Venezuela Protest International

নিন্দা চীন-রাশিয়ার, মাদুরোকে ফেরানোর দাবিতে রাস্তায় ভেনেজুয়েলা

আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রতিবাদের একাধিক ভিডিও ঘুরছে সোশাল মিডিয়া। তার একটির স্ক্রিনশট।

আমেরিকার দখলদারি মানা হবে না। ভেনেজুয়েলার রাজদানী কারাকাসের রাস্তায় এই স্লোগান তুলে নামল মিছিল। আমেরিকার বোমা হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন দেশ। আন্তর্জাতিক স্তরে শোনা যাচ্ছে প্রতিবাদ।
প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন এবং রাশিয়া। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দুই দেশই বলেছে যে আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে আগ্রাসন চালিয়েছে আমেরিকা। চীনের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, কেবল ভেনেজুয়েলা নয়, গোটা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের শান্তি বিপদের মুখে। অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের অধিকার ভাঙছে আমেরিকা।    
ভেনেজুয়েলার তেল আমদানির ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলির ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছিল আমেরিকা। চীন যদিও আমেরিকার একতরফা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করেনি।  
নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করেছে আমেরিকার সেনা। বন্দি করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্বর তুলছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি বলেছেন যে আমেরিকায় এনে মাদুরোকে নিষিদ্ধ মাদক এবং অস্ত্র সংক্রান্ত আইনে বিচার করা হবে মানহাটনের আদালতে। 
ভেনেজুয়েলার বিদেশ মন্ত্রী ইউভান গিল পিনটো বলেছেন, আমাদের নেতা মাদুরোই। রাষ্ট্রপতি মাদুরোকে ফেরত পাঠাতে হবে আমেরিকাকে। 


লাতিন আমেরিকারই কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো জরুরি ভিত্তিতে সভা ডাক দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে। ওএএস বা অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের সভা ডাকার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। 
কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল দিয়াজ কানেলও আমেরিকার হানাদারির তীব্র নিন্দা করেছেন। বলেছেন, জঘন্য অপরাধী আমেরিকা ফের হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিবাদের আবেদন জানিয়েছেন।
তবে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার হামলার পনের ঘন্টা পরও মুখ খোলেনি। মৃদু নিন্দার শব্দও শোনা যাচ্ছে না ভারতের থেকে। 
গত কয়েকমাস ধরেই ভেনেজুয়েলায় তটরেখায় যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে রেখেছে আমেরিকা। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নিষিদ্ধ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ রব তুলে ঘিরে রাখা হয় ভেনেজুয়েলাকে। আন্তর্জাতিক মহলের প্রায় সব অংশই যদিও এই যুক্তি খরিজ করেছে। ভেনেজুয়েলার তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার দখলই আসল লক্ষ্য, একমত প্রায় সব অংশ। ট্রাম্প নিজেও ভেনেজুয়েলার তেল সংস্থায় আমেরিকার বহুজাতিকের দখলদারি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বামপন্থী এবং নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্পের চাপকে। 
এদিকে রাশিয়াও আগ্রাসনের কড়া নিন্দা করেছে। রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক বলেছে ‘সশস্ত্র আগ্রাসনের মতোই গুরুতর বেআইনি কাজ করেছে আমেরিকা।’। রাশিয়ার ফেডারেশন কাউন্সিলের উপাধ্যক্ষ কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেছেন আক্রমণের পক্ষে যুক্তিসঙ্গত কোনও কারণই দেখাতে পারছে না আমেরিকা। বিশ্বব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চলতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙা হয়েছে। 
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকও কড়া নিন্দায় বলেছে সার্বভৌম দেশের ভেতরে ঢুকে এভাবে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন বা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ অনুযায়ী বেআইনি। 
এদিকে স্পেনের বিদেশ মন্ত্রক সংঘাতের মাত্রা নামানোর আবেদন জানিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে আমেরিকারও বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment