নতুনপাতা
মণ্ডা মিঠাই
বিশ্ব ওজোন দিবস
পুর্বায়ন ময়রা
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
আমাদের চারপাশে এমন কত জিনিস বর্তমান যা সম্পর্কে সাধারণত আমাদের মনেই পড়ে না। কিন্তু সেই জিনিসগুলি না থাকলে আমাদের একদিনও চলে না। এই প্রকৃতির অনন্ত মায়া লোকে এমন অনেক অদৃশ্য রক্ষাকর্তা আছে যাদের উপস্থিতির কারণেই ধরিত্রীমাতার বক্ষে প্রাণের স্পন্দন সম্ভবপর হয়েছে। পৃথিবীর প্রাণী এবং উদ্ভিদ কূলের এমনই এক অদৃশ্য রক্ষা কর্তা হলো ওজন স্তর (O3)। যার মধ্যে থাকে জীবন দানকারী ধনাত্মক শক্তি অনেক সময় তার মধ্যেই কোথাও না কোথাও লুকায়িত থাকে জীবন বিনষ্টকারি ঋণাত্মক শক্তি, সূর্যরশ্মি তার ব্যতিক্রম নয়। সূর্য পৃথিবীর সকল শক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উৎস। আবার এই সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর অতিরিক্ত সংস্পর্শ আমাদের ত্বক, চোখ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষতি করে। ওজোন স্তর এই সকল বিপদের হাত থেকে আমাদের সর্বদা রক্ষা করে চলেছে নিরবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের বিভিন্ন অসচেতনতামূলক কাজের ফলস্বরূপ ক্রোমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে আমাদের অদৃশ্য রক্ষাকর্তা ওজন স্তর। শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ইত্যাদি থেকে নির্গত হওয়া ক্লোরোফ্লোরোকার্বন এবং সিএফসি গ্যাসগুলি স্ট্যাটোস্ফিয়ার স্তরে পৌঁছে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ভেঙে চায় এবং ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত করে। কেবলমাত্র একটি ক্লোরিন পরমাণু হাজার হাজার ওজন অনুকে ভেঙে সাধারণ অক্সিজেনে পরিণত করতে সক্ষম। এভাবেই ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে ওজোন স্তর। তার মধ্যে আবার আন্টার্কটিকা অঞ্চলের আকাশে দেখা গিয়েছিল ওজন গহবর।এবার প্রশ্ন হল ওজন কম বর আসলে কি? কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব ২০০ ডবসন এর নিচে নেমে গেলে সেই স্থানটিকে ওজন গহ্বর বলে চিহ্নিত করা হয়। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ওজোন গ্যাসের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছুটা ধারণা তৈরি হয়েছে তোমাদের। এই সচেতনতা তৈরীর জন্যই প্রতিবছর ১৬ই সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজন দিবস পালন করা হয়। এবার নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন জাগছে ঠিক কবে থেকে আর কিভাবেই বা এই দিনটি পালন করার সূত্রপাত ঘটেছিল? এবার সেই বিষয়েই আলোকপাত করবো। ১৯৮৭ সালের ১৬ ই সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে ওজোন স্তর ধ্বংসকারী পদার্থের ওপর মন্ট্রিল প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়। এ ছিল প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার এক অমূল্য স্মারক। পরবর্তী সময় জাতিপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কে ওজোন স্তর সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। আর সেই থেকেই প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এই তিনটি পালন হয়ে আসছে। পরিশেষে বলতে চাই প্রকৃতিকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে। প্রকৃতির ক্ষতি সাধন হলে মানব সভ্যতাও বিপন্ন হয়ে পড়বে। আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে এই প্রকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে ধার করা। আর ধার করা জিনিসের যত্ন না করলে তো মহা মুশকিল। আমাদের এই প্রকৃতিকে এক সুন্দর অবস্থায় রেখে যেতে হবে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্তত আমাদের কারনে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হয়। এবার হয়তো মনে হবে আমরা সামান্য মানুষ। আমাদের আর কতটুকুই বা ক্ষমতা। পরিবেশ রক্ষার দায় কেবলমাত্র প্রশাসন এবং বিজ্ঞানী মহলের। এমনটা কিন্তু মোটেই নয়। পরিবেশ রক্ষার দায়ভার এদের ওপর থাকলেও, আমাদের দায়িত্ব আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। আমাদের ছোটো ছোটো প্রচেষ্টা, সচেতনতা এবং পদক্ষেপ অনেক কিছু করতে সক্ষম।
দ্বাদশ শ্রেণী
কল্যাণ নগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ উত্তর ২৪ পরগনা
কল্যাণ নগর,খড়দহ
Comments :0