সৌরভ চক্রবর্তী
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে দেশ তোলপাড় - নিজ দেশের কর্মক্ষম - বেকার তাজা তরুণদের তিনি " আরশোলা" বলে অভিহিত করেছেন! বলেছেন, তাদের কাজ নেই পেশা নেই, তারা সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে আছে, তারা আরটিআই কর্মী - প্রত্যেককে আক্রমণ করছে - ওরা পরজীবী! দেশের সংবিধান রক্ষা, তার ভাষ্যের ব্যাখ্যা এবং সমাজে তাকে কার্যকর করার প্রশ্নে তিনি এক নম্বর ব্যক্তি - তার কাছ থেকে দেশ এমন অবমাননাকর মন্তব্য আশা করে না, এ মন্তব্য কি করা যায়? সবল দু’টো হাতে কাজ করতে চাওয়া দেশের তরুণদের বেকার (!) অভিধায় ভূষিত করা- পরজীবী আখ্যা দেওয়া কি রাষ্ট্রের লজ্জা নয়? দেশের শীর্ষ পদাধিকারীদের অন্যতম একজন হিসেবে এ লজ্জা কি তারও নয়?
' বেকার ' উচ্চারণে লজ্জা কার? বেকার উৎপাদন করে কে? রাষ্ট্রশক্তি - বললেন না তো! এ লজ্জা কাদের? আরশোলাদের?
সোচ্চার প্রতিবাদে সামাজিক মাধ্যমে জন্ম নিল "কচরোচ জনতা পার্টি "- লাখে লাখে সদস্য হতে থাকল, বলা হলো একাজ ' জেন জি ' দের - এটাই পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের সৌরভ - মি লর্ড , আমরা সবাই আরশোলা! আমরা লড়তে জানি, মরতে জানি, বাঁচতে জানি, বাঁচাতে জানি।
৬০০-রও বেশি বিশিষ্ট নাগরিক ও নাগরিক সমাজের সংগঠন ভারতের মাননীয়প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং মাননীয় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ থেকে পরিবেশবাদীদের নিয়ে করা মাননীয় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে “অত্যন্ত আপত্তিকর” এবং “উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছে। তারা সুপ্রিম কোর্টকে আদালতে করা সেই মৌখিক মন্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। ২২ মে মাননীয় প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বলা হয়: “এই ধরনের বক্তব্য বাস্তববিরোধী, সাংবিধানিকভাবে উদ্বেগজনক এবং বিপজ্জনক।”
সবশেষে চিঠিতে বলা হয় যে- “একটি দায়িত্বশীল গণতন্ত্র নাগরিকদের উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলে না। বরং সে প্রশ্ন তোলে — উন্নয়ন কি আইন মেনে পরিকল্পিত হয়েছে? তা কি সৎভাবে মূল্যায়িত হয়েছে? এবং তা কি যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এমনভাবে গড়া হয়েছে যাতে জীবন, জীবিকা ও পরিবেশগত নিরাপত্তা সামগ্রিকভাবে সুরক্ষিত থাকে? যদি তা না হয়ে থাকে, তবে নাগরিকদের জন্য আইনি প্রতিকার থাকা প্রয়োজন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আংশিকভাবে সেই প্রতিকার নিশ্চিত করার জন্যই বিদ্যমান।”
বিষয়টা কি ছিল? পিপাভাভ বন্দর হলো গুজরাটের আমরেলি জেলায় আরব সাগরের তীরে অবস্থিত ভারতের প্রথম বেসরকারি বন্দরগুলির একটি। এটি মূলত কন্টেনার, কয়লা, গাড়ি, শস্য ও অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত হয়।সম্প্রসারণ প্রকল্পে কী হচ্ছে?পিপাভাভ বন্দরের সম্প্রসারণ বলতে - নতুন জেটি ও বার্থ তৈরি,আরও বড় কার্গো জাহাজ ঢোকার ব্যবস্থা,কন্টেনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধি,রেল ও সড়ক সংযোগ উন্নত করা,
অতিরিক্ত স্টোরেজ ও লজিস্টিক অবকাঠামো তৈরি। এই সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য হলো বন্দরটিকে পশ্চিম ভারতের আরও বড় বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক কেন? পরিবেশকর্মীদের মত হলো সমস্যা এই প্রকল্পের প্রভাব পড়তে পারে উপকূলীয় পরিবেশ, ম্যানগ্রোভ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের উপর। পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ করেন—উপকূল ক্ষয় বাড়তে পারে,মাছ ধরার ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে,দূষণ বৃদ্ধি পাবে,স্থানীয় মানুষের জীবিকা বিপন্ন হতে পারে এবং
পরিবেশগত ছাড়পত্র যথাযথভাবে পর্যালোচনা হয়নি- এই কারণেই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মামলা আর এই মামলার শুনানিতেই ভারতের প্রধান বিচারপতি উপরোক্ত মন্তব্য!
পরিবেশ কর্মীদের কাজ কি প্রকল্প আটকানো? ঘাম রক্ত মার গ্রেপ্তার! উন্মাদদের মতো শুধু পরিবেশকে রক্ষা করার ব্রত! শত বাধা হুমকি অগ্রাহ্য করে ভারতজুড়ে পরিবেশকর্মীরা যদি লাগাতার লড়াই না জারি রাখতো তাহলে প্রকল্প নির্মাতাদের জন্য ভারতের পরিবেশ - ইকোলজির যা সর্বনাশ হয়েছে তার শতগুণ হতো। নিয়মগিরির বক্সাইট খনি বিরোধী, আরাবল্লীর সুপ্রিম রায় বিরোধী, হাঁসদেও বনাঞ্চল ধ্বংস বিরোধী, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প বিরোধী, চারধাম সড়ক সম্প্রসারণ বিরোধী, গঙ্গা- নদী আন্দোলন সহ অসংখ্য আন্দোলন ছিল বলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও সবশেষ হয়ে যায়নি। পিপাপভ বন্দর সম্প্রসারণ পরিবেশ - ইকোলজির সংরক্ষণ করবে? জৈববৈচিত্রের সংরক্ষণ করবে নাকি পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করবে? তিনি মন্তব্য করলেন - আজ সবাই 'অ্যা ক্টিভিস্ট'। হ্যাঁ একথায় পরিবেশকর্মীরা গর্বিত। পরিবেশকর্মীদের উন্নয়নবিরোধী তকমা সেঁটে দেওয়া হচ্ছে।
মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের কাছে পরিবেশ কর্মীদের প্রশ্ন - ১৯৮৭ সালে ইউনাইটেড নেশনস নিযুক্ত ব্রান্ডল্যান্ড কমিশন যার পোশাকি নাম ' ওয়ার্লড কমিশন অন এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' ' আওয়ার কমন ফিউচার '- উন্নয়ন নয় ' দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন ' কথাটা জনপ্রিয় করার প্রয়াস নেয়, তার সংজ্ঞা স্থির করে তারা বলে, দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন হলো সেই উন্নয়ন যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতার সাথে আপোষ না করে বর্তমানের প্রয়োজন মেটানো।' দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের সাথে পরিবেশ- ইকোলজি সম্পৃক্ত। পরিবেশ- ইকোলজি বিযুক্ত উন্নয়ন কথাটা অর্থহীন এবং ক্ষতিকারক। পরিবেশ কর্মীরা দীর্ঘস্থায়ী,উন্নয়নের প্রচার করে, যে প্রকল্প দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে, পরিবেশ কর্মীরা তখন বিরোধ করে। পরিবেশ কর্মীরা আক্ষরিক অর্থেই তাই পরিবেশ- ইকোলজি সংরক্ষক।
ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল কেন তৈরী হয়েছিল? ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল বা 'এনজিটি' হলো ভারতের একটি বিশেষ পরিবেশ আদালত, যা পরিবেশ সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি ২০১০ সালে ' নশানাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল অ্যা ক্ট ২০১০' -এর মাধ্যমে গঠিত হয়। বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দিয়েছে 'এনজিটি' - বেআইনি খনি বন্ধ,নদী দূষণের জরিমানা,বেআইনি নির্মাণ, পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ, জলাভূমি সংরক্ষণ, বন সংরক্ষণ, দিল্লীর দূষণ, আরাবল্লী ধংস, যমুনার প্লাবনভূমি, স্টারলাইট, অবৈধ বালি খনন - নানা ক্ষেত্রে 'এনজিটি'গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সমালোচকরা বলেন,সরকার অনেক সময় 'এনজিটি'র ক্ষমতা দুর্বল করতে চায়,শূন্যপদ পূরণ করা হয় না, পরিবেশ ছাড়পত্র দ্রুত দিতে চাপ থাকে, ট্রাইব্যুনালের ' অর্ডার' অনেক সময় বাস্তবে মানা হয় না।
আবার উন্নয়ন ' লবি' অভিযোগ করে- 'এনজিটি' প্রকল্পে বিলম্ব ঘটায়। এই দ্বন্দ্বই আজ ভারতের পরিবেশগত ' গভর্ন্যান্স' এর মূল দ্বন্দ্ব। শীর্ষ আদালতের এমন মন্তব্য ' এনজিটি' র ভবিষ্যৎ কালো মেঘের ছায়ার মতো লাগে।
পরিবেশ প্রশ্নে সুপ্রীম কোর্টের রায়ে নানা দোলাচল রয়েছে, আবার ভারতে পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে সুপ্রীম কোর্ট বহু ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। নদী দূষণ, বনভূমি ধ্বংস, বায়ুদূষণ, খনি প্রকল্প, শিল্প দূষণ— নানা ক্ষেত্রে আদালত নাগরিকের “জীবনের অধিকার”-এর মধ্যে সুস্থ পরিবেশের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে সুপ্রীম কোর্টের নানা রায় ও মন্তব্যকে ঘিরে বারবার বিতর্কও তৈরি হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার নামে কখনও উন্নয়ন আটকে দেওয়া, আবার কখনও “জাতীয় উন্নয়ন”-এর যুক্তিতে পরিবেশগত উদ্বেগকে হালকা করে দেখা— এই দুই বিপরীত প্রবণতার জন্য আদালতকে অনেক সময় পরস্পরবিরোধী বলেও সমালোচনা করা হয়।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতির উল্লিখিত কিছু মন্তব্য নিয়েও প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশ সংক্রান্ত মামলার কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আটকে যাচ্ছে, এবং সব প্রকল্পের বিরোধিতা করলে দেশের অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হবে। এই মন্তব্যের পর বহু পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি প্রশ্ন তোলেন— আদালত কি তাহলে পরিবেশ আন্দোলনকে “উন্নয়নবিরোধী” হিসেবে দেখছে?
বহু ক্ষেত্রে আদালত সরকারি কমিটি বা আমলাতান্ত্রিক রিপোর্টের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়, অথচ স্থানীয় জনগণ, বিজ্ঞানী বা স্বাধীন পরিবেশ গবেষকদের মতামতকে কম গুরুত্ব দেয়— এমন অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বনভূমি, উপকূল বা খনি অঞ্চলের মানুষ বহুবার বলেছেন যে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (EIA) প্রায়ই অসম্পূর্ণ বা কর্পোরেট প্রভাবিত। তবুও আদালত অনেক ক্ষেত্রে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অনুমোদন বহাল রেখেছে।
এই বিতর্ক আসলে বৃহত্তর এক প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়— “উন্নয়ন” বলতে কী বোঝায়? যদি উন্নয়নের অর্থ হয় জঙ্গল কেটে খনি, জলাভূমি ভরাট করে শহর, নদী দূষিত করে শিল্প, তাহলে পরিবেশ আন্দোলন সেই উন্নয়নের প্রশ্ন তুলবেই। আর আদালত যদি একদিকে পরিবেশ রক্ষার সাংবিধানিক কথা বলে, অন্যদিকে সেই ধ্বংসাত্মক উন্নয়নকে অনুমোদন দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবেই।
জলবায়ু পরিবর্তন, তাপপ্রবাহ, জলসঙ্কট, বায়ুদূষণ ও জীববৈচিত্র ধ্বংসের এই সময়ে আদালতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবেশ কেবল “গাছ বাঁচানো”র প্রশ্ন নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম, খাদ্য, জল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। তাই সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি পরিবেশ সংক্রান্ত মন্তব্য ও রায় এখন কেবল আইনি সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান হিসেবেও বিচার করা হচ্ছে।
তাই পরিবেশ মামলার সাংবিধানিক অধিকার ছাড়া যাবে না। সব পরিবেশ মামলায় লড়াই করেও সাফল্য আসে না। ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে 'উন্নয়ন' এর নামে ৫০০০ গাছ কাটার পূর্বতন সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ' এনজিটি' তে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ মামলা করে হেরে যায়। লেকটাউনের নয়ানজুলি মামলায় ' এনজিটি' তে লড়াই করে জেতার পরেও নয়ানজুলি ফিরিয়ে দেয়নি পূর্বতন সরকার। বাঁকুড়া শহরে দ্বারকেশ্বর নদীবক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য অবৈধ নির্মাণ বিরোধী মামলায় ' এনজিটি' কিছু প্রশাসনিক নির্দেশ দেয়। তারপরে দ্বারকেশ্বরের নদীবক্ষে আর কোনও অনুষ্ঠান হয়নি। দ্বারকেশ্বর ঘটনার পরে গন্ধেশ্বরী নদীবক্ষে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সভা করেন তবে তারপর থেকে সেখানেও আর কোনও সভা হয়নি। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের বিষ্ণুপুর- চালতিয়া বিল ভরাটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হয়। মহামান্য উচ্চ আদালত তৎকালীন প্রশাসনকে নির্দেশিকা দেয়, তৎকালীন প্রশাসন অসহযোগিতা করে - বর্তমানে ভরাটের কাজ চলছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিরাটির ৯৭ কাটা জোড়া পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ - ৮ বছর মামলা চলছে, চলছে হুমকি প্রলোভন, আবার ভরাটও চলছে। দেউচা- পাঁচামির অবৈজ্ঞানিক কয়লা খনি বিরোধী মামলা কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, ১০ টি শ্রমিক সংগঠন - কয়েকটি শুনানি হয়, আপাতত প্রকল্প কার্যত স্থগিত রয়ছে। পুরুলিয়ার পাহাড়িগোড়া পাহাড় বিক্রির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষজন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ সহায়তা করে - পাহাড়টিকে বাঁচানো গেছে।
কলকাতার ‘ স্বজন' সংগঠন যাতে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চও শামিল– আলিপুর চিড়িয়াখানার একটি অংশ বিক্রির পূর্বতন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে, এখনওপর্যন্ত সেই অংশটি বাঁচানো গেছে।
অজস্র মামলা পূর্বকলকাতা জলা ভূমিকে বাঁচানোর জন্য করা হয়েছে, কলকাতার কিডনি ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসলেও পূর্ব কলকাতা জলাভূমিকে রক্ষার প্রশ্নে মামলাগুলির গুরুত্বঅ পরিসীম।
বর্তমানে অপবৈজ্ঞানিক আগ্রাসী ' উন্নয়ন' এর নামে প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচারে লুটপাট চলছে, ভরাট হচ্ছে জলাভূমি, ধংস হচ্ছে জঙ্গল, খনির নামে চলছে উচ্ছেদ, হিমালয় বিপদসীমায়! অন্যদিকে পরিবেশ- ইকোলজি সঙ্কটবিন্দুতে উপস্থিত - প্রজাতি বিলোপের হাতছানি!এমন অবস্থায় পরিবেশ কর্মীরা দেশজুড়ে মাথায় কফন বেঁধে পরিবেশ-ইকোলজি রক্ষায় প্রাণপন লড়াই করছে। এ লড়াই দ্বিবিধ - আদালতের ভেতরে এবং বাইরে। দু’টো লড়াইই গুরুত্বপূর্ণ - আদালতের সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই কোনও ক্রমেই ছাড়া যাবে না। মন্তব্যে উল্লিখিত 'ককরোচ' রা নিজ অধিকার অর্জনের জন্য জান কবুল লড়বে।
মি লর্ড, আমরা সবাই 'ককরোচ' - লড়াই করতে জানি, মরতে জানি, বাঁচতে জানি, বাঁচাতে জানি।
Comments :0