প্রকাশিত হচ্ছে অতিরিক্ত তালিকা। অথচ নির্বাচন কমিশনের স্পষ্টীকরণ নেই। তৃতীয় তালিকায় কত নাম অন্তর্ভুক্ত, কত বাদ সে সংক্রান্ত তথ্য রবিবার দুপুর পর্যন্ত নেই। কমিশন সরাসরি জানানোর বদলে ‘সূত্রের মারফত’ তথ্য প্রকাশ করছে। এর আগে বিবেচনাধীন নাম বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য ১৯টি আপিল ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে।
ভোটার তালিকায় চরম অস্পষ্টতা রেখে স্বচ্ছ ভোট কি ক’রে হবে সে প্রশ্ন চারদিকে। সিপিআই(এম) সোম ও মঙ্গলবার প্রতিটি বিধানসভায় বিক্ষোভ-অবস্থানে নামছে। নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সব অংশকে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসকের দপ্তর এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে।
এর আগে ২০ মার্চ নির্দেশিকা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ নামের শুনানির জন্য ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করেন। ১৯টি আপিল ট্রাইবুনাল কোন প্রাক্তন বিচারপতিদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে তার তালিকা কমিশন প্রকাশ করে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সুপারিশ অনুযায়ী।
তালিকা অনুযায়ী কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা বিধানসভা ভিত্তিক ট্রাইবুনালের প্রধান কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। উত্তর ২৪ পরগনার অপর ট্রাইবুনালের প্রধান প্রাক্তন বিচারপতি প্রদীপ্ত রায়। পূর্ব মেদিনীপুরে প্রাক্তন বিচারপতি তপেন সেন, কোচবিহারে প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমার দেব, পূর্ব বর্ধমানে প্রাক্তন বিচারপতি প্রভাত কুমার দে, নদীয়ায় প্রাক্তন বিচারপতি রঘুনাথ রায়, হাওড়ায় প্রাক্তন বিচারপতি অশোক কুমার দাস অধিকারী। দার্জিলিঙ, কালিম্পঙ, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার জন্য একটিই ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে প্রাক্তন বিচারপতি দীপ সাহারায়ের নেতৃত্বে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের আপিল ট্রাইবুনালের প্রধান প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রাক্তন বিচারপতি তৌফিকউদ্দিন। মুর্শিদাবাদে প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চ্যাটার্জি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগ। হুগলী জেলার আপিল ট্রাইবুনালের প্রধান প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার জন্য প্রাক্তন বিচারপতি মহম্মদ মুমতাজ খান, পশ্চিম বর্ধমান প্রাক্তন বিচারপতি মীর দারা শেকো, উত্তর দিনাজপুরে প্রাক্তন বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে, মুর্শিদাবাদে প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, বীরভূমে প্রাক্তন বিচারপতি মনজিৎ মণ্ডল, মালদহে প্রাক্তন বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিবেচনাধীন রেখে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। জানানো হয় যে অতিরিক্ত তালিকা ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। প্রথম পর্বের ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল। দ্বিতীয় পর্বে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৯ এপ্রিল। তার আগে বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। কিন্তু অতিরিক্ত তালিকা নিয়েই প্রবল ধোঁয়াশা রয়েছে রবিবারও।
শনিবার রাতে তৃতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। তার আগে শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় গত সোমবার, ২৩ মার্চ মধ্যরাতে।
তালিকা সংক্রান্ত তথ্য দিতে আরও দেরি করে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে যে প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকায় যথাক্রমে ১০ লক্ষ এবং ১২ লক্ষ নাম প্রকাশিত হয়েছে। এই দুই তালিকায় প্রকাশিত মোট নাম ২২ লক্ষ। কমিশন তখন দাবি করে যে ৩৭ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, নাম তালিকায় থাকবে না বাদ যাবে ঠিক হয়েছে। এই কাজে বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। তা’হলে তালিকায় ১৫ লক্ষ নাম বাদ গেল কেন তার নির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
তৃতীয় তালিকা সংক্রান্ত তথ্যও স্পষ্ট করেনি কমিশন। কত নাম তালিকায় রয়েছে জানানো হয়নি।
এদিকে অস্বচ্ছ তালিকায় কিভাবে স্বচ্ছ ভোট হবে সে প্রশ্ন রয়েছে রাজ্যের সর্বত্র। সোম এবং মঙ্গলবার ভোটাধিকার রক্ষায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিপিআই(এম)।
third list sir
তৃতীয় অতিরিক্ত তালিকা ঘিরেও অস্পষ্টতা, কাল থেকে বিক্ষোভ সিপিআই(এম)’র
×
Comments :0