দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের বাড়ন্ত বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়কে বাঁচিয়ে রাখতে দেশবাসীকে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই তলে তলে ‘দোস্ত’ ট্রাম্পের দেশ থেকে আমদানি পরিমাণ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেললেন। আর এই অত্যন্ত গুরুতর বিষয়টি দেশবাসীর কাছে বেমালুম চেপে গেলেও হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন ভারত সফররত মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো। বস্তুত ট্রাম্পের দূত হিসাবে রুবিয়ো ভারতে এসেছেন দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করা যাচ্ছিলো না। নাছোড় ট্রাম্প পণ করেছেন মোদীকে দিয়ে তাঁর সব শর্ত পূরণ করিয়েই ছাড়বেন। রুবিয়োর ঘোষণা অনুযায়ী তিনি সফল। এবার চুক্তি স্বাক্ষরে আর বিলম্ব হবার কথা নয়।
ভারত মার্কিন বাণিজ্যে এতকাল বিপুল উদ্ধৃত্ত হতো ভারতের। অর্থাৎ আমেরিকা থেকে যত আমদানি করত তার থেকে রপ্তানি করত অনেক বেশি। তাতে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বাড়ত। ট্রাম্প এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। তিনি চান ভারত যত রপ্তানি করবে ততটাই, এমনকি তার থেকেও বেশি আমদানি করবে। অর্থাৎ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ভারতের নয় আমেরিকার হবে। এই নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই সোজা আঙুলে ঘি উঠছে না দেখে ট্রাম্প ভারতীয় রপ্তানির উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেন। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সহ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার হুলিয়া জারি করেন। যথারীতি মোদী সরকার মাথা নিচু করে নীরবে মার্কিন আজ্ঞা পালন করতে থাকে। দেশে স্বনির্ভরতা, আত্মসম্মানের জন্য রুখে দাঁড়ানোর, প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতে পারেনি। যদিও চীন সহ অন্য অনেক দেশ শুধু প্রতিবাদ নয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে পালটা পদক্ষেপও নিয়েছে। মালয়েশিয়ার মতো দেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিই খারিজ করে দিয়েছে। মালয়েশিয়ার মতো দেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিই খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু স্বঘোষিত বিশ্বগুরু ৫৬ ইঞ্চি ছাতি নিয়ে মুখ বুজে সব অপমান, অবহেলা, হুমকি হজম করলেন।
এবার ইরান যুদ্ধে গভীর জ্বালানি সঙ্কটে দিশাহারা ভারত যখন বাধ্য হয় জ্বালানি জোগানের জন্য আমেরিকার দ্বারস্থ হতে তখন আরও চেপে বসে ট্রাম্প প্রশাসন। তাছাড়া অনেকটা ‘কান টানলে মাথা আসার’ মতো মোদী ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি আদানি গোষ্ঠীকে নানা আইনি জটিলতায় জড়িয়ে মোদীকে বাধ্য করা হয়েছে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করতে। মোদী সরকার সমঝোতা করেছে, ট্রাম্পের শর্ত মেনে নিয়েছে। অতএব আদানিরা ছাড় পেয়ে গেছে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি গেছে শুনে ভক্তরা নিশ্চয়ই উদ্বাহু নৃত্য করবেন। কিন্তু ভেবে দেখবেন কি এই চুক্তির ফলে বছরে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার কোটি টাকার মার্কিন পণ্য আমদানির জন্য বিদেশি মুদ্রা জোগাবে কে? মার্কিন শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অন্য অনেক দেশের সহজ শর্তের আমদানি বন্ধ করতে হবে। দেশের কৃষিপণ্য বাজার, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার অতি সস্তার মার্কিন পণ্যের জন্য খুলে দিতে হবে। দেশের কৃষক, পশুপালক এবং সংশ্লিষ্ট অগণিত মানুষের রুজিতে প্রবল ধাক্কা আসবে। প্রতিযোগিতায় দুর্বল হবে দেশের কৃষি ও পালন। কাজ হারিয়ে ভিন্ন পেশা খুঁজতে হবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে। পরমাণু বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের দখল নেবে আমেরিকা। বিমান, সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়বে আমেরিকা থেকে। পুরানো বিশ্বস্ত বন্ধু দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতের নির্ভরতা বাড়বে অনির্ভরযোগ্য আমেরিকার উপর।
Trump Modi
ট্রাম্পের জালে মোদী
×
Comments :0