ভাস্কর দাশগুপ্ত: পুরুলিয়া
যন্ত্রণায় ভরা জীবনে মানুষ লাল ঝাণ্ডা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন। আর সেটাই ভয় পাচ্ছে বিজেপি। গত ১২ বছরে সারা দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সমস্ত সরকারি সম্পদ আদানি আম্বানিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সামনে কঠিন লড়াই। সে লড়াইয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এই আহ্বান জানিয়ে রবিবার রেল শহর আদ্রায় অনুষ্ঠিত হলো রেলওয়ে কন্ট্রাক্টরস লেবার ইউনিয়নের একাদশতম রাজ্য সম্মেলন। এদিন হয়েছে সমাবেশও। রেলের ঠিকা শ্রমিকদের বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেড় শতাধিক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিআইটিইউ রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন বিদায়ী সম্পাদক শিহরণ আচার্য। প্রতিবেদনের ওপর মোট বারো জন প্রতিনিধি আলোচনা করেন। সম্মেলন মঞ্চ থেকে আভাস রায় চৌধুরীকে সভাপতি, শিহরণ আচার্যকে সম্পাদক করে ৫৮ জনের রাজ্য কমিটি এবং ২৯ জনের কর্মকর্তা নির্বাচিত করা হয়। সম্মেলন শেষে আদ্রা বাসস্ট্যান্ডে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন মীনাক্ষী মুখার্জি, আভাস রায় চৌধুরী, শিহরণ আচার্য, প্রদীপ রায় প্রমুখ।
প্রকাশ্য সমাবেশে মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, আদ্রা মানে বাসুদেব আচারিয়া। আর বাসুদেব আচারিয়া মানে লাল ঝান্ডা। রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় যারা আছে তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা রাতের অন্ধকারে যতই লাল ঝান্ডা খুলে দিক মানুষের মন থেকে কোনোদিন তা সরাতে পারবে না।
মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, রেলে স্থায়ী পদে সমস্ত নিয়োগ বন্ধ। ঠিক কর্মীদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। রেলের ঠিকা কর্মীরা হলেন আমাদের সম্পদ। তাদের সঠিক বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এই সমস্ত ঠিকা শ্রমিকদের কাজের কোনও নির্ধারিত সময় নেই।
তিনি বলেন, সারা দেশের ৯০ হাজার স্কুল এবং রাজ্যের আট হাজার স্কুল যারা বন্ধ করেছে তারাই রেলকে বিক্রি করছে। গরু চোর, চাল চোর, কয়লা চোরদের ভালো তৃণমূল আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। যারা মইদুলকে মেরেছে, যারা আর জি কর হাসপাতালে অভয়াকে নিষ্ঠুর ভাবে খুন করেছে, যারা আনিস খানকে মেরেছে তারা ভালো হতে পারে না।
আভাস রায় চৌধুরী বলেন, এদেশে মাটির উপরে, মাটির নিচে সম্পদ রয়েছে। আছে মানবসম্পদ। সব সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে আদানি-আম্বানিদের হাতে। মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই রাজ্যে ১৫ বছর ধরে যারা লুট করেছে তারাই এখন ক্ষমতার স্রোতে গা ভাসাতে চাইছে।
আভাস রায়চৌধুরী বলেন, লড়াই আন্দোলন বাদ দিয়ে কিছু হবে না। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। যন্ত্রণায় ভরা জীবন নিয়ে মানুষ প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াচ্ছে। যা বর্তমান শাসকের ঘুম ছুটিয়েছে।
শিহরণ আচার্য বলেন, অমৃত ভারত উৎসব মানে রেলের উন্নতি। সব উন্নতির পিছনে কিন্তু শ্রমিক শ্রেণির অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু রেলের ক্ষেত্রে যত দিন যাচ্ছে স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। ঠিকা শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সমস্ত ঠিকা শ্রমিকদের কম পয়সায় কাজ করিয়ে শোষণ করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রেলে কাজ করতে করতে মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইন আছে। এখন রেল তা মানছে না।
বক্তব্য রাখেন গণ আন্দোলনের নেতা প্রদীপ রায়ও।
Comments :0