Election 2026 Suri

প্রচারে সিউড়ি বিধানসভার বাম প্রার্থী

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

প্রার্থীর অপেক্ষায় শনিবার সময়ের আগেই তড়িঘড়ি ঘুম ভেঙে গ্রামের মানুষ মিলিত হয়েছিল কলতলায়। প্রার্থী পৌঁছাতেই সমবেত স্লোগানে সাতসকালেই মুখরিত হয়েছে গ্রাম। বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের এই আদিবাসী তল্লাটটি রাজনগর ব্লকের অধীন। শত আক্রমণের মুখেও সিউড়ি বিধানসভার এই হতদরিদ্র জনপদআজও জেদে অটুট। গাঁয়ের ভরসা ‘মাঝি হারাম’ পানশ্বর হেমব্রম। লাল ঝান্ডার প্রতীকে জেতা গোটা এলাকার একমাত্র পঞ্চায়েত সদস্য। পানশ্বর জড়ো করেছিলেন সবাইকে। সিপিআই(এম) প্রার্থী মতিউর রহমানকে নিয়ে গ্রাম ঘোরার লক্ষ্যে। নতুনগ্রাম, মাচানতলি, করঞ্জাবনি, বেলবুনি মিলে একটাই সংসদ। যে সংসদ শত হামলা রুখে জিতিয়েছে গাঁয়ের মোড়ল পানশ্বরকে। প্রতি পদ পদে দুর্দশার ছাপ। সেই দুর্দশায় পানশ্বরের সাথে ফারাক নেই গ্রামের অন্যান্যদের। বেলবুনির বাবুসিং হেমরমের কথায়: আমাদের অভাব চরম। পেটের ভাত জোটাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে আমাদের মেম্বারের অবস্থাও একইরকম। তাই তো আমাদের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। 
পানশ্বরের নিজের দুই ছেলে পরিযায়ী শ্রমিক। গোটা পরিবার নিয়ে ভিন রাজ্যে লড়ে যাচ্ছে ‘সমৃদ্ধি’র আশায়, স্রেফ দিনমজুরি করে। আর তাঁদের বাবা পানশ্বর গাঁয়ে লড়ছেন মানুষের লড়াই। এলাকা বিশেষভাবে পরিচিত শহীদ নন্দলাল মিস্ত্রির রক্তে ভেজা গ্রামপথ হিসাবে। ২০০৯ সালে এলাকার জননেতাকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল তৃণমূল-মাওবাদীরা। সেই রক্তের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে এই সংসদ। যে সংসদের ভোট লুটের চেষ্টা হয়েছে মরিয়াভাবে। বারবার রুখে দিয়েছে গ্রাম। তীরধনুক হাতে সামনে থেকেছে পানশ্বর। আজও প্রত্যয়ী পানশ্বরের কথায়, ‘এখনও ৩০০ মিটার তীর ছুঁড়তে পারি। আমাদের ভোট লুটতে এলে এক পাও পিছাবো না।’ 
তল্লাটের চাহিদা একটাই , ‘কাজ চাই’। গোটা গ্রাম ঘুরে একটাও আবাস যোজনার বাড়ির দেখা মিলবে না। গ্রামে পানীয় জল নিয়ে কষ্টের অন্ত নেই।  লাল ঝান্ডার প্রার্থীকে পেয়ে এই গ্রামেরই সন্ন্যাসী হাঁসদার আকুতি, আমাদের কিছু চাই না, খাটতে চাই। চাই খাটার জায়গা।

Comments :0

Login to leave a comment