Salim Interview

বিজেপি-কে প্রতিরোধের লড়াইয়ে বাম বিকল্পই ভরকেন্দ্র

রাজ্য

বিজেপি’র মতো শক্তিকে কেবল চেনা নয়, প্রতিরোধ করার মতো করেই প্রস্তুত হতে হবে, সেই লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। জাতপাত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সংগ্রামী ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস অব্যাহত রাখাই আমাদের দায় ও দায়িত্ব। ১১০তম নভেম্বর বিপ্লব দিবসের প্রাক্কালে গণশক্তি’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ফ্যাসিবাদী আরএসএস পরিচালিত বিজেপি’কে সর্বাত্মক মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সুদীপ্ত বসু। 
 

প্রশ্ন: রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার দু’দিন বাদেই ছয় মাসে পা দিতে চলেছে। নির্বাচনের আগে যে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে মানুষ কোন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন?
মহম্মদ সেলিম: গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীসভার শপথের আগেই বুলডোজার নেমেছিল। রাজ্যের মানুষ দেখলেন ফুলের প্রতীক বদলে গেল বুলডোজারে। লক্ষ্য, গরিব প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ, হকাররা। শুরু হলো বিজেপি শাসন। শুরুতেই স্পষ্ট হলো কাদের সরকার এসেছে। বিজেপি জিতলো বিধানসভায়, তারপর খাতায় কলমে ‘বিরোধী দল’ও গেল বিজেপি’র দখলে। শুধু বিধানসভা নয়, লোকসভা থেকে পঞ্চায়েত, পৌরসভা, কর্পোরেশন, স্থানীয় সব নির্বাচিত সংস্থাই দখলে নেওয়া হলো। কোথাও সরাসরি, কোথাও বা ‘ভালো’ বিরোধীর নামে। গণতন্ত্রের পরিসরে বিরোধীদের স্থান সঙ্কুচিত করে দেওয়া হলো। এটি বিচ্ছিন্ন কোনও প্রবণতা নয়, আরএসএস-বিজেপির’র রাজনৈতিক দর্শনেরই ফল। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে, নারী নিরাপত্তা, শিল্পে বিনিয়োগ, নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেকার যুবকের কর্মসংস্থান। হলো কী? উগ্র বিদ্বেষ, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, সমাজের দুর্বল গরিব প্রান্তিক শ্রমজীবী, আদিবাসীদের ওপর হামলা, তাঁদের রুটি-রুজিতে আঘাত। 
আগে বলা হয়েছিল, বিশেষ করে আরজি করের ঘটনার পর, থ্রেট কালচার বন্ধ হবে, ন্যায় বিচার মিলবে, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিচার হবে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে উলটে থ্রেট কালচার বেড়েছে। কথা ছিল, ইসলামপুরের দাড়িভিটে মমতার সরকারের পুলিশের গুলিতে নিহত দুই ছাত্রের ন্যায়বিচার হবে। কী হলো? মুখ্যমন্ত্রীরই আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর তদন্ত কী হলো? বেঙ্গল প্যাকেজের কী হলো? বছরে ১২৫ দিনের কাজের কী হলো? বিজেপি সরকারের মাত্র এই কয়েক মাসে ধর্ষণ থেকে নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্তার ঘটনা ১০০ পেরিয়ে গেছে। ‘গুন্ডা দমন আইন’ এনে তিনপুরুষ মনে রাখার হুমকি দেওয়া হলো? তারপর দেখা গেল দুর্নীতিগ্রস্তরাই ওদের মঞ্চে। কত মাস্টার প্ল্যানের কথা বলা হয়েছিল ভোটের আগে। ভোটের পরে সব মাস্টার প্ল্যান ভুলে এখন মুখ্যমন্ত্রী ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’-এ পরিণত হয়েছে! আর তা করতে গিয়ে বিরোধী স্বরকে দমন করাই যেন অগ্রাধিকার। 
আসলে যা চলছে তাতে যেন মনে হচ্ছে পশ্চিম ও উত্তর ভারত বাংলা দখল করেছে। হাবেভাবে, হুমকিতে, চমকে-ধমকে একটি আধিপত্যবাদী মানসিকতা। প্রধানমন্ত্রী যেমন বলেছিলেন বাংলায় এই পরিবর্তন নিছক কোনও পরিবর্তন নয়, একটা দীর্ঘদিন চলে আসা ধ্যানধারণার পরিবর্তন। পাহাড় থেকে সুন্দরবন—এখানকার সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাসের গতিপথ, ঐতিহ্যের ধারাপাত, ভুগোল, খাদ্যাভ্যািস, সম্প্রীতি, ঐক্যের যে পরিবেশ, অভ্যাস গড়ে উঠেছিল তার সবটার ভোল যেন বদলাতে চাইছে। 
তবে অনেকের কাছে হলেও আমাদের কাছে এটা কোনও আকস্মিক বিষয় নয়। বিজেপি কী তা সিপিআই(এম) জানে। আমাদের কর্মসূচিগত বোঝাপড়াতেও তা প্রথম থেকেই স্পষ্ট। বাবরি মসজিদ ভাঙার পরেও বিজেপি’র প্রতি যারা দুর্বলতা দেখিয়েছিল তাঁদের এখন বিজেপি-কে দেখে নতুন কিছু মনে হচ্ছে হয়তো। আমাদের পার্টি কর্মসূচির ৭.১৪ ধারায় বলা হয়েছে— ‘...বিজেপি কোনও সাধারণ বুর্জোয়া দল নয়, কেননা ফ্যাসিবাদী ধাঁচের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ তাদের পরিচালনা করে, আধিপত্য করে। বিজেপি ক্ষমতায় আসায় রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন সংস্থায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে আরএসএস। হিন্দুত্ব মতাদর্শ পুনরুত্থানবাদকে মদত দেয় হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারতের মিশ্র সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে।'
ডাবল ইঞ্জিনের ডাবল  ধোঁয়ায় ধূমায়িত পরিবেশে অনেকের শত্রু-মিত্র চিনতে অসুবিধা হচ্ছে। দুধের দাঁতটুকু ওঠার যে সময় লাগে তার আগেই এদের হিংস্র নখ, দাঁত বেরিয়ে পড়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে আসাম, ত্রিপুরার মানুষের অভিজ্ঞতা একটু আগেই হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ গত ছয় মাসে নিজেদের জীবন-জীবিকার অভিজ্ঞতায় দ্রুতই চিনতে পারছেন। বিজেপি’র মতো শক্তিকে কেবল চেনা নয়, প্রতিরোধ করার মতই করেই প্রস্তুত হতে হবে, সেই লড়াই শুরু হয়ে গেছে। 
প্রশ্ন: ভাষা বদলাচ্ছে সরকারের। সরাসরি এমন ধর্মীয় বিদ্বেষের ভাষা আগে কি শুনেছে বাংলা? মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি নেতাদের আক্রমণের লক্ষ্য এখন সিপিআই(এম)। খাতায় কলমে ‘বিরোধী দল’ তো ভ্যানিশ। কীভাবে দেখছেন এই পরিস্থিতিকে।
মহম্মদ সেলিম: মানুষের ভুল ভাঙতে দেরি হয়নি। বিজেপি-আরএসএস’র আক্রমণের লক্ষ্য কে এবং কেন, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে এই ক’দিনেই। খাতায়কলমে যারা বিরোধী তারা এখন হাতের মুঠোয়। লড়াইয়ের রাস্তায় বামপন্থীরাই। মুখ্যমন্ত্রী বোধ হয় এখনও নিজেকে কিষেনজী সহ তৎকালীন বিরোধী নেত্রীর কোলে লালিত হওয়া ‘ভুমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির’ নেতা মনে করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাজ কি এখন শুধুই হুমকি দেওয়া! নন্দীগ্রাম, জঙ্গলমহল, মাওবাদী-শুভেন্দু-মমতা এসবের কেস তো রি-ওপেন করতে আমরাও বলছি। কারা মাওবাদীদের সাহায্য করেছিল, ওঁর প্রাক্তন রাজনৈতিক দিদির সঙ্গে থেকে কী কী করেছিলেন তা সামনে আসুক। বুক স্টলের বিরুদ্ধেও তো হুমকি দিয়েছিলেন, পরিণাম কী হয়েছে নিজেই দেখছেন। নিজের বর্তমান বা প্রাক্তন রাজনৈতিক বস-দের কাছ থেকে ওঁর জেনে নেওয়া উচিত সিপিআই(এম)-কে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখতে গেলে কী পরিণাম হয়। হিন্দিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘করেলা অউর নিম চঢ়া’! মানে একে তো করলা নিজেই অত্যন্ত তেতো, সেই গাছ যদি আবার নিম গাছের ওপর বেয়ে ওঠে তবে সেই করলা আরও বেশি তেতো হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থা তাই। কত ভালো বিজেপি উনি, সেটা এখনও প্রমাণ করে যেতে হচ্ছে। তাই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সামনে হনুমান চালিশার পাঠের আসর বসানো হচ্ছ। সরকারি মঞ্চ থেকে নির্দিষ্টভাবে একটি সম্প্রদায়, ধর্ম তুলে কথা বলা হচ্ছে। যে ভঙ্গিমায় কথা বলা হচ্ছে তা এই বাংলায় সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান। 
কিন্তু এসব ধমকে চমকে লাভ নেই। শারদোৎসবের সময় গোটা রাজ্যের ৩০০টির কাছাকাছি বুক স্টলে হামলা চালিয়েছে, বুলডোজার দিয়ে বুক স্টল ভাঙতে এসেছিল। তাতে কি আটকাতে পারলো? বামপন্থীদের বুক স্টলের সংখ্যা আরও বেড়েছে রাজ্যে, মানুষ উৎসবের সময় ভিড় করেছে স্টলগুলিতে প্রতিবাদের প্রতীক হিসাবেই। গত ১৫ বছরেও আমরা রক্তাক্ত হয়েছি, সেই ১৫ বছরের মধ্যে দশ বছর উনি ওদিকেই ছিলেন। ওঁর উগ্রতা বিজেপি’র ভক্তদের একাংশের কাছে দৃষ্টিকটু লাগছে। 
তবে বামপন্থীরাও প্রতিদিন মানুষকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিরোধে শামিল হচ্ছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এই মুহূর্তে আমাদের রাজ্যে চরম দক্ষিণপন্থার উত্থান হচ্ছে। গত দেড় দশক ধরে এ রাজ্যে অবাধ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, ক্লাব থেকে সমবায় সব ধ্বংস করে দখলদারি কায়েম করার যে শাসন তা আরএসএস-বিজেপি’র কৌশলকে জল-মাটি-হাওয়ার জোগান দিয়েছে, সাহায্য করেছে ওদের মাটি উর্বর করতে। ফলে এখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী, বিভাজনমূলক আগ্রাসনের শক্তিকে রুখতে প্রয়োজন হলো শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাবনা, চিন্তা, মুল্যবোধ সমস্ত স্তরেই এক বিকল্পের, বামপন্থার পুনর্জাগরণ বৃহ্ৎ অংশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই।
প্রশ্ন:  দিল্লিতে পথে তরুণ প্রজন্ম। নেট দুর্নীতি থেকে ভোট চুরি, সরকার বিরোধী রোষ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। গোটা দেশে বিজেপি বিরোধী দলগুলি একজোট হয়ে এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে নেমেছে। মমতা-তৃণমূলও তাতে শামিল রয়েছে। এই আন্দোলনের সামগ্রিকতা নিয়ে আপনার মতামত কী?
মহম্মদ সেলিম: উগ্র দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিনই বিক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নামছেন। প্রায় প্রতিদিনই জনরোষে উত্তাল হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। শ্রমজীবী মানুষ পুঁজিবাদের সঙ্কটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন। সেই বিক্ষোভের ভরকেন্দ্রের কেন্দ্রে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের রুটিরুজির দাবিদাওয়া। অন্যদিকে, উগ্র দক্ষিণপন্থার উত্থানকে রুখে দিল ব্রাজিল। চতুর্থবারের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন লুলা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি। উগ্র দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে জমে ওঠা জনরোষের প্রতিফলনই সামনে আসছে। আমাদের দেশেও এখন উগ্র দক্ষিণপন্থা, আধিপত্যের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ, প্রতিরোধের ছবি দেখা যাচ্ছে রাজপথে। তরুণ প্রজন্ম, জেন-জি’রা রাস্তায়, হকের লড়াইয়ের দাবিতে। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দেশে নির্বাচনী কাঠামোর অস্বচ্ছ্তার বিরুদ্ধে জোরালো হচ্ছে তাঁদের স্বর। আর তা দমন করতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রযন্ত্রকে নামানো হয়, লাঠি, পেলেটগানে ছাত্রদের ওপর হামলা হয়, অন্যদিকে মোদী-ট্রাম্প-নেতানেয়াহুরা তাঁদের পক্ষে বাজার গরম রাখার জন্য মিডিয়ায় কোটি কোটি ডলার খরচ করে অনুগামী তৈরির চেষ্টা করে। আমাদের দেশেও গোদি মিডিয়ার চেহারা দেখছে জনগণ। একটি পুলিশি রাষ্ট্রের চেহারা দেখলো গত কয়েকদিনে। আমাদের রাজ্যে আমরা গত দেড় দশকে তা দেখেছি, কিভাবে মানুষের আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা হয়েছে।
আমরা এক বছর আগে থেকেই বলেছি এসআইআর আসলে আরএসএস’র অ্যাজেন্ডা। ওদের মৌলিক অ্যাজেন্ডার অংশ। দেশবাসীর মধ্যে ভাগাভাগি করতে একাংশের বিরুদ্ধে আরেক অংশের মনে ঘৃণা, বিদ্বেষ-ভীতির চাষ করে বেআইনিভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা বলেছিলাম, এই বিপদ ভয়াবহ আকার নেবে, সমাজের কোনও অংশই এর থেকে রেহাই পাবে না। আজ সারা দেশের মানুষ একজোট হচ্ছে এসআইআর’র প্রতিবাদে। ভোটার তালিকা থেকে মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা ভুয়ো নাম থাকলে তা মুছে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু নামের বানান, সন্তানের সংখ্যা, বাপ-ঠাকুর্দার নাম তালিকায় ছিল কিনা এসব নিয়ে মানুষকে হয়রানি করা কেন? কমিশন, বিজেপি নাগরিকত্ব যাচাই করবে? 
আমাদের দেশেও চরম দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেমন প্রয়োজন বামপন্থীদের ঐক্যকে সংহত করা, তেমনি মধ্যপন্থীদেরও বাম বিকল্পে উৎসাহিত করা। নতুন নতুন শক্তি আসছে লড়াইয়ে। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, মেহনতি, গরিব প্রান্তিক আদিবাসী মানুষের স্বার্থে বিকল্প ভাবনা, দাবিদাওয়ার লড়াইকে উৎসাহিত করতে হবে। উগ্র দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম বিকল্পকেই ভরকেন্দ্রে নিয়ে আসা জরুরি। বিজেপি-আরএসএস’র ধারণা শুধুমাত্র ভোটের নিরিখে দেখলে হবে না, এই বিপদের গুরুত্বকে রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে বিচার করা জরুরি। খুবই সতর্কভাবে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প কর্মসূচিকে মাথায় রেখেই বৃহত্তর মানুষকে সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। 
বিকল্পের লড়াইয়ে সব সম্ভাব্য শক্তিকে আনতে হবে, যদিও তাতে কৌশলী সুবিধাবাদীদের জায়গা নেই। চরম দুর্নীতিগ্রস্ত, রাজনৈতিক অবস্থানে ঋজুভাবে দাঁড়াতে না পারা কোনও শক্তি এই লড়াইয়ে সাবলীল হবে না। চরম দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে এই লড়াইতে এখন মাঝখান বলে কিছু নেই। ওপার বনাম এপারের লড়াইতে বাম ঐক্যকে মজবুত করে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক শক্তিকে একজোট করতে হবে, এই লড়াইতে বামপন্থীরা খুঁটির মতো অনড় থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু চোর আর চরদের থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। তা নাহলে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যটাই নষ্ট হয়ে যাবে। ব্রিটিশ আমল থেকেই আরএসএস এরকম চরদের ব্যবহার করে। এখনও শত্রুপক্ষ তাদের দিয়ে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। যাদের সীমাহীন দুর্নীতি, নৈরাজ্য, অপশাসনের জেরে সংঘের জমি উর্বর হয়েছে, তাদের সম্পর্কেও সতর্ক থাকবে। সাম্প্রদায়িক-জাতিবিদ্বেষী শক্তি যাতে কোনও ফাঁকফোকর না পায় তা দেখতে হবে।
 

Comments :0

Login to leave a comment