assembly 2026 Alipurduar

"বামফ্রন্টই সরকার গঠনের নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে আসবে," আলিপুরদুয়ারে সুজন চক্রবর্তী

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যুব সমাজের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। আলিপুরদুয়ারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় দলই মূলত যুব ভোটারদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত বামফ্রন্টই সরকার গঠনের নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে আসবে।
শুক্রবার আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থী শ্যামল রায়ের সমর্থনে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল ও রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। ছিলেন প্রবীণ নেতা শিবনাথ সেনগুপ্ত। নর্থপয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে আদিবাসী নৃত্য, ঢামসা-মাদলের তালে তালে অংশ নেন বহু কর্মী-সমর্থক। মিছিলটি জংশন এলাকায় পৌঁছে রোড শো'তে পরিণত হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাম যুব নেতৃত্ব,সুজন চক্রবর্তী ও সৃজন ভট্টাচার্য।
সুজন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে লুটপাট ছাড়া কিছু হয়নি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ১০০ দিনের কাজ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, বামেরা প্রতিনিয়ত মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করে চলেছে। পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, এই দল আদানি-আম্বানিদের স্বার্থরক্ষা করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের কোনও মিল নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল বিজেপিকে পরাস্ত করতে পারবে না এবং বিজেপিকে সরাতে গেলে একমাত্র বিকল্প বামফ্রন্ট। তাই এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা লাল ঝান্ডাকেই বেছে নেবেন বলে তাঁর বিশ্বাস। আলিপুরদুয়ারের প্রার্থী শ্যামল রায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি সারা বছর মানুষের পাশে থেকেছেন। অন্যদিকে, গতবারের নির্বাচনে বিজেপির জয়ী প্রার্থী  দলবদল করেছেন, তৃনমুলে এসেছে। যা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, “মানুষ বুঝে গেছে—যা বিজেপি, তাই তৃণমূল।”
একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।
এদিন বিকেলে ভাটিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বামফ্রন্টের এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলিপুরদুয়ারের শ্যামল রায়, কালচিনির পাসাং শেরপা এবং কুমারগ্রামের কিশোর মিঞ্জের সমর্থনে সভা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ নেতা সন্তোষ সরকার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন  আরএসপি-র রাজ্য নেতৃত্ব তপন হোড়,বামফন্টের আহ্বায়ক কিশোর দাস। এছাড়া ছিলেন মৃণাল সেনগুপ্ত, আশা ছেত্রী, বিকাশ মাহালী-সহ একাধিক নেতা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুজন চক্রবর্তী অতীতের বামফ্রন্ট সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার সময় রাজ্যের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পরিকাঠামো ছিল ভগ্নদশায়। পরবর্তীতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থারও ব্যাপক উন্নতি ঘটে। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে প্রায় ৮৫০০ স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে এবং তার পরিবর্তে ২২ হাজার মদের দোকান খোলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাজের অভাবে বহু মানুষ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলাভাষায় কথা বললেই অনেককে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বাড়ছে এবং হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কাটোয়া ও হাসখালির মতো ঘটনায় বিচার না হওয়া এবং মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে, একই দিনে ফালাকাটাতেও সৃজন ভট্টাচার্য-এর নেতৃত্বে একটি রোড শো ও সভা অনুষ্ঠিত হয়, সৃজন ভট্রাচার্য উভয় দলকে তীব্র আক্রমণ করেন।  যেখানে বামফ্রন্টের পক্ষে জোরদার প্রচার চালানো হয়। পুরো কর্মসূচিতে বাম সমর্থকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
 

Comments :0

Login to leave a comment