West Bengal Assembly Elections Exit Poll

বুথ ফেরত সমীক্ষায় অনিশ্চয়তা, চমকের অপেক্ষা গণনায়

রাজ্য

রাজ্যে সরকার গঠন এবং আসনের প্রশ্নে বিভিন্ন ভোট ফেরত সমীক্ষায় অনুমানের বড় তারতম্য দেখা যাচ্ছে। দলের সবচেয়ে কম এবং সবচেয়ে বেশি আসনের অনুমানেও ফারাক গুরুতর।
যেমন ম্যাট্রিজের জনমত সমীক্ষা রাজ্যে ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপিকে দিয়েছে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন। তৃণমূলকে দিয়েছে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে বুথ ফেরত সমীক্ষার অনুমান দেখাতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। বুথ ফেরত সমীক্ষা এবং মতামত সমীক্ষার অনুমানের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের ফারাক বারবারই দেখা গিয়েছে। 
এদিন বিভিন্ন সমীক্ষাতেই তৃণমূল এবং বিজেপি’র বাইরের শক্তিগুলি ১৬ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
পি মার্ক-র সমীক্ষার অনুমান, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫ আসন পেতে পারে। তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। 
পিপলস পালস’র সমীক্ষায় তৃণমূলকে ১১৭ থেকে ১৮৭টি আসন দেওয়া হয়েছে। বিজেপিকে দেওয়া হয়েছে ৯৫ থেকে ১১০ টি আসন। চাণক্যের সমীক্ষায় বলা হয়েছে তৃণমূল ১৩০ থেকে ১৪০ টি আসন পাবে। বিজেপি পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৬০ টি আসন।
বুথ ফেরত সমীক্ষার অনুমান বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন এবার অনুমান করাই যথেষ্ট সমস্যাজনক। কারণ এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল নাম বাদকে কিভাবে দেখা হচ্ছে সেটি একটি বিষয়। এই প্রক্রিয়ায় ভুয়ো নাম বাদ পড়লেও বহু বৈধ ভোটদাতা ভোট দিতে পারেননি। তার প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রাখা হয়েছে কিনা স্পষ্ট নয়। তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে বাম এবং কংগ্রেসের মতো শক্তির ভোট একেকটি আসনে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা আঁচ করা কঠিন। 
বিধানসভা নির্বাচনের ভোটদান পর্ব শেষ হয়েছে বুধবার। এদিনই সেই সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংস্থা, চ্যানেল।
পিপলস পালসের সমীক্ষায়  বামফ্রন্টকে-১টি এবং কংগ্রেসের ৩ থেকে ৫টি আসনের অনুমান করা হয়েছে। 
দেশজুড়ে মিডিয়াগুলির মোদী তথা বিজেপি’র পক্ষে প্রবল প্রচারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে এই সমীক্ষা রিপোর্টের অনুমানের। 
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ভোটের ফলাফল নিয়ে সমীক্ষা মেলেনি বেশিরভাগ সময়ে। যেমন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে ৬টি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তৃণমূলকে ৩৬ থেকে ৩৮টি আসন দিয়েছিল কোনও সংস্থা। কেউ আবার মমতা ব্যানার্জির দলকে ২৮-২৬টি আসনও দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল আটকে গিয়েছিল ২২ টিতে। বিজেপি কম পাচ্ছে, এমন রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও তারা ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞ একাংশের অনুমান, ফল গণনার দিনই আসল চমক অপেক্ষা করছে। গণনা স্বচ্ছতার সঙ্গে হলে মানুষের রায় স্পষ্ট বোঝা যাবে ওই দিনই। কারণ ভোটদানের সংখ্যা এত বড় যে কয়েক শতাংশ এদিক-ওদিক হলে আসনের সংখ্যায় বড় হেরফের হবে।

Comments :0

Login to leave a comment