Walk for Books in Coochbehar

বুকস্টলে হামলার প্রতিবাদে কোচবিহার শহরে বইয়ের জন্য হাঁটলেন অগণিত মানুষ

জেলা

কোচবিহার শহরে বই হাতে হাঁটছেন বইপ্রেমী মানুষেরা।

শারদোৎসবে একের পর এক বুক স্টলে হামলা। বুক স্টল ভাঙতে নামানো হয় বুলডোজার। বই ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া, বইয়ের ওপর পা দিয়ে  মাড়িয়ে যাওয়ার ছবিও দেখা যায় রাজ্যের বিভিন্ন অংশে। বামপন্থীদের বুকষ্টলের ওপর আক্রমণ হয় কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও। বইয়ের ওপর আক্রমণ মানে চিন্তাশক্তির ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা। আসলে প্রশ্নকে যারা ভয় পায়, তারাই বই ছিঁড়ে ফেলে। তাই বইয়ের ওপর এই আক্রমণের প্রতিবাদে শনিবার কোচবিহার শহরে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বই হাতে হাঁটলেন সমাজের বিভিন্ন অংশের বইপ্রেমী মানুষেরা। এদিন কোচবিহার জেলা সংশোধনাগার সংলগ্ন বিদ্যাসাগর মূর্তির সামনে থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে শেষ হয় কোচবিহার সাগরদিঘি সংলগ্ন ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে।
বই হাতে এদিন পায়ে পা মেলান লেখক, কবি, শিল্পী, অভিনেতা, শিক্ষক, ছাত্র আইনজীবী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
এদিনের এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জনগণের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্ক বা মগজ। আর এই মগজকে পুষ্ট করার ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় হাতিয়ার হচ্ছে বই। সমাজের বিকাশ এবং সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামের ক্ষেত্রে তাই বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার অস্ত্র বই। তাই বরাবরই এই বইকেই ভয় পেয়ে আসছে স্বৈরাচারী শাসকেরা। সাম্রাজ্যবাদ গোটা বিশ্বকে করায়ত্ব করতে চাইছে এবং তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষ দেশে দেশে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য হচ্ছে, দেশ দখল করো  এবং দেশ দখল করার আগে মানুষের মগজ দখল করো। এই সাম্রাজ্যবাদীদের দেখানো পথেই হাঁটছে দেশ ও রাজ্যের শাসকগোষ্ঠী। তাদের বিরুদ্ধে তাই বই হাতে এই প্রতিবাদ।

Comments :0

Login to leave a comment