কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জন্য একটি নতুন বিল পেশ করতে চলেছেন। রাজ্যসভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এই আইনের মাধ্যমে সিএপিএফ অফিসারদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বর্তমানে সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), আইটিবিপি (ITBP) এবং এসএসবি (SSB)-র মতো বাহিনীগুলি তাদের নিজস্ব আলাদা আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। নতুন এই বিলের মাধ্যমে সব বাহিনীকে একটি ছাতার তলায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী।সিএপিএফ-এ ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS) অফিসারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে, ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) পদের ৫০ শতাংশ এবং অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) পদের ন্যূনতম ৬৭ শতাংশ ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
স্পেশাল ডিরেক্টর জেনারেল (SDG) এবং ডিরেক্টর জেনারেল (DG) পদগুলি সম্পূর্ণভাবে (১০০%) কেবল ডেপুটেশনের মাধ্যমেই পূরণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরিপেক্ষিতেই কেন্দ্রের এই প্রস্তাবিত আইনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর (২০২৫ সালের মে মাসে) সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে সিএপিএফ-এ আইপিএস অফিসারদের ডেপুটেশন ধাপে ধাপে কমাতে হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে একটি ক্যাডার রিভিউ করতে হবে। কেন্দ্র এই রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানালে গত অক্টোবরে শীর্ষ আদালত তা খারিজ করে দেয়।
নতুন প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, অন্য কোনও আইন বা আদালতের কোনও রায় বা নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকার সিএপিএফ অফিসারদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং ডেপুটেশনের পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবে।
বিলেজানানো হয়েছে যে, সময়ের সাথে সাথে এই বাহিনীগুলির কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে। একটি সার্বিক আইনের অভাবে পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মামলার সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রশাসনিক এবং কার্যক্ষমতায় জটিলতা তৈরি করছে।
কেন্দ্রের মতে, সংবিধানের ৩১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইপিএস একটি সর্বভারতীয় পরিষেবা। জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ কার্যক্রমে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সুসমন্বয় বজায় রাখার স্বার্থে সিএপিএফ-এ আইপিএস অফিসারদের ডেপুটেশন ব্যবস্থা বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ইতিমধ্যে, সুপ্রিম কোর্টে অক্টোবর মাসের নির্দেশ কার্যকর না করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিএপিএফ অফিসারদের একটি সংগঠন।
শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতিতে তারা জানান, ‘প্রস্তাবিত এই বিলটি বাহিনীর কমান্ড কাঠামো এবং নেতৃত্বের সুযোগকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীর মনোবল এবং অপারেশনাল কার্যকারিতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, উচ্চপদে আইপিএস অফিসারদের সরাসরি নিয়োগের ফলে সিএপিএফ-এর নিজস্ব ক্যাডার অফিসাররা সময়মতো পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই স্থবিরতা বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। তাই বাহিনীর প্রশাসনিক কাঠামোতে নিজস্ব অফিসারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ডেপুটেশন কোটা কমানোর পক্ষে রায় দিয়েছিল আদালত।
Central Armed Police force bill
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত নতুন আইন রাজ্যসভায় পেশ করবেন অমিত শাহ
×
Comments :0