‘‘বাংলার পুনর্জাগরনের জন্য বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। বাংলা বাঁচাও যাত্রা আসলে নতুন বাংলা গড়ার শপথ। এই যাত্রায় বিভিন্ন অংশের মানুষের সাথে কথা হবে। তাদের সমস্যার কথা জানা হবে। আমাদের লড়াইয়ের নতুন রসদ জোগাড় হবে এই যাত্রা থেকে।’’ তুফানগঞ্জে বললেন, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বাংলা বাঁচাও যাত্রা শুরু সমাবেশে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘‘এর আগে কোচবিহার থেকে কলকাতা আমরা পদযাত্রা করেছি। প্রচারে ঝড় তোলার জন্য তুফানগঞ্জ থেকে এই যাত্রা আমরা শুরু করছি। গতকাল পঞ্চান্ন বর্মা আব্বাস উদ্দিনকে আমরা স্মরণ করেছি। অনেকে কটাক্ষ করে বলছে বাংলা কি মরে গিয়েছে? আমরা এই বাংলাকে তিল তিল করে গড়েছি। আজ বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি, কৃষি ধ্বংসের মুখে। তাই তাকে বাঁচানোর জন্য আমরা পথে নেমেছি। আমাদের প্রথম দাবি ভোটাধিকার রক্ষা। নির্বাচন কমিশন সবার পূর্বপুরুষের তথ্য চাইছে। বিজেপি তৃণমূল বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা নিয়ে বিভাজন শুরু করেছে। মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। আমরা মানুষকে সেই ভয় থেকে বাঁচাতে পথে নেমেছি।’’
‘জল জমি জঙ্গল লুঠ হচ্ছে রাজ্যে। উত্তরবঙ্গকে লুঠের কারবারে পরিনত করা হয়েছে। যখন এই বিপর্যয় হয় তখন রেড ভলেন্টিয়াররা নেমেছিল প্রথম।’
সেলিম বলেন, ‘যারা লুঠ করছে তারা মানুষকে ভাগ করছে। যত ভোট আসবে তত মন্দির মসজিদ শোনা যাবে। আমরা বলি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ধর্মের সাথে রাজনীতিকে মেশানো উচিত নয় বলেছিলেন জ্যোতি বসু। মমতা বিজেপিকে এই রাজ্যে নিয়ে এসেছিল। আরএসএস বলেছিল বাংলা থেকে মমতাই পারবে লাল ঝান্ডাকে হারাতে। আরএসএস মমতাকে দূর্গা সাজিয়েছিল। স্লোগান উঠেছিল লাল হাটাও দেশ বাঁচাও, কিন্তু দেশ বাঁচানি। দেশ বাঁচাতে লাল ঝান্ডাকে শক্তিশালি করতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে বাংলাকে বাঁচাতে হবে। এই বাংলা স্বাধীনতার আগে পরে দেশকে রাস্তা দেখিয়েছে। এখন মমতার আমলে রাজ্য পিছিয়ে যাচ্ছে। মমতা মধ্যপ্রদেশে বিজেপির চুরি দেখে এখানে চুরি করছে। ইডি সিবিআই কিছু করছে না।’
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চেয়েছিল রাজ্যে শিল্পায়ন, তখন বিজেপি তৃণমূল, শুভেন্দু মমতা মাওবাদী এক হয়ে তাঁর গায়ে কালি ছেটানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সেই স্বপ্ন আমাদের সত্যি করতে হবে। এই রাজ্যকে আমাদের বাঁচাতে হবে। গোটা দেশে স্কুল, কলেজ বন্ধ হচ্ছে আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যকে বাঁচাতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘মানুষ যখন ভয় পায় তখন আমাদের সব সম্পদ, ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ এই সব লুঠ করার ব্যবস্থা করা হয়। সেই লুঠ আটকাতে হবে। নবান্ন হোক ছাপ্পান্ন মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। আমাদের ক্লাব, পঞ্চায়েতে গনতন্ত্র লুঠ করা হয়েছে। দেশেও লুঠ চলছে। ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করা হচ্ছে। বিজেপি তৃণমূল চায় না গরীব মানুষের অধিকার। তারা অধিকার কেড়ে নিতে চায়।’’
সেলিমের কথায়, বামপন্থীরা জমির দাবিতে, শ্রম কোডের বিরুদ্ধে, মজুরির দাবিতে লড়াই করে। আর মোদী - মমতা শ্মশান, করবস্থান নিয়ে কথা বলে ভোটের সময়। ওরা ধর্মের রাজনীতি, লাশের রাজনীতি করে।
সেলিম বলেন, ‘‘আমরা বলি যেই শিশু জন্মাচ্ছে তার জন্য ওষুধ দরকার, বড় হয়ে চলার জন্য রাস্তা দরকার। লেখা পড়া করার জন্য স্কুল দরকার, অফিস দরকার, সামাজিক নিরাপত্তা দরকার। দক্ষিণপন্থীরা এই সব অধিকার কেড়ে নেয়। এরা চাল চুরি করে, হাসপাতালে জ্বালিয়াতি করে। স্কুল কলেজ হাসপাতাল গুলোকে শেষ করে দিয়েছে।’’
সিপিআই(এম) এর বাংলা বাঁচাও যাত্রায় যেমন কর্মসংস্থানের দাবি তোলা হয়েছে তেমন ভাবে পরিযায়ী শ্রমিক, গিগ কর্মী, আশা কর্মী, বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের দাবিও তোলা হয়েছে। তোলা হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বাঁচানোর দাবি, পরিবেশ রক্ষার দাবিও তোলা হয়েছে সিপিআই(এম)’এর পক্ষ থেকে। দেশ এবং রাজ্য জুড়ে মহিলাদের ওপর যেই নির্যাতন চলছে তার বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে বাংলা বাঁচাও যাত্রা থেকে।
সেলিম বলেন, ‘‘মোদী - মমতা বলছে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু পরিসংখ্যা বলছে প্রশুতি মায়েদের মধ্যে রক্তালপোঁতা বাড়ছে।’’
SALIM BANGLA BACHAO
বাংলা বাঁচাও যাত্রা আসলে নতুন বাংলা গড়ার শপথ : সেলিম
×
Comments :0