Md Salim on Election

বাইনারি ভাঙতে চাইছেন রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষ: সেলিম

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

রানিনগরে বামফ্রন্ট প্রার্থী জামাল হোসেনের প্রচারে মহম্মদ সেলিম, জামির মোল্লা।

রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষই চাইছে তৃণমূল এবং বিজেপির বাইনারি ভাঙতে। চাইছেন অপদার্থ দুর্নীতিবাজ এবং দাঙ্গাবাজদের হটাতে। তৃণমূল এবং বিজেপি-আরএসএস সম্প্রীতির আবহাওয়াকে দূষিত করছে। তাদের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করছেন। মানুষের ভরসার জায়গা বাম শক্তি তৈরি করতে পেরেছে। 


রবিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি জানিয়েছেন যে বাম এবং সহযোগী শক্তি ২৯৪টি বিধানসভা আসনেই লড়াই করছে। 
এদিনই রাজ্য বামফ্রন্ট আরও ৭ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। পাঁচটি প্রার্থী তালিকায় মোট ২৫৩ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বামফ্রন্ট।
সেলিম বলেছেন, বিকল্প ভাবনা নিয়ে শিক্ষা স্বাস্থ্য, ভাঙন রোধ, কর্মসংস্থান, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম, বেকার ছেলেমেয়েদের হাতে কাজের জন্যই বামপন্থীরা লড়াই করছে। বিকল্প সরকার তৈরি করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
রামনবমীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এই জেলারই রঘুনাথগঞ্জে গোষ্ঠী সংঘর্ষ করানো হয়েছে। তার তীব্র নিন্দা করেছেন সেলিম। সেই সঙ্গে সংঘর্ষকে থামাতে সাধারণ মানুষের ভূমিকাকে অভিনন্দন জানান তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। সেলিম বলেন যে ধর্ম এবং এলাকার ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বাইনারিকে উসকে দিচ্ছে। 
সেলিম বলেন, বাইনারিকে ফিরিয়ে আনার জন্য রামনবমীকে কেন্দ্র করে রঘুনাথগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করা হলো। কিন্তু সমশেরগঞ্জে সম্ভব হয়েছিল তা কিন্তু রঘুনাথগঞ্জে সম্ভব হলো না। দোকান ভাঙলো পুড়লো সম্পত্তি নষ্ট হলো ধ্বংস হলো। একেবারে ওয়াকি টকি নিয়ে পরিচিত আরএসএস-বিজেপি কর্মীরা, গুজরাটের কায়দায় ম্যাপিংকরে নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আর পুলিশ সেখানে নিশ্চুপ ছিল, প্রশাসন চুপ। মুখ্যমন্ত্রী হোন বা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন বা আধিকারিক স্তরে রদবদল আসলে নাটক। 
তিনি বলেন, রঘুনাথগঞ্জের ঘটনায় সব অপরাধীর গ্রেপ্তারি চাইছি। সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের এবং মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আর মানুষ যেভাবে এই দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনাকে আটকে দিলেন তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। 
সেলিম বলেন, মুর্শিদাবাদ ও মালদার মানুষ দাঙ্গাবাজদের প্রশ্রয়দাতা দুই শক্তিকে শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। মানুষের রুটি-রুজি, কাজ-কারবার, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভোটাধিকার, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের অধিকার, রাস্তাঘাট নদী-নালা বিল রক্ষার অধিকার, ফসলের দামের অধিকারের জন্য মানুষ লড়াই করতে প্রস্তুত হচ্ছেন। একশ দিনের কাজ ফিরে পাওয়া, পরিযায়ীদের ঘরে ফিরে কাজ পাওয়ার অধিকারের জন্যই তাঁরা লড়াই করবেন। এই লড়াই বামপন্থীরা করছেন। 
সেলিম বলেন, হিন্দুর বিরুদ্ধে মুসলমান বা মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুকে যারা লড়িয়ে দেবে ভেবেছিল তাদের সেই ভাবনা মানুষ ভেস্তে দিয়েছেন। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিপিআই(এম) মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লাও।

Comments :0

Login to leave a comment