্ত রয়েছে এমনও অভিযোগ সামনে এসেছে একাধিকবার। ভোটের আগে দুর্নীতি মনে করে ভোটের পরে দুর্নীতিগ্রস্থদের নিজের দলে নিয়ে নেয়। আরজি করের ঘটনায় সিবিআই ঠিক কলকাতা পুলিশের মতো করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করেছে। মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তবুও মেলিনি বিচার।  একই অবস্থা বি জে পি শাসিত রাজ্যে। সেখানে উন্নাও,হাথরসের ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিবারগুলো বিচার পায় নি। মোদী এদিন বলেন, "নির্বাচনের আগে আমি তৃণমূলের গুন্ডাদের পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার শেষ সুযোগ দিচ্ছি, কারণ ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাঁকুড়ার নির্বাচনী জনসভায় মোদী বলেন বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে, পিএমএওয়াই’র অধীনে বাড়ি তৈরির জন্য মহিলাদের দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। মোদী বলেন, "বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করলে মহিলারা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। কোনো মহিলার পরিবারে কিডনি রোগে আক্রান্ত সদস্য থাকলে, তাঁরা সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস করাতে পারবেন। এর জন্য তাঁদের খরচ হবে মাত্র এক টাকা। বাংলার মহিলারা বার্ষিক ৩৬,০০০ টাকা পাবেন। গর্ভবতী মহিলারা পাবেন ২১,০০০ টাকা।" সন্তান হওয়ার পর মেয়েদের পড়াশোনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার মহিলাদের ৫,০০০ টাকা দেবে। মোট ৫০,০০০ টাকা দেওয়া হবে। মুদ্রা প্রকল্পের অধীনে মহিলারা স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ২০ লক্ষ টাকা পাবেন। কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত মহিলারা বছরে অতিরিক্ত ৯,০০০ টাকা পাবেন। 
পুরুলিয়ার জনসভায় মোদী দাবি করেন বিজেপির সুশাসনের প্রতি বিশ্বাস বাড়ছে। বাংলার মানুষ নিশ্চিত করে ফেলেছে ভয় আউট, ভরসা ইন। মোদী বলেন, আদিবাসীদের জন্য বাজেট ৩ গুন বাড়ানো হয়েছে। বিজেপিই বিরসা মুন্ডার জন্মদিবসকে জনজাতি গৌরব দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিজেপিই আদিবাসী সমাজের এত সংখ্যক মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো হয়েছে। মোদী বলেন আদিবাসী জেলা পিছিয়ে পড়ছে। রাস্তা বিদ্যুৎ জল স্কুল হাসপাতাল সবকিছু বেহাল হয়েছে পড়েছে। আদিবাসীদের জমিতে আদিবাসীদের অধিকার নেই। তৃণমূল সিন্ডিকেট বিজেপি উপড়ে ফেলে দেবে। মোদী বলেন, তৃণমূলের আমলে বিনা কাটমানিতে কোনো কাজ হয়নি। এই জন্য এখানে কোনো কারখানা নেই। কারখানা ভয়ে আসে না। ভরসায় আসে। যেখানে রাস্তা বেহাল, বিদ্যুৎ নেই। সেখানে কারখানা আসবেই না। এইজন্য বলি আর কাটমানীর খেলা চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না। আপনারা বিজেপির সাংসদ দিয়েছেন। এখানে সব প্রার্থীকে এমএলএ বানাতে হবে।  ৪ মে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবে এটা নিশ্চিত।

Comments :0

Login to leave a comment