তিন বছর হয়ে গেল এখনও পর্যন্ত স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নামে নেওয়া প্রায় ৬ কোটি টাকার কোন হদিস পাওয়া গেলনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্কারভাবে জানানো হয়েছিল তদন্তে জানা গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেত্রী যারা এই স্বয়ম্ভর গোষ্টীগুলি'র দেখভাল করত সেই কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএসপি) তারা মহিলাদের নাম করে এই ঋন নিয়েছে। মহিলারা কিছুই জানেননা। এই অবস্থার ফলে হাজারো মহিলা সোনামুখীর মানিকবাজার অঞ্চলে আজ চরম বিপদের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কারন সরকারিভাবে তাঁদের নামে মোটা টাকা ঋন নেওয়া আছে। পুলিশ গত তিনবছর আগে দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও তারা এখন জামিন পেয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরছে। এই এলাকার বাসিন্দা পারুল রায় জানান, তিনি জঙ্গলের পাতা কুড়িয়ে সংসার চালান। সরকারি নিয়ন্ত্রিত স্বয়ম্ভর গোষ্টীর কাছ থেকে ঋন নিয়ে কিছু কাজ তিনি করতেন। এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনা হল বামফ্রন্ট সরকারের সময়ই বাংলাজুড়ে মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য সমস্ত জেলাতেই গ্রাম ও শহর এলাকায় এই স্বয়ম্ভর গোষ্টীগুলি তৈরী হয়েছিল। তাঁদের প্রশিক্ষন দেওয়া হত বিভিন্ন জিনিস তৈরী করার। যেমন ব্যাগ, কাপড়ে নক্সা করা, জ্যাম জেলি খাবার তৈরী সহ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যাতে তৈরী করে তাঁরা বাজারজাত করতে পারেন তার জন্য সেই বাজারও সরকার করে দিয়েছিল। প্রতি সপ্তাহে বুধবার সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতে স্বয়ম্ভর গোষ্টীর কাজ কর্ম নিয়ে আলোচনা হত। এতটাই সরকারের নজর ছিল।
২০১১ রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর সে সব উঠে গেছে। কাগজে কলমে স্বয়ম্ভর গোষ্টীগুলি থাকলেও তার কোন প্রশিক্ষন নেই। সরকারি নির্দেশে মার্চের ৩১ তারিখে মহিলা গোষ্টীর নামে কিছু ব্যাঙ্ক ঋনের টাকা দেওয়া হল বলে জানায়। আবার ১লা এপ্রিল সেই টাকা শোধ হয়েছে বলে দেখানো হয়। সেটা অবশ্য সরকারি তথ্যে উঠে আসেনা। মহিলা গোষ্টীকে কত টাকা ঋন দেওয়া হল সেটাই বড় করে দেখানো হয়।
সোনামুখীর মানিকবাজার এলাকায় একাধিক গোষ্টী যারা দেখভাল করতেন সেই তৃণমূলের নেত্রীদের কাছে গোষ্টীর খাতা থাকত। সেই খাতা কারুর দেখার উপায় ছিলনা। ঋন নিয়ে শোধ করলেও কতটাকা তাঁদের নামে বাকি থাকছে তাঁরা জানতে পারতেননা। এমনটাই জানান, এখানকার গৃহবধূ নমিতা রায়, শেফালী দাসেরা। গত ২০২৩ সালে জানা যায় মহিলাদের নাম করে প্রায় ৬কোটি টাকা জালিয়াতি করা হয়েছে। তাতে তৃণমূলের নেত্রীদের পাশাপাশি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কের কর্মচারীও যুক্ত ছিলেন। এর বিরুদ্ধে সোনামুখীতে সি পি আই (এম) এর উদ্যোগে ধারাবাহিক আন্দোলন হয়। সেই আন্দোলনের চাপে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু সেই টাকা উদ্ধার হলনা আজও। সেই টাকা উদ্ধারের আন্দোলন এখনও চলছে জানান, সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্রের সি পি আই (এম) প্রার্থী অজিত রায়। তিনি নির্বাচনী প্রচারে বেশ কয়েকবার মানিক বাজার এলাকায় ঐ মহিলাদের কাছে গেছেন। তাঁদের জানিয়েছেন, ঐ টাকা উদ্ধার করতেই হবে। মহিলারাও তাঁর সঙ্গে প্রচারে থাকছেন। মাধুরি পাল জানান, লালঝান্ডাই পারবে ঐ টাকা উদ্ধার করতে। আমরা কাজ করে টিকে থাকতে চাই। তাই এই নির্বাচনে লালঝান্ডার সঙ্গেই থাকছি আমরা।
assembly 2026 SONAMUKHI
গোষ্ঠীর মহিলাদের নামে ঋণ নিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী, সেই টাকা উদ্ধারে লালঝান্ডাতেই আস্থা মহিলাদের
সোনামুখীর নবাসন গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে বামফ্রন্টের সিপিআই(এম) প্রার্থী অজিত রায়।
×
Comments :0